বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৯:১১ অপরাহ্ন

ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী-গোমাতলী-ঈদগড় সড়কের দুঃখ-দূর্দশা মুছবে কে?

road-sagor

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও :

জেলা সদরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও হয়ে চৌফলদন্ডী, পোকখালী-গোমাতলী, ঈদগড় যোগাযোগ সড়ক এখন মরণকূপে পরিণত। এসব সড়কের দুঃখ-দূর্দশা মুছবে কে? এমন প্রশ্ন চলাচলরত লোকজনের। এছাড়াও উক্ত সড়ক জুড়েই প্রায় তিনশতাধিক ছোটবড় গর্তসহ খানা খন্দকে ভরপুর। এসব দেখার কেউ না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের লোকজন। সর্বপেশার লোকজনের চলাচলে এত কষ্ট মেনে নেওয়া যায়না। দ্রুততম সময়ে এ চার যোগাযোগ সড়ক সংস্কারের জোর দাবীও তুলেছেন পথচারীরা। এছাড়া এসব সড়ক দিয়ে জন ও যান চলাচলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে বললেই চলে। দিবারাত্রি যানবাহন চলাচলে নিদারুন কষ্ট পাচ্ছে চালকরা। পাশাপাশি দূর্ভোগ আর দূর্গতিতে বন্দী হয়ে পড়েছে লোকজন।

জানা যায়, ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী সড়কের বহু কিলোমিটার বেহাল হয়ে পড়েছে। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। এতে এ সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী পথচারী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার ও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। এ সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী একাধিক জনের মতে, এ সড়ক দিয়ে চলাচল এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে গুরুত্ববহ এ সড়কটি সংস্কারের জোর দাবী জানান। অপরদিকে ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী সড়কের বঙ্কিম বাজার পয়েন্টটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সেখান থেকে বশিরের দোকান, পালাকাটা, শুক্কুরের দোকান, নতুন মহাল, কালু ফকির পাড়া, খামার পাড়া, চৌফলদন্ডী বাজার পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। যে স্থানগুলো বেশি খারাপ, সেখান দিয়ে সাধারণ যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ ও চলাচল করতে দারুন হিমশিম খাচ্ছে। কোন কোন স্থানে এতই খারাপ যে, চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। চালকেরা অনেক স্থানে রাস্তার পাশের মাটির উপর দিয়ে যানবাহন চালাতে গিয়ে একাধিকবার সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। বেশ কিছুদিন পূর্বে একজন রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় চরম বেকায়দায় পড়েছিলেন রোগীর আত্মীয় স্বজনরা। অনেকটাই মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। যে কারনে রাস্তার পাশে কাঁচা অংশ দিয়ে যান চালাতে গিয়ে অনেকবার খাঁদে পড়ে যায়।

অপরদিকে চৌফলদন্ডী সড়কটি টেন্ডার হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার না হওয়ায় দারুন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের। অন্যদিকে বঙ্কিম বাজার-আলমাছিয়া মাদ্রাসা সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়ে পড়েছে। নানা ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে শত শত শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ও কলেজে যাতায়াত করছে প্রতিনিয়ত। উক্ত সড়ক দিয়ে আসা ডুলাহাজারা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা শারমিন ও ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার দাখিলের মডেল টেস্ট পরীক্ষার্থী হাসনা শারমিন জানান, আতঙ্ক নিয়ে তারা প্রতিনিয়ত এ লঙ্কর ঝঙ্কর মার্কা সড়ক পেরিয়ে শিক্ষাঙ্গনে যেতে হয়। কখন বা দুর্ঘটনার শিকার হয় তারা নিজেরাও জানে না।

আবার কক্সবাজার সদরের জন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামাবাদ-পোকখালী-গোমাতলী যাতায়াত সড়কটি যেন দেখার কেউ না থাকায় মৃত্যুকূপে পরিণত বললেই চলে। যাতে করে বেহাল দশার কারণে যানবাহন চলাচল অনেকটা অনুপযোগী বললেই চলে। অবিলম্বে সড়ক সংস্কারের জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। পাশাপাশি ব্রীজ কালভার্ট  চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জনবহুল এ সড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহন ও লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। প্রতিদিন ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এ সড়কে চলাচলরত লোকজনের মতে, খুব অল্প সময়ে ঈদগাঁও গোমাতলী সড়কের বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। সড়কের পাশাপাশি ব্রীজ কালভার্টগুলো রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।

