Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / আজ জানাযা : বিভিন্ন মহলের শোক : জেলার বরণ্য ব্যক্তিত্ব আবুল কাশেম মিয়ানের ইন্তেকাল

আজ জানাযা : বিভিন্ন মহলের শোক : জেলার বরণ্য ব্যক্তিত্ব আবুল কাশেম মিয়ানের ইন্তেকাল

Shok - 4শহীদুল্লাহ কায়সার; কক্সভিউ :

ভাষা সৈনিক। শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষাবিদ সমাজ সংস্কারক আবুল কাশেম মিয়াঁন আর নেই (ইন্নালিল্লাহে…রাজেউন)। ২৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল সাড়ে নয় টায় রাজধানী ঢাকাস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিক রোগে আক্রান্ত হওয়া এ মহান ব্যক্তিত্ব হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর (শিক্ষাসনদ অনুসারে)। তিনি ৩ পুত্র, ৬ কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিসহ অগণিত গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর ৩ পুত্র জাহাঙ্গীর কাশেম, তানভীর কাশেম এবং খুররম কাশেম বর্তমানে পিতার ব্যবসা দেখভাল করছেন। আবুল কাশেম মিয়াঁন এর প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে আজ সকাল ১০টায় শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। এরপর সকাল ১১টায় খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠে দ্বিতীয় এবং জন্মস্থান খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়াস্থ সওদাগর পাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে তৃতীয় জানাজার নামাজ সম্পন্ন করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই ভাষা সৈনিক শুধু শিক্ষাবিদ এবং শিল্পপতি হিসেবে জেলাব্যাপী পরিচিত ছিলেন না, তিনি একাধারে ছিলেন রাজনীতিবিদ, জেলার শিল্প আন্দোলনের অগ্রপথিক, দেশের ইসলামি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠার পুরোধা, দানশীল ব্যক্তিত্ব। ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচিত ব্যক্তিত্ব। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’র মতো ব্যাংক সৃষ্টিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালকও ছিলেন তিনি। ব্রিটিশ অমলে ভারতে অধ্যয়নকালীন সময় স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত থাকা আবুল কাশেম মিয়াঁন পরবর্তী জীবনে ইসলামী ভাবধারার রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। ধর্মীয় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও চিন্তা চেতনায় পুরোপুরি ছিলেন বিজ্ঞান মনস্ক। দেশে প্রথম তিনিই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের প্রচেষ্টা চালান। শুধু পুত্র নয়, নিজ কন্যাদেরও শিক্ষিত করেছেন আধুনিক শিক্ষায়। প্রতিষ্ঠা করেছেন স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কর্মবীর আবুল কাশেম মিয়াঁন তাঁর জীবিতকালেই পরিণত হয়েছিলেন জেলার সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আল্লাহওয়ালা হ্যাচারি বর্তমানে দেশের প্রধান মনোসেক্স তেলপিয়া পোনা প্রজননকারী প্রতিষ্ঠান। মরহুম আবুল কাশেম মিয়াঁন’র পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর সঠিক জন্মসন লিপিবদ্ধ নেই। শিক্ষাসনদ অনুসারে তিনি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজার জেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম কালা মিয়া সিকদার এবং মাতা শমশাদ খাতুন। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে রামু খিজারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তৎকালীন এন্ট্রান্স (বর্তমানে এসএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা গমন করেন। সেখানে ভারতের বিখ্যাত লর্ড রিপন কলেজে অধ্যয়নকালীন সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, শহীদ হোসেন সোহরাওয়ার্দীর সাথে যুক্ত হন পাকিস্তান আন্দোলনে। দেশবিভাগের পর কলকাতা থেকে দেশে ফিরে এসে ভর্তি হন বরিশাল বি.এম কলেজে। ওই কলেজ থেকেই প্রথম শ্রেণীতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা সহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি কক্সবাজার কলেজ, প্রিপ্যারেটরি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখার পাশাপাশি সম্পূর্ণ নিজ খরচে জন্মস্থান তেতৈয়ায় গড়ে তোলেন আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়। স্ব-পতœীক একাধিকবার পবিত্র হজব্রত পালন করেন তিনি।

%d bloggers like this: