Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / আজ সেই ভয়াল ২৯শে এপ্রিল : কক্সবাজারের উপকূল ২৫ বছরেও অরক্ষিত

আজ সেই ভয়াল ২৯শে এপ্রিল : কক্সবাজারের উপকূল ২৫ বছরেও অরক্ষিত

Beribadh - Mukul 28.04.16 news 1pic f2

মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

গা শিউরে উঠা সেই ভয়াল ২৯শে এপ্রিল আজ। ১৯৯১সালের এইদিনে পর্যটন জেলা কক্সবাজারের উপকূল লন্ডভন্ড হয়েছিল। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হওয়া ক্ষতচিহ্ন মুছেনি পঁচিশ বছর অতিবাহিত হলেও। ফি বছর এইদিনটি ফিরে আসলেই উপকূলের ঘরে ঘরে কান্নার রোল পড়ে। তবুও উপকূলবাসীকে বাস করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। অরক্ষিত রয়ে গেছে বেড়িবাঁধ, পর্যাপ্ত নির্মাণ হয়নি সাইক্লোন শেল্টার। দেশী-বিদেশী অর্থায়নে যেসব আশ্রয়ন কেন্দ্র নির্মিত হয়েছিল তাও রয়েছে অযত্ন অবহেলায়।

চকরিয়ার-পেকুয়ার ৫০ কিলোমিটারসহ জেলার অন্তত আড়াইশ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে অতি জোয়ারের সময় সামুদ্রিক জোয়ারের পানি প্রতিনিয়ত ঢুকছে উপকূলের পাড়া-গাঁয়ে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসন তাগাদা দেয়া সত্বেও বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত হচ্ছেনা। পাউবো পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েই চুপ রয়েছে। সরকারী বেসরকারী সংস্থা ভয়াল দিনটি আসলেই স্বরণসভা করার পর পুরো বছরেই আর মনে রাখেনা সেই দিনটির কথা।

উপকূলীয় ইউনিয়ন বদরখালীর চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ বলেন, আমাদের ইউনিয়ন ছাড়াও কোনখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর ও চিরিঙ্গা সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ না হলে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলোচ্ছ্বাস হলে উপকূলের দু’লক্ষাধিক মানুষ জান-মাল নিয়ে দুর্ভোগে পড়বে।

পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া তৎমধ্যে মগনামা সাগরগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে লিখিত আাবেদন করা হলেও বরাদ্দ মেলেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় ৬০কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফর্মা (ডিপিপি) তৈরী করে ২শত ৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে গত বছর আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের সাড়া মেলেনি এখনো।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন অরক্ষিত বেড়িবাঁধ নিয়ে প্রতি মাসেই জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় ব্যাপক আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয় পাউবোকে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, অনেক পোল্ডারে কাজ চললেও উপকূল অরক্ষিত রয়েছে। আশা করছি অচিরেই পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে পোল্ডারসহ বেড়িবাঁধগুলো টেকসইভাবে নির্মাণ করা যাবে। জলোচ্ছ্বাস নিয়ে চিন্তামুক্ত হবে উপকূলের বাসিন্দারা।

%d bloggers like this: