বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৮:০২ অপরাহ্ন

অস্থিত্ব সংকট আর দূষণের কবলে ঈদগাঁওর ছড়া-খাল

dokan-sagor

এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও :

অস্তিত্ব সংকট আর দূষণের কবলে পড়েছে ঈদগাঁওর পাড়া-মহল্লার ছড়াখাল। সে সাথে খালের উপর পাকা দালান ও দোকান পাট নির্মাণের হিড়িক চলছে। দ্রুত ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছে এলাকার সচেতন লোকজন। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। এদেশ নদী-মাতৃক দেশ। কথায় আছে মাছে-ভাতে বাঙালী। আর সে মাছ জোগান দিতে গ্রাম-গঞ্জের বুক চিরে প্রবাহিত হওয়া ছোট-বড় নদী, খাল-বিল। গ্রাম্য প্রবীণদের মতে, এ সমস্ত নদী-খাল দিয়ে এক সময় পাল তোলা নৌকা চলাচল করত। কিন্তু সময় ও সুযোগে কালো থাবায় জেলা সদরের অধিকাংশ নদীর অস্তিত্ব বিলুপ্তির পথে। এমনকি চলছে একের পর এক নদী ও খাল দখলের মহোৎসব। কালের পরিক্রমায় সেই নদীর বুকে এখন পাকা-আধাপাকা দালানের মহাসমারোহ। অনেক ক্ষেত্রে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি এক সময় নদী বা খাল ছিল। একের পর এক দখলের কারণে এসব খাল এখন নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ নদী-খাল দখল করে দু’তীর ভরাট করে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ চলছে। যেন দেখার কেউ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না এখানে একটি নদী বা খাল ছিল।

দেখা যায়, ঈদগাঁও মেহের ঘোনা জলনাসী যেটি উত্তর, মধ্যম ও দক্ষিন মাইজ পাড়া হয়ে চৌফলদন্ডীর বুক চিরে মহেশখালী চ্যানেল দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এলাকার মুরব্বীদের মতে, দীর্ঘ বছর পূর্বেও এসব খালের বুকে মাল বোঝাই বড় বড় পাল তোলা নৌকা চলাচল করত। এক সময় এসব খালে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন খাল বেদখল, পানি ও মাছ শূন্য। ক্ষীণ ধারা বয়ে যাওয়া খালের দু-ধারে এখন গড়া দোকান পাট ও পাকা দালান।

জানা যায়, ঈদগাঁওয়ের মাইজ পাড়ার খালটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। কেউ করেছে খালের নিকটস্থ দালান, আবার কেউ করেছে দোকান ঘর। ফলে ঐ খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া এখন মহা মুশকিল। তেমনি করে জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও নদীসহ ছোট-বড় অসংখ্য নদী খাল দখলের থাবায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন স্থাপনা।

অন্যদিকে এসব খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দু’কূল ছাপিয়ে পুরো গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাটাচলাতো দুরের কথা, ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ঈদগাঁওর বেশ ক’জন বয়োবৃদ্ধের মতে, এই খালে এক সময় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। বাজার থেকে গ্রাম বাসীকে মাছ কিনতে হতো না। এখন মাছ তো দুরের কথা পানি সেচের পানিও খুঁজে পাওয়া যায় না। নদী ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে অনেক ফসলি জমি সেচের অভাবে অনাবাদী পড়ে থাকে। দ্রুত দখলের থাবায় বন্দী থাকা নদী-খালগুলো দখলমুক্ত করে খনন করা না হলে আগামীতে এসব খালের কোন স্মৃতি চিহ্নও খোঁজে পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন এলাকার বয়োবৃদ্ধ লোকজন।

অন্যদিকে দখল দারিত্বের কবলে পড়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁওর ছড়া-খাল। স্বেচ্ছাচারিভাবে নদীতীরে দোকান-পাট, কৃষি খামার এমনকি ঘর বাড়ী ও নির্মাণ করা হয়েছে নদীর মধ্যে। পানির প্রবাহ হারিয়ে এ সমস্ত ছড়া খাল মুমুর্ষূ দশায় এবং দখলদারিত্ব নদীর অস্থিত্বকে হারিয়ে দিয়েছে।

