Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / জীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশ / আরও শক্তিশালী হয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’

আরও শক্তিশালী হয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’

https://i0.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2022/05/Cyclone-Ashani.jpg?resize=620%2C348

অনলাইন ডেস্ক :
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি শনিবার সকালে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। বিকালে তা নিম্নচাপে পরিণত হয়। এটি আজ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের কাছে পৌঁছে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অফিসের পৃথক বুলেটিনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত এটির মুখ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে আছে। গতিমুখ এখন উত্তর-পশ্চিম দিকে। এটি বারবার দিক বদলাচ্ছে। গত তিন দিনে তিন বার দিক বদলেছে। এভাবে এগোলে তা বিশাখাপত্তম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সব সময় ঘড়ির কাঁটার উলটো দিকের হিসাবে ঘোরে। এ কারণে ঘূর্ণিঝড় ভারতের আরেক রাজ্য ওড়িশার দিকে ঘুরে যেতে পারে। আর এটি ঘটতে পারে ১০ মে’র দিকে।

এ অবস্থায় সমুদ্র বন্দরগুলোতে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ ড. মোহাম্মদ আবুল কামাল মল্লিক রোববার (৮ মে) সকালে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় এটি আরও শক্তিশালী হয়ে আজকের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’তে পরিণত হতে পারে।

আগামী মঙ্গলবার (১১ মে) নাগাদ এটি ভারতের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। যদিও এর প্রভাব এখনো বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় পড়েনি। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উপকূলের আরও কাছাকাছি এলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাসহ সুন্দরবন, সাতক্ষীরাসহ আশেপাশের এলাকায় তীব্র ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এর গতিপথ ভারতের দিকে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে পারে ভারতের উপকূলসহ আশপাশের এলাকায়।

এতে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও সামান্য উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছিল।

পস উইন্ডির চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আসানি আঘাত হানতে পারে ১১ মে এবং পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টি আসতে পারে ১৬ মে। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটেরোলজির জলবায়ু বিজ্ঞানী পার্থসারথি মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরের পশ্চিমী বাতাসের প্রবাহ এতটাই জোরদার যে দুই গোলার্ধে একই সঙ্গে দুই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এটি শনিবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে এক হাজার ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে এক হাজার ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে এক হাজার ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে এক হাজার ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হচ্ছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এদিকে নদীবন্দরের জন্য এর দেওয়া বিশেষ সতর্ক বার্তায় বলা হয়, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এবারের সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করেছে শ্রীলঙ্কা। সিংহলি শব্দ ‘অশনি’র বাংলা অর্থ ‘ক্রোধ’।

%d bloggers like this: