সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

আন্দোলনে যাচ্ছে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা

ফাইল ফটো

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া :

সরকার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার রয়েছে তা ভেস্তে যেতে বসেছে উখিয়ায়। পল্লী বিদ্যুতের নতুন ডিজিএম যোগদানের সাথে সাথে বিদ্যুতের ভেল্কি বাজিতে অতিষ্ঠ উখিয়াবাসী। যেকোন মুহুর্তে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও সহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান, পল্লী বিদ্যুতের সামনে অনশন কর্মসূচীসহ উপজেলার সমস্ত গ্রাহকদের নিয়ে জনসভা করে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

উখিয়া সদরের ফলিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, সে ২ একর জমিতে বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করে জমিজমার আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পানি শূন্যতায় বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় জমিতে চারা রোপন করা যাচ্ছে না। ছয়তারা রাইচ মিলের স্বত্তাধিকারী আলহাজ্ব কবির আহমদ সওদাগর জানান, তার মিলে প্রায় ২০/২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের অপ্রতুলতার কারণে এসব শ্রমিকেরা অলস সময় পার করলেও তাদের প্রাপ্য মজুরী পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখাতে কাজ না করে তাকে দৈনিক ১০/১২ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।

উখিয়া পিআইও অফিসের প্রধান অফিস সহকারি মিজানুর রহমান জানান, পল্লী বিদ্যুতের দীর্ঘায়িত লোডশেডিংয়ের কারণে অফিসের সমস্ত কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে আবাসিক, বাণিজ্যিক সহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্টান ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে। বিশেষ করে একাধিক সেচ মিটার গ্রাহক মোঃ ইসলাম, জামাল উদ্দিন ও জমির আহমদ অভিযোগ করে জানান, তাদেরকে সেচ মিটার নিতে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে পল্লী বিদ্যুৎ অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে। কিন্তু মিটার স্থাপনের পর থেকে ঘন ঘন লোডশেডিং করার কারণে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২ হাজার সেচ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাত ১১ টার পরেও যদি পল্লী বিদ্যুতের এ অবস্থা বিদ্যমান থাকে তাহলে বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম হানিফ মোহাম্মদ সালা উদ্দিন জানান, বোরো চাষাবাদের কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। যেখানে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে সেখানে জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৫ মেগাওয়াট। তাই অতিরিক্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, কক্সবাজার পাওয়ার স্টেশন ও উখিয়ায় পৃথক দুটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এদুটি ট্রান্সফরমার যোগ হলে বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকবে না। আগামী ফেব্রুয়ারী থেকে ট্রান্সফরমার দুটি স্থাপন করার কথা রয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।

 

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com