শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

অনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনের নিরবতা : সদস্য প্রার্থী খাইরুল আমিনের নির্বাচন বর্জন

নিজস্ব প্রতিনিধি; কক্সভিউ :

কক্সবাজার জেলা পরিষদের ১৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী এডভোকেট খাইরুল আমিন ২৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন বর্জন করেছেন। ১৪নং ওয়াডের্র প্রতিপক্ষ সদস্য প্রার্থী হুমায়ন কবির চৌধুরীর পক্ষে স্থানীয় এমপি আবদুর রহমানের অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের অব্যাহত হুমকি এবং প্রশাসনের নিরবতার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- এমপির প্রভাব বিস্তার, ভোটারদের প্রতি হুমকির কারনে ১৪ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে গত ২৬ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসারের নিকট জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েনের দাবি জানানো হয়। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার এই দাবির প্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় নির্বাচন বর্জন করেছি।’

আগে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের নিকট দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা পরিষদের ১৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী হুমায়ন কবির চৌধুরীর আপন ভগ্নিপতি উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য। রাজা পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তার আপন ভাই, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার আপন চাচা, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তার আপন ছোট ভাই। তারা হুমায়ুন কবির চৌধুরীকে জেতাতে নানা ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব বিস্তার করছেন।

নির্বাচন আচরণ বিধি লংঘন করে স্থানীয় সাংসদ স্থানীয় গত ২৩ ডিসেম্বর ১৪ নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম পাঁচ তারকা হোটেল সী-পার্ল এর রয়েল টিউলিপে মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হুমায়ুন কবির চৌধুরীর তালা মার্কায় ভোট প্রয়োগে চাপ সৃষ্টি করেন।

গত ১০ ডিসেম্বর  উখিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারদের মাঝে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা প্রকল্প বরাদ্দ দেয়ার সময় হুমায়ুন কবির চৌধুরীর জন্য ভোট দাবী করেছেন। হুমায়ুন কবিরের পোলিং এজেন্টকে দেখিয়ে তার প্রতীক ‘তালা’ মার্কায় সীল মারার নির্দেশ দেন। যা নির্বাচন আচরণ বিধি লংঘন হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় ১৯ ডিসেম্বর হলদিয়া পালং এর চেয়ারম্যানের বাড়িতে, ২০ ডিসেম্বর রাজা পালং চেয়ারম্যানের বাড়িতে, ২১ ডিসেম্বর পালংখালী চেয়ারম্যানের বাড়িতে এবং ২২ ডিসেম্বর রত্নাপালং চেয়ারম্যানের বাড়িতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ১২ জন মেম্বার ও মহিলা মেম্বারকে ডেকে সাংসদের দোহাই দিয়ে গোপনে ভোট না দিয়ে প্রকাশ্যে হুমায়ুন কবিরের তালা মার্কায় সীল মারার জন্য বলে। প্রকাশ্যে তালা মার্কায় ভোট দিতে না পারলে ভোট কেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেয়া হয়। এরপরও কোন ভোটার তালা মার্কায় ভোট না দিলে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং মারধরের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে ভোটাররা আতংকিত ও শংকিত হয়েছেন।

এমতাবস্থায় ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং গোপনে ভোট দেয়ার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব অথবা বিজিবি মোতায়েনের দাবি জানান ১৪ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী এডভোকেট মো: খাইরুল আমিন (টিউবওয়েল)।

কিন্তু রিটার্নিং অফিসার এর কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি নির্বাচন বর্জন করেছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বি অভিযুক্ত প্রার্থী হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন- ‘খাইরুল আমিনের অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। নির্বাচনে আমার আত্মীয়-স্বজন আমার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা করবেন এটা স্বাভাবিক। এটাকে ভিন্নখাতে নিয়ে গিয়ে মিথ্যাচার করছেন খাইরুল আমিন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করছেন তিনি। ভোটাররা সবাই জনপ্রতিনিধি। তাদের চাপ দেয়া বা প্রভাবিত করা সম্ভব না। এমপি বদিকে নিয়ে যা বলছেন তা সত্য নয়। হয়তো নির্বাচনে জয়ী হবেননা ভেবে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।’

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com