Home / প্রচ্ছদ / আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

আজ বিশ্ব বাঘ দিবস

Tiger- 02‘Save Big Cats from Extinction.’ – এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ২৯ জুলাই পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। বাঘের বিচরণ রয়েছে বিশ্বের এমন ১৩টি দেশ এ দিবসটি পালন করছে।
২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্টপিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বিশ্ব বাঘ সম্মেলন। এই সম্মেলনে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এখনো বাঘ টিকে আছে এমন ১৩টি দেশে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৩টি বাঘ সমৃদ্ধ দেশকে টাইগার রেঞ্জ বা টিআরসি বলা হয়। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, চীন, নেপাল, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস ও রাশিয়া।
এদিকে বাঘ দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ শরণখোলা ও মংলা উপজেলায় সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি বে-সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাঘ বাঁচাতে নানা উদ্যোগ নিলেও সুন্দরবনে বাঘের মৃত্যু আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। ১৯৮০ থেকে ২০১২ সালের জুলাই পর্যন্ত গত ৩২ বছরে সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় শিকারিদের হানা, গ্রামবাসীর পিটুনি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৬৭টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব প্রকৃতির মানচিত্র থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বাঘ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।বাঘ বনের জীববৈচিত্র্য, খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রতিবেশ চক্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক। বনের প্রাকৃতিক বংশ বৃদ্ধি যাতে ব্যাহত না হয় তার জন্য তৃণভোজী প্রাণী হরিণ, শূকর, বনগরু ইত্যাদি শিকার করে বাঘ বনের প্রতিবেশ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাঘ বনের অতন্ত্র প্রহরী এবং তার নির্ধারিত আবাসস্থলে অন্য কোনো বাঘ বা মানুষের আনাগোনা সহ্য করে না। বাঘ কমে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে বনাঞ্চলের অবস্থা/বাঘের আবাসস্থল বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন। তাই মহাবিপদাপন্ন প্রজাতির বাঘ রক্ষার জন্য বিভিন্ন দেশ-বিদেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বাঘের আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত ১৩টি টাইগার রেঞ্জ দেশ বাঘ সংরক্ষণের জন্য ন্যাশনাল টাইগার রিকভারি প্রোগ্রাম (এনটিআরপি) ও জিটিআরপি বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সুন্দরবনে এখনো ৩০০ থেকে ৫০০টি বাঘ টিকে আছে বলে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়। ২০০৪ সালে ইউএনডিপি, বাংলাদেশ ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বাঘের পদচিহ্নের ওপর ভিত্তি করে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। ওই জরিপে বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি নির্ধারণ করা হয়। তার মধ্যে পুরুষ বাঘ ১২১টি, বাঘিনী ২৯৮টি ও বাচ্চা ২১টি ছিল। সুন্দরবনের আয়তন ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার এবং এই বনাঞ্চলে বাঘের ঘনত্ব পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক। বাঘ আছে বলেই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত আছে এবং প্রাণিকুলের খাদ্যচক্র বিরাজমান আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাঘ বিপ্তিভাবে ছোট ছোট বনে ছড়িয়ে আছে এবং ওইসব বন থেকে বাঘ দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের সুন্দরবন সর্বাধিক সংখ্যক বাঘের বিচরণ ক্ষেত্র।
Tiger- 03গবেষণা ও পরিবীক্ষণের মাধ্যমে জানা গেছে, বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরিবেশ বিপর্যয়, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, শিকারের অভাব ও সুন্দরবন লোকালয় সংলগ্ন খাল-নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে বাঘ-মানুষে সঙ্ঘাত বাড়ছে। সুন্দরবনে বাঘের শিকার প্রাণীর মধ্যে চিত্রা হরিণ, শূকর, মায়া হরিণ ও বানর রয়েছে।
সম্প্রতি আবাসস্থল সংকট ও খাদ্যাভাবে লোকালয়ে বাঘের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা বাঘের বংশবৃদ্ধিসহ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশে একটি বাঘ গবেষণা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পৃথিবীর সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন বাংলাদেশ ও ভারত ভূখণ্ডে অবস্থিত। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের প্রতীক সুন্দরবন শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয় বন অভ্যন্তরে রয়েছে গাছপালা, পশুপাখি, জীবজন্তু, সরীসৃপসহ অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার। নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে বাঘের আবাসস্থল ও প্রজনন ক্ষেত্র সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে বনের রাজা বাঘের বংশবৃদ্ধি ঘটছে না।
অপরদিকে বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও চোরা শিকারিদের হাতে পাচার ও নিধনের ফলে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে এ প্রাণী। জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৮৭ সালে অতি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে বাঘ কিংবা বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়।
সেই সতেরো শতক থেকে সার্কাসে ব্যবহার হচ্ছে বাঘ। প্রাণিবাদীরা সার্কাসে বাঘের এ ধরনের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে বাঘকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পদ্ধতি, ক্রমাগত ভ্রমণ এবং অপ্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
গত এক হাজারেরও বেশি সময় ধরে চীন এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রথাগত ওষুধ তৈরিতে বাঘের শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। মূলত বাত এবং চর্ম রোগের চিকিত্সায় এসব ব্যবহার করা হয়।১৯৮৭ সাল থেকে অবশ্য বাঘের দেহের বিভিন্ন অংশ বিক্রি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ। তবে এখনো কালোবাজারে বাঘের চাহিদা অনেক।
এমনকি স্বনামধন্য চিড়িয়াখানাতেও বাঘের প্রজনন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। এক্ষেত্রে চিড়িয়াখানাগুলোর মন্তব্য হচ্ছে, তারা গবেষণা এবং জিনগতভাবে বৈচিত্র্যময় বাঘের বংশ বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
সুন্দরবনকে রক্ষা করে বাঘ। আর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে সুন্দরবন। বাঘ না থাকলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব থাকবে না। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সাইক্লোন, লবণাক্ত পানির প্রবেশ প্রভৃতি কারণে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বাঘসহ অন্যান্য জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সুন্দরবন রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।-সূত্র: নাগরিককণ্ঠডকম,ডেস্ক।

%d bloggers like this: