Home / প্রচ্ছদ / উখিয়ায় অস্থিত্ব সংকটে বনাঞ্চল

উখিয়ায় অস্থিত্ব সংকটে বনাঞ্চল

উখিয়ায় অস্থিত্ব সংকটে বনাঞ্চল

উখিয়ায় অস্থিত্ব সংকটে বনাঞ্চল

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া :

কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় সরকারি বনভূমি দখলের মহোৎসব চলছে। একের পর এক দখলের পর বনভূমি সাবাড় করে তা পরবর্তীতে অন্যজনকে বিক্রি করে দিচ্ছে চড়া দামে। বনাঞ্চল উজাড় ও দখলের কারণে বনভ’মি অস্থিত্ব সংকটে পড়েছে। তাছাড়া উপজেলার ছোট-বড় প্রায় সব বনাঞ্চলই সংকোচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে আশির দশকের সময় বিগত এরশাদ সরকারের আমল থেকে ধারাবাহিক বনভূমি দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে এখনো চালাচ্ছে এক শ্রেণির ভূমিগ্রাসী ও প্রভাবশালীরা। দিনের পর দিন এসব বনভূমির বনাঞ্চল উজাড় করে গ্রাস করে ফেলায় বর্তমানে বনাঞ্চল শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় এসব বনাঞ্চলের গাছ-গাছালি নির্বিচারে কেটে ফেলে সেখানে নতুন নতুন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছে প্রভাবশালী ভূমিগ্রাসীর দল। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে কাঠচোরদের সখ্যতা রয়েছে। আর এ কারণেই দখল প্রক্রিয়া থামানো যাচ্ছে না বলে খোঁদ বন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা স্বীকার করেছেন।

সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া বনরেঞ্জের আওতাধীন ৫টি ইউনিয়নের ৭টি বনবিটও একটি পরীক্ষণ ফাঁড়ি রয়েছে। এসব বনবিটের আওতায় সাড়ে ১৯ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। এসব বনভূমিকে সবুজ বনায়নের জন্য সরকার এ খাতে বিপুল পরিমান অর্থ বরাদ্দ দিলেও কার্যত এর সুফল উপকারভোগি কিংবা সাধারণ জনগণ পাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাগণ সরকারি বরাদ্দকৃত এসব অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার না করে লুটপাটের কারণে বনভূমি রক্ষা তো দূরের কথা উল্টো কাঠচোর ও ভূমিগ্রাসীদের সাথে যোগসাজস করে দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করে থাকেন।

উখিয়ার টিএনটি গ্রামের সামাজিক বনায়নের উপকারভোগি কবির আহম্মদ সওদাগর জানান, বিভিন্ন নাম সর্বস্ব ভুয়াঁ ও অস্থিত্বহীন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিমালিকানাধিন স্থাপনার আড়ালে দখল হয়ে যাচ্ছে এসব বনভূমি।

পরিবেশবাদী সচেতন মহলের মতে, বনাঞ্চল উজাড়ের পর আশংকাজনকভাবে দখল প্রবনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে কাজির গরু গোয়ালে আছে খেতাবে নেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে উখিয়ার বনাঞ্চলের। স্থানীয় বিট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বনভূমি দখলের সহায়তা করার অভিযোগে উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম, সদর বিট কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও বালুখালী বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহানসহ তিনজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে উর্ধতন বন কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের লম্বাঘোনