Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / নির্বাচন সংক্রান্ত / ঈদগাঁওর গ্রামাঞ্চল এখন ইউপি নির্বাচনী আমেজে সরগরম

ঈদগাঁওর গ্রামাঞ্চল এখন ইউপি নির্বাচনী আমেজে সরগরম

election 1111এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও:
কক্সবাজারের সদর উপজেলার ঈদগাঁওয়ের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল এখন সর্বপেশার লোকজনের মাঝে ইউপি নির্বাচনী আমেজে সরগরম হয়ে উঠেছে। এমনকি গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান, উন্মুক্ত স্থানসহ সবখানে চলছে ইউপি নির্বাচনী হিসাব নিকাশ। পর্যটন শহর কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার খ্যাত জেলা সদরের বহুল আলোচিত এলাকা বৃহত্তর ঈদগাঁওতে আসন্ন ইউপি নির্বাচনের হাওয়া এখন থেকে বইতে শুরু করেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার আলোকে ঈদগাঁওতেও ফের ইউপি আমেজে সরগরম হয়ে উঠেছে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ। এ নিয়ে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী বৃহত্তর এলাকাকে নিজেদের অনুকূলে আনার লক্ষ্যে এখন থেকে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের খবরে কিন্তু কক্সবাজার সদর উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা ছয় ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সম্প্রতি তাদের এলাকায় এখন থেকে নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে। লক্ষ্য শুধু একটাই ইউপি নির্বাচন আসার আগেই প্রচার প্রচারণা আর পরিচিতি লাভ করা।
এদিকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নয়া কৌশল হিসাবে বেছে নিয়েছে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। বৃহত্তর এলাকার নানা স্থান ঘুরে বেশ ক’জনের সাথে কথা হলে এমন চিত্র ফুটে উঠে। অনেকে নির্বাচনী কৌশল হিসাবে নিজেদের লোকজন নিয়ে তাদের ভেশ ভুষণ ইতোমধ্যে এলাকার সর্বপেশার মানুষদেরকে জানান দিয়েছে। এমনকি বৃহৎ এলাকার গ্রামাঞ্চলের নানা স্থানে দোকান পাটে চায়ের কাপেও নির্বাচন নিয়ে ঝড় উঠছে। তার পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ইতোমধ্যে তাদের ছবিযুক্ত লিপলেট, পোস্টার দিয়ে আনাছে কানাছে ছড়িয়ে দিয়েছে যেন তাদের কাঙ্খিত প্রার্থীকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয় সে আশায়। সে সাথে এলাকাতে কোন একটা রাজনৈতিক কর্মসূচী পালিত হলে সেখানে ঢাকঢোল বাজিয়ে কিংবা পোস্টার সাজিয়ে ওই অনুষ্ঠানে মিছিল সহকারে যেতেও দেখা যায়। এভাবে চলছে এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ। আবার কোন প্রার্থীকে দল সাপোর্ট করছে এ নিয়েও চলছে বেশ আলাপ-আলোচনা। বৃহত্তর এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের যুব ও ছাত্র নেতৃত্বদানকারীরা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে চিন্তাভাবনা করছেন। তার পাশাপাশি এলাকাজুড়ে চলছে নবীন আর প্রবীণের লড়াই।
অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের শুভাকাঙ্খী, দলীয় কর্মী কিংবা এলাকায় এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী মাঠ নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ লক্ষ্যে অনেক প্রার্থী প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক প্রার্থী নিরব থাকলেও সময়ে মুখ খুলতে পারেন এমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কয়জন বা নির্বাচন করবে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ লোকজনের মাঝে। ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে গ্রামাঞ্চলের লোকজনের মতে, যে দলের হোক না কেন- সৎ, যোগ্য, উন্নয়নমুখী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী ও খেটে খাওয়া মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী ব্যক্তিদেরকে ইউপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হোক। তবে তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় প্রার্থী বাছাইকালে তৃণমূলকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিও জোর দাবী। মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে যদি প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া যায়, তাহলে সে প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার পাশাপাশি দল অনেকটা এগিয়ে যাবে। আবার সাধারণ মানুষের মতে, দেশ এখন তারুণ্য নির্ভর। তাই ইউপি নির্বাচনেও যদি তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় তাহলে আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রম আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। তবে কৌতুহলী বেশ ক’জনের মতে, শেষ পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনে বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা ছয় ইউনিয়নে দলীয়ভাবে মনোনয়ন কাদের অনুকূলে যাচ্ছে সেটি এখন দেখার পালা!

%d bloggers like this: