Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / অসম্পূর্ণ রোহিংগা শুমারি : জেলায় ৩৭ হাজার পরিবারে প্রায় দু’লাখ রোহিঙ্গা সনাক্ত

অসম্পূর্ণ রোহিংগা শুমারি : জেলায় ৩৭ হাজার পরিবারে প্রায় দু’লাখ রোহিঙ্গা সনাক্ত

Rohinga -a

এম.বেদারুল আলম; কক্সভিউ :

কক্সবাজার জেলায় সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা শুমারীতে ৩৭ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার সনাক্ত করেছে জেলা পরিসংখ্যান অফিস যা দেশের জন্য দীর্ঘদিন যাবত্ অনেকটা ‘বোঝা’ হিসাবে পরিগণিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বাংলাদেশে অবস্থানরত অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিক শুমারী গত ২ জুন থেকে ১৪ জুন (১২ দিন) শুমারী শেষ করেছে। জেলা ৫০টি জোনে ৮৮৭ টি টিমের ১৭৭৪ জন গণনাকারি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের সনাক্ত করণে কাজ করেছে। গত ফেব্রুয়ারীতে শুরু হওয়া ‘খানা’ গণনা জরীপে ৩৭ হাজার পরিবার সনাক্ত হলেও কতজন রোহিঙ্গা অদ্যাবধি অন্তর্ভূক্ত হয়েছে সে বিষয়ে কোন তথ্য দিতে নারাজ জেলা পরিসংখ্যান অফিেসে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

তবে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে জেলায় ৩৭ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে শুমারীতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সনাক্ত করা যায়নি মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে। সূত্রে প্রকাশ জেলার ৩৫ হাজার রোহিঙ্গার বসবাস কুতুপালং অনিবন্ধিত ক্যাম্পে এবং ১৭ হাজার অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার বসবাস হ্নীলা লেদা ক্যাম্পে বসবাস করে আসছে ২০০৮ সাল থেকে। টেকনাফের নয়াপাড়া ও কুতুপালং ক্যাম্পে ছাড়াও সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গার বসবাস কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে। শুমারীতে ১০ হাজার পরিবারে প্রায় ৫০ হাজার অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসবাস করছে বলে শুমারীতে উঠে এসেছে। এছাড়া সদরের ১০ ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা থাকলেও শুমারীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে দুই তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হতে পারেনি।

এদিকে সদরের মোট নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ও খানার তথ্য বিষয়ে সদর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো: মুমেন খাঁনের কাছে জানতে চাইলে তিনি উপরের নির্দেশ ছাড়া তথ্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা শুমারীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান সহকারি নজরুল ইসলামের কাছে জেলায় নিবন্ধিত রোহিঙ্গার পরিসংখ্যান জানতে চাইলে তিনি উপরের নির্দেশে তথ্য দিতে মানা বলে এড়িয়ে যান।

অপরদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিক শুমারীতে দায়িত্ব প্রাপ্ত গণনাকারীদের স্বচ্ছতা আচরণ নিয়ে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে শহরের বড় দালান সমূহে নানাভাবে রোহিঙ্গারা বসবাস করলেও অনেক ভাড়াটিয়া রোহিঙ্গা শুমারীতে অন্তর্ভূক্তকরণ থেকে বাদ পড়েছে। অনেক গণনাকারী শুধুমাত্র দরিদ্র অসহায়দের কাছে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করলেও যারা প্রতিষ্ঠিত ও আত্মীয়তার সূত্র ধরে স্বনামে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে তাদের কাছে গণনাকারীরা পৌঁছেনি। ফলে অনেক রোহিঙ্গা বাদ পড়েছে অবহেলা ও উদাসিনতায়। এমতাবস্থায় সরকারের বৃহত্ কার্যক্রম অনেকটা হযবরল অবস্থায় শেষ হয়েছে। যার ফলে জেলাবাসীর উপর দীর্ঘদিনের প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাদের ‘বোঝা’ মাথা থেকে কোন মতেই নামানো যাচ্ছেনা। ফলে রোহিঙ্গা অভিশাপ আরো দীর্ঘতর হওয়া আশংকা রয়েছে।

%d bloggers like this: