শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

অসহায় সেই স্কুল ছাত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলেন এমপি কমল

mp-kamol

দীপক শর্মা দীপু; কক্সভিউ :

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে টাকার অভাবে এক স্কুল ছাত্রীর পায়ের অপারেশন হচ্ছেনা। ১৩ দির ধরে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণাকাতর এ ছাত্রীর চিৎকারে হাসপাতালের অন্যান্য রোগিরাও অস্থির হয়ে উঠেছে। দৈনিক পত্রিকায় ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত এমন খবর পেয়ে মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলেন সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি।

মেয়েটির অপারেশনসহ তার সমস্ত চিকিৎসা খরচের দায়িত্ব নিলেন গরীবের দরদি এমপি কমল। তিনি বলেন- ‘অর্থের অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে কোন রোগি মারা যাবে বা কষ্ট পাবে তার দিন বদলে গেছে। বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবা যেখানে নিশ্চিত করেছে সেখানে এমন ঘটনা ঘটতে পারেনা। তবে এমন খবর জানাতে হবে আর জানতে পারলে আমি তাদের পাশে এগিয়ে যাই, এগিয়ে যাবো।’

হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য রুস্তম আলী জানান, এমপি কমল স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় খবর পেয়ে দ্রæত মেয়েটির খবর নিতে বললে আমিসহ হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়ক মেয়েটিকে দেখতে যায়। এমপি কমল মেয়েটির চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করবেন বলে মেয়েটির মাকে অবহিত করা হলে তিনি খুশি হন।

উল্লেখ্য গত ১০ নভেম্বর অটো বাইক টমটমের আঘাতে গুরুতর আহত হয় পানের ছড়া চাইল্যাতলী একে আজাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা ছিদ্দিকা। আহত হওয়ার সাথে সাথে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অর্থোপেডিক্স কনসাল্টেন্ট ডা: আয়ুব আলীর তত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হয়। বাম পায়ের একটি অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় তাকে অপারেশন করতে হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু অপারেশের সরঞ্জাম এর টাকা যোগাড় করতে না পারায় অপরাশেন করানো হয়নি। ১৩ দিন ধরে হাসপাতালে ৫ তলার সার্জারী ওয়ার্ডে কাতরাচ্ছে এ ছাত্রী। যন্ত্রণাকাতর এ ছাত্রীর চিৎকারে অন্যান্য রোগীসহ সঙ্গীরা অস্থির হয়ে উঠেছে।

আহত ছাত্রীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন- ‘হাসপাতালে ভর্তি করানোর দীর্ঘ ১২ দিন পরে ২২ নভেম্বর অপারেশনের তারিখ দেয়া হয়। মানুষের থেকে ধার করে নিয়ে নগদ ৮ হাজার টাকা জমা দেয়া হয় এবং ৪ হাজার টাকার ওষুধ কেনা হয়। কিন্তু সকালে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পর অপারেশন না করে ফিরিয়ে দেন। সেই সাথে ৮ হাজার টাকাসহ ওষুধ ফেরত দেয়া হয়।’

এ ব্যাপারে ডা: আয়ুব আলী বলেন-‘অপারেশনের জন্য সরঞ্জাম বাবদ ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন কিন্তু রোগির সঙ্গী জমা দিয়েছে ৮ হাজার টাকা। তাই অপারেশন করা সম্ভম হয়নি। কারণ অপারেশনের এসব সরঞ্জাম সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়না।’

অসহায় মেয়েটির মা মনোয়ারা বেগম জানান-‘মেয়েটির বাবা দিনমজুর মো: ইসলাম পায়ের ক্যানসার হওয়ার কারনে দীর্ঘ ৪ বছর পর্যন্ত ঘরে বসে আছেন। মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে কোন রকমে আমি সংসারের খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। মনে করেছিলাম সরকারি খরচে মেয়েটির চিকিৎসা করাতে পারবো। তাই জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। এখন মনে হয় টাকার অভাবে মেয়েটি এভাবে কষ্ট পেতে পেতে চোখের সামনে মরে যাবো।’

মেয়েটির মায়ের এমন ধারণাকে পাল্টে দিলেন এমপি কমল। তিনিই দায়িত্ব নিলেন মেয়েটিকে বাঁচানোর। সমস্ত চিকিৎসা খরচ তিনিই ব্যয় করবেন। এমন কথা শুনে খুশিতে কেঁদে দিলেন মেয়েটি মা মনোয়ারা বেগম।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com