এলাকাবাসিদের মতে, প্রতিবর্ষায় এ সড়কের ব্রীজ কালভার্টের দু’পাশের এপ্রোচ দেয়ালের মাটি সরে যায়। যার কারণে ব্রীজগুলো সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যানবাহন বৃদ্ধির সাথে সাথে এ সড়ক দিয়ে কোটি টাকার লবণ ও চিংড়ি পরিবহন বাড়ছে। অত্যান্ত জনবহুল এ সড়কটির যত্রতত্র স্থানে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে পড়ায় পথচারী, চালকসহ এলাকাবাসীর চোখে মুখে হতাশার কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে। রিক্সাচালকসহ সাধারণ যাত্রীদের মতে, ঈদগাঁও থেকে গোমাতলী পর্যন্ত পুরো সড়ক খানা খন্দকে ভরে গেছে। যে সড়ক দিয়ে সুস্থ কোন ব্যক্তি গাড়ী নিয়ে চলাচল করলে নির্ঘাত সে রোগীতে পরিণত হবে। এছাড়াও সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্টের বিনিময়ে তাদের প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে যাতায়াত করছে। বিভিন্ন সময় যেভাবে উক্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করা যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। এমনকি উক্ত সড়ক দিয়ে কমপক্ষে বার সহস্রাধিক জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে এ জরাজীর্ণ সড়কের যেন মেরামত করা হয় এজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুদৃষ্টিও কামনা করেন এলাকাবাসী।

অন্যদিকে ঈদগাঁও-পালপাড়া ও রামু উপজেলার ঈদগড় যাতায়াত সড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে পড়েছে। যাতে করে দৈনিক ১৫-২০ সহস্রাধিক লোকজন চলাচলে চরমভাবে দূর্ভোগ আর দূর্গতিতে পড়েছে।

জানা যায়, বিগত বছর কয়েক দফা বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া ঈদগাঁও পালপাড়া-ভোমরিয়াঘোনা-কানিয়াছড়া-ঈদগড় যোগাযোগ সড়ক এখনো সংস্কারের মুখ দেখেনি। বিগত বন্যার প্রায় বছর হলেও যাতায়াত রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। যার ফলে বিশাল এলাকার লোকজনকে নানা কষ্ট আর দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত কাজকর্মে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। এ কষ্ট কখনো ভুলার নয়। আরো জানা যায়, ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কের ভোমরিয়াঘোনা পয়েন্টে গতবছর বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া চলাচল রাস্তা খালে পরিণত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার অসহায় লোকজন প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়েছে। এমনকি ঐ সড়কে চলাচলরত হরেক রকমের যানবাহন চলাচল করতে দারুনভাবে হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়াও ঈদগাঁও-পালপাড়া-ঈদগড় সড়ক দিয়ে লোকজন কানিয়ারছড়া, গজালিয়া, শিয়া পাড়া, ভোমরিয়াঘোনা, চৌধুরী পাড়া, পালপাড়ার বিভিন্ন এলাকাসহ নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে লোকজন কোন না কোনভাবে যাতায়াত করে থাকে। এমনকি বছরের অন্যান্য মাস এ সড়কে অবস্থানকারী লোকজন ভাল অবস্থায় দিনাতিপাত করলেও বর্ষা মৌসুমে তাদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়ে। সে সাথে উক্ত সড়কের একপাশ ভেঙ্গে ঈদগাঁও নদীর পার্শ্বে স্থানে দেবে যাচ্ছে। এ সড়কের যত্রতত্র স্থানে খানা খন্দক আর বড় বড় গর্তে ছেয়ে গেছে। যাতে করে রাতে নানা যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে কোন না কোন দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকার লোকজন। অপরদিকে সড়কে চলাচলকৃত যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঈদগড়-ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কে যেখানে চলাচলের জন্য সময় দরকার মাত্র ৫০ মিনিট সেখানে সময় ব্যয় হচ্ছে প্রায় দেড় ঘন্টা। আবার ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমও হচ্ছে প্রায় সময়। সাধারণ লোকজনের মতে, অবিলম্বে এ সড়কের সংস্কার দাবী করেন।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com