Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / জীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশ / ঈদগাঁওর সড়ক-উপসড়কের করুণ দশা : ঈদমুখী মানুষের দূর্ভোগ চরমে

ঈদগাঁওর সড়ক-উপসড়কের করুণ দশা : ঈদমুখী মানুষের দূর্ভোগ চরমে

Road- Sagor 11-7-16

এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও :

আনন্দময় ঈদ নিরানন্দে কেটেছে গ্রামীণ লোকজনের। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক-উপসড়কের করুণ দশার ফলে এবার ঈদমুখী মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে ঈদের পূর্বে আর ঈদ পরবর্তী সময়েও বৃষ্টিপাতকে ঘিরে ঈদগাঁওয়ের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। যা চলাচলের অযোগ্য বললেই চলে। যাতে করে সাধারণ লোকজনের দুর্ভোগ আর দুর্গতি চরম পর্যায়ে পৌছেছে।

জেলা সদরের দ্বিতীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের প্রধান ডিসি সড়কসহ পার্শ্ববর্তী অপরাপর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অলিগলির নানা সড়ক-উপসড়কে বৃষ্টির পানি জমে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেক স্থানে বেড়েছে জনদূর্ভোগ। এদিকে বাজারের প্রধান ডিসি সড়কসহ ঈদগাঁও চৌফলদন্ডী সড়কে যত্রতত্র স্থানে খানা খন্দকে বৃষ্টির পানি জমে আর কর্দমাক্তের কারণে জন ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

অপরদিকে বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা ছয় ইউনিয়ন ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, জালালাবাদ, চৌফলদন্ডী, পোকখালী ও ঈদগাঁওর গ্রামগঞ্জের সড়কগুলোতে কর্দমাক্তে ছেয়ে গেছে। এছাড়াও পোকখালী গোমাতলী সড়ক, ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কসহ বিশাল এলাকার সড়ক-উপসড়কের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অভাবে সৃষ্টি হয়েছে ফের জলাবদ্ধতাসহ গর্ত। এসব দেখার কেউ না থাকায় এ দুর্ভোগ-দূর্গতিতে ভোগতে হচ্ছে এলাকার অসহায় লোকজনদেরকে। যেন গ্রামগঞ্জের লোকজনের এবারের ঈদ আনন্দ নিরানন্দে কেটেছে এমন অভিযোগ ঈদমুখী মানুষজনের। বাজারে টেকসই ও কার্যকরী ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার ফলে সুষ্ঠুভাবে পানি যাতায়াত করতে না পারায় ড্রেনের পানি ড্রেনেই থেকে যাচ্ছে। তার উপর ড্রেনের পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীরা নির্মিত ড্রেনের উপর তাদের দোকানের ময়লা আবর্জনা ফেলে ঐ ড্রেনটি আরো ভরপুর করে রাখে।

অন্যদিকে কিছু কিছু সড়কে বৃষ্টির পানি রাস্তার কাদার সাথে মিশে জলকাদায় ভরে গেছে। ফলে বিঘ্নিত হয়েছে যানচলাচল ও জনজীবনের স্বাভাবিক গতি প্রবাহ। ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী-খুরুশকুল-কক্সবাজার যাতায়াত সড়কটিতে খানা খন্দকে ভরপুর। যাতে করে যানবাহনের চালকরা যাত্রীবাহী যানবাহন চালাতে গিয়ে নানাভাবে বিপাকে পড়েছে। পাশাপাশি যে কোন মুহুর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থার সুষ্ঠু তদারকির অভাবে ড্রেনগুলো বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কর্দমাক্ততা দূরীকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া না হলে দূর্ভোগ আর দুর্গতির চরম পর্যায়ে পৌঁছবে বলে মত প্রকাশ করেন দূরদুরান্ত থেকে বাজারে আসা লোকজন। তবে একাধিক পথচারী ক্ষোভের ভাষায় বলতে শোনা যাচ্ছে যে, বাজার কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে বাজারের আজ এহেন অবস্থা। বৃষ্টিতেই বাজার জুড়ে কর্দমাক্তে সয়লাব হয়ে যায়। অথচ সরকার প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করলেও এসব দেখার কেউ নেই।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর ঈদগাঁও বাজারে ডিসি সড়কের কাজ শুরু হয়। ঈদের পূর্বে পুরো কাজের অর্ধেক অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও বাকী অর্ধেক কাজ রয়ে গেছে যা দিয়ে লোকজন ও যানবাহন চলাচলে দারুনভাবে হিমশিম খাচ্ছে। বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত আর কাঁদা জলে ভরপুর থাকে। একজন মানুষও হাটা চলা করতে বিপাকে পড়ে। সড়কটির প্রায় জায়গায় ছোট বড় গর্ত হওয়ার ফলে প্রায়শঃ দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে। বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানিতে সড়কের বড় বড় গর্ত গুলো দেখা না যাওয়ার ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অবিলম্বে বাজারবাসীর দাবী, জরুরী ভিত্তিতে ডিসি সড়কের বাকী অংশের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে লোকজন ও যানবাহন চলাচলের সুবিধা প্রদানের।

Leave a Reply