বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

উখিয়ার ৫ ইউনিয়নে ৫২ গ্রামে বিদ্যুৎ নেই

পেকুয়া বাজারে ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

উখিয়ার ৫ ইউনিয়নে ৫২ গ্রামে বিদ্যুৎ নেই

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া:

বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের দিক নির্দেশনা দেওয়ার প্রেক্ষিতে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বেশ কিছুদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে জোরে-শোরে কাজ করছে। কিন্তু সুবিধাবাদী একটি গ্রুপ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে গ্রামগঞ্জের সহজ সরল গ্রাহকদের নিকট থেকে অভিনব কায়দায় টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় যে অসম প্রতিযোগীতা শুরু করেছে তাতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে স্থানীয় দালাল চক্র অসদুপায়ে সংযোগ দেওয়ার নামে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে উখিয়ায় জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও তা ছিল অত্যন্ত সীমিত আকারে। উখিয়া সদর এলাকায় বেশ কিছু পরিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ হলেও তা ছিল তৎকালীন সময়ের এখানকার মানুষের জন্য দর্শনীয়। জেনারেটরের মাধ্যমে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ দেখার জন্য সে সময় উখিয়া ষ্টেশনে লোক সমাগম হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলেছেন। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও আর্থিক অভাব, অজ্ঞতা সর্বোপরী বিভিন্ন কারণে, অকারণে এ উপজেলার দুই তৃতীয়াংশ পরিবার বিদ্যুৎ সেবা পায়নি। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সরকারি বিদ্যুৎ সেবা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে হস্তান্তর করলে বিদ্যুৎ সেবার বিপরীতে সাধারণ গ্রাহকদের উপর নেমে আসে আর্থিক দুর্দশা।

অভিযোগ উঠেছে, উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে লাভবান করার কুমানষে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল করার প্রেক্ষিতে প্রতিটি মিটারের বিপরীতে ৪/৫শত টাকা করে অতিরিক্ত বিল গুণতে হয়। যা এখনও বিদ্যমান রয়েছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।

বর্তমান সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে গ্রামগঞ্জে জরিপ চালিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের কাজ করছে। গ্রাহকদের অভিযোগ পালংখালী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে। স্থানীয় কিছু দালাল সক্রিয় সদস্যদের কাজে লাগিয়ে পালংখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিটার প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অবৈধভাবে টাকা আদায়কারীর তালিকায় বেশ কিছু বর্তমান সরকারদলীয় নেতাকর্মীও রয়েছে। এভাবে গ্রাহক হতে ইচ্ছুক লোকজনদের হয়রানি করার কারণে অনেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে অপারগতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা বলছে, ৬শ টাকার মিটারের বিপরীতে ১২ হাজার টাকা উৎকোচ দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ পর্যন্তও ৫ ইউনিয়নের প্রায় ৫২টি গ্রামের বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় মান্দাতার আমলের কুপিবাতি জালিয়ে দিনাতিপাত করছে। যে কারণে এসব এলাকায় এখনো সেকালের স্মৃতি বহন করছে। উন্নয়ন হচ্ছে না শিক্ষার, এসব এলাকার পরিবেশ রয়ে গেছে আগের মতো।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নুর হোসেন জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য গ্রাহকদের সরাসরি যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া আগে যেসব লোকজন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে ওয়ারিং এর কাজ করেছে, তাদেরকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যেন তেনভাবে প্রবেশাধিকারের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করায় বর্তমানে কোন প্রকার দালাল ফড়িয়াদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে না।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com