জানা গেছে, ঈদগাঁও নদীর ২শ কিলোমিটারের ও বেশি চর পানি শূন্য এলাকায় এখন দিব্যি বাড়ী ঘর তৈরি করে বসতী শুরু করা হয়েছে। তৎমধ্যে রয়েছে ঈদগাঁও বাজারের বাঁশঘাটা, বাঁশবাজার, মুসলিম বাজারের দু’পাশের এলাকা একই ভাবে ঈদগাঁও ভোমরিয়াঘোনা, বাসষ্টেশনস্থ ব্রীজের আশপাশ এলাকা, পালপাড়া, রাবারড্যাম, লরাবাক, নাইক্ষ্যংদিয়া, পশ্চিম পোকখালী ও পূর্ব গোমাতলী ব্রীজ ঘাট এলাকায় স্থাপনা তৈরি করায় এক সময়ের খরস্রোতা ঈদগাঁও নদী পরিণত হয়েছে স্থির স্থলভূমি হিসাবে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঈদগাঁও নদী এখন আর সেই ঐতিহ্যবাহী নদী নেই। এ নদীর বুকেই গড়ে উঠেছে পাড়া গ্রাম।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা তেমন কোন আইনগত ভূমিকা না নেওয়ায় দখলদারিত্ব স্থায়ী হয়ে পড়েছে। পাড়া-মহল্লার ছড়াখালের উপর এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে জোর দাবী উঠেছে। অন্যথায় ঈদগাঁওর ছোট বড় সকল নদী, খাল, ছড়া গুলো অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে। নানামূখী অব্যবস্থাপনার কারণে পানি প্রবাহ হারানো নদীগুলো এভাবে দখলে চলে যাচ্ছে। অবৈধ দখলে চলে যাওয়া নদ নদী উদ্ধারে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবী অভিজ্ঞ মহলের।

আবার সদর উপজেলার ঈদগাঁও-কালিরছড়ার ছড়া-খাল খনন ও মাইজপাড়া-মেহেরঘোনা যাতায়াত সড়কের উপর ফুটব্রীজ নির্মাণের দাবী তুলেছে সচেতন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ ঈদগাঁওর মাইজপাড়ার ভরাখাল খনন কার্যক্রম বন্ধ করে চলে যাওয়ার ফলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যাতে করে প্রতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে বন্যার পানিতে খালের পার্শ্ববর্তী লোকজন পানি বন্দী হয়ে চরমভাবে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের বৃহত্তর মাইজপাড়ার ভরাখালটি অর্ধখননের পর কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কিন্তু অর্ধেক খাল খননের পরবর্তী দু-পাড়ের মাটি ভরাটের প্রায় দীর্ঘ দু’বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যবধি কাজকর্ম বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মাইজপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ভরাটখালটি সংস্কারের লক্ষ্যে দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় মেম্বার ও ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি ছুরুত আলমসহ আরো কয়েকজন নানা মহলে জোর লবিং শুরু করেছিলেন বহু পূর্বে। তারই ধারাবাহিকতার ফল ফসল হিসাবে বহু বছর পর বিএডিসির দু’কর্মকতা ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ঈদগাঁও’র উত্তর মাইজ পাড়া মাও: মোহাম্মদ হোসনের বাড়ী হতে মধ্যম- দক্ষিন মাইজ হয়ে জালালাবাদের পালাকাটা ঘুমগাছ তলা পর্যন্ত ভরাটখালটি পরিদর্শন করেন- বিএডিসি কক্সবাজার উর্ধতন উপসহকারী প্রকৌশলী ডালিম কুমার মজুমদার ও বিএডিসির কনসালটেড কে এম ফজলুল হক। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই মাইজ পাড়ার ঐতিহ্যবাহী খালের মাঝপর্বে খনন করার পর ঐ খালের দু-পাড়ের মাটি ভরাটের কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। বলতে গেলে খননকৃত খাল ও পূর্বের ন্যায় হয়ে গেছে। এই নিয়ে বিশাল এলাকার লোকজন বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাত আর বন্যা হলে সেসব পানি খাল দিয়ে সুষ্ঠুভাবে যাতায়াত করতে না পারলে খালের পার্শ্ববর্তী বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা করেন এলাকাবাসী। এছাড়াও এলাকার একাধিক লোকজনের মতে, অর্ধ খনন কৃত ভরাখাল যদি পূর্ণ খনন করা না হয় তাহলে এলাকাবাসী পানি নিয়ে ফের মরন দশায় ভুগবে।

অন্যদিকে স্থানীয় লোকজনের মতে, ঐতিহ্যবাহী আমাদের এ ভরাখালটি খননের মাঝপথে কর্তৃপক্ষ চলে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই বন্যার পানির মাঝে হাবুডুবু খেতে হবে এলাকার লোকজনকে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাবেক মেম্বার ছুরত আলম বিএডিসি কর্তৃপক্ষ ভরাখাল অর্ধ খনন করে চলে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এলাকার লোকজনদেরকে মহাকষ্টে দিন কাটাতে হয়। দীর্ঘকাল ধরে অযন্তে অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী ভরাটখালটি যদি পুনঃখনন করে পানি চলাচলের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে এলাকার জনগোষ্টীর দুঃখ দূর্দশা লাঘব হবে। অন্যদিকে বর্তমানে ভরা খালটি নানা ভাবে দখল হতে দেখা যাচ্ছে। তাই দ্রুততম সময়ে এলাকার এই ভরাখালটি অর্ধখননকৃত কাজ শুরু করে খালের পাশ্ববর্র্তী বাড়ীঘরের লোকজনদেরকে বন্যার পানি কিংবা নানা সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার আহবান লোকজনের।

অন্যদিকে ঈদগাঁওর কালিরছড়ার খাল খননের দাবী জানিয়েছে এলাকার লোকজন। জানা যায়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কালিরছড়া বাজার সংলগ্ন উক্ত খাল দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি যাতায়াত করতে না পারায় খালের পাশ্ববর্তী মিফতাহুল উলুম তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদটি হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি বর্ষা মৌসুমে খালের উপর নির্মিত ব্রীজটির নিচে পানি চলাচলের ৪টি পথ থাকলেও ২টি ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর হয়ে গেছে। অপর দুটি পথ দিয়ে সুষ্ঠুভাবে পানি যাতায়াত করতে পারছে না। যার দরুণ বর্ষা মৌসুমে ঢল কিংবা বন্যার পানিতে খালের সাথে লাগোয়া মসজিদ ও মাদ্রাসাটি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় মুসল্লীরা। তবে বেশ কয়েকজন মুসল্লীর সাথে কথা হলে তারা বর্ষার আগেই ঈদগাঁওর কালিরছড়া খাল খনন করে পানি চলাচলের সুর্বণ সুযোগ সৃষ্টি করে দিলে ভাল হবে বলেও মত প্রকাশ করেন। অন্যথায় বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাবে মসজিদ কিংবা মাদ্রাসা।

অন্যদিকে খালের দু’পাশ দিয়ে কতিপয় লোকজন কর্তৃক ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ঐ খালটি দখল হয়ে যাওয়ার পথে বললেই চলে। এমনকি কিছু কিছু লোক খালের উপর দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেও দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অতিসত্তর কালিরছড়া বাজার সংলগ্ন খালটি সংস্কার করে বৃহত্তর এলাকার লোকজন কিংবা মসজিদ মাদ্রাসাকে রক্ষা করার আহবান জানান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট। আবার ঈদগাঁও ইউনিয়নের নাসি খ্যাত উত্তর মাইজ পাড়া-মেহেরঘোনা যাতায়াতের ফুটব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন বিশাল এলাকাবাসী। এ কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লোকজন চলাফেরায় দূর্ভোগ আর দূর্গতিতে পড়েছে। বর্তমানে উক্ত সাঁকোর পরিবর্তে ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন এলাকার সর্বপেশার লোকজন।

জানা যায়, এ সাঁকোর উপর দিয়ে লোকজন চলাচলে নিদারুন কষ্ট পাচ্ছে। বর্তমানে ঐ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে বৃহত্তর মাইজ পাড়াসহ আশপাশের এলাকার শত শত লোকজন দৈনিক কাজকর্মে ঈদগাঁও বাজারসহ কক্সবাজারে আসা যাওয়া করে। এমনকি ঐ সাঁকোর উপর দিয়ে ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরঘোনা ইউনুছিয়া মাদ্রাসা, ঈদগাহ ফরিদ আহমদ ডিগ্রী কলেজ, তালিমুন কোরআন মাদ্রাসা ও স্থানীয় হেফজ খানায় শিক্ষার্থীসহ দুই সহস্রাধিক লোকজন দৈনিক চলাফেরা করে থাকে। পরক্ষণে এলাকাবাসীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এটি কোনরকমভাবে কাঠ দিয়ে চলাচলের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। তবে এলাকার লোকজনের আকুল আহবান যে, ঈদগাঁও উত্তর মাইজ পাড়া-মেহেরঘোনা যাতায়াত সাঁকোর পরিবর্তে উক্ত স্থানে ব্রীজ নির্মাণ করে এলাকাবাসীকে অযথা দূর্ভোগ আর দূর্গতি থেকে মুক্তি দেওয়ার আহবান। তবে সচেতন মহলের মতে, এ সাঁকোটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে ক্ষোভের দান বাঁধতে শুরু করেছে। অপরদিকে এলাকার বেশ ক’জন সচেতন যুবকের মতে, বিশাল এলাকার লোকজনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নাসি এলাকায় সাঁকোর পরিবর্তে যদি ব্রীজ নির্মাণ করা হয় তাহলে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে। তার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনায়াসে শিক্ষাঙ্গনে যেতে পারবে।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com