শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের কথা শোনলেন ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দীপক শর্মা দীপু; কক্সভিউ :

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। মঙ্গলবার সকাল ১১টা  থেকে ১২টা পর্যন্ত শরণার্থী শিবিরের বিভিন্ন ব্লক পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। সকাল ১১টার দিকে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীকে বহনকারী হেলিকপ্টার উখিয়াস্থ কুতুপালং টিএন্ডটি এলাকায় নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। পরে তারা কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে যান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প মিলনায়তনে মিয়ানমারের গুলিবিদ্ধ স্বজনহারা, সম্ভ্রমহারা বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষের সাথে কথা বলেন। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় জানতে চান তারা মিয়ানমার থেকে কেন পালিয়ে এসেছেন? প্রতি উত্তরে মিয়ানমারের খেয়ারীপ্রাং গ্রামের গুলিবিদ্ধ পা হারানো রোহিঙ্গা হাফিজুল ইসলামের ছেলে মুফিদুল মোস্তফা (২২), আরেক গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা ইনছং গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে ইলিয়াছ (১৮) চোখের পানি ফেলে মিয়ানমার সেনাদের নিমর্ম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। এসময় ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে সম্ভ্রমহারা কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী তাদের পৈচাশিক নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ইউয়ান উইবানাতা আদমাজ্জা ও উখিয়া-টেকনাফের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি উপস্থিত ছিলেন। পরে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয় কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেয়া অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সাথে কথা বলে তারা এখানে পালিয়ে আসার ব্যাপারে জানতে চান। এসময় রোহিঙ্গারা হত্যা, ধর্ষণ, গণগ্রেপ্তার, অপহরণ ও ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) নুরুদ্দিন মোহাম্মদ শিবলী নোমান, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের ছাড়াও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মঙ্গলবার থেকে ধারাবাহিক নতুন ভাবে আগত ও পুরোনো রোহিঙ্গাসহ অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মাঝে ডব্লিউএফপি উদ্যোগে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ২৩শতাধিক পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯অক্টোবর বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপির) দুইটি বিওপি ও কাউয়ার বিল সদর ব্যাটলিয়ানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ৯জন সরকারি নিরাপত্তা কর্মী, ২জন আক্রমণকারী নিহত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নৃ-গোষ্টি নির্মূল করা হচ্ছে, ঘটানো হচ্ছে মানবতা বিরোধী অপরাধ। এর ফলে নিজেদের জীবন বাঁচাতে ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সীমান্তে ঢুকে পড়েছেন বলে দাবি করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন।

এছাড়া ১৭টি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পাড়া গ্রামে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৪০হাজারের মত রোহিঙ্গা গৃহহীন, দেড় হাজারের ঘরবাড়ি, স্থাপনা অগ্নি সংযোগ করে ধ্বংস করা হয়েছে, শতাধিক নিরহ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে, অসংখ্য কিশোরী-যুবতীদের ধর্ষণ করা, আইন বর্হিভূত ভাবে নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার চালানো, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কিছু কিছু আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া সহ মানবতা বিরোধী অপরাধের মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দেশ-বিদেশী সংবাদ গণমাধ্যমে। এসবের প্রেক্ষিতে এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল মিয়ানমারের রাখাইনে সংগঠিত সেনা নির্যাতন ও কোন ত্রাণ সহযোগীতা ও কর্মীদের অনুমতি না দেওয়া, মানবাধিকারের চরম লংঘন বলে অবহিত করে কঠোর সমালোচনা করেছেন।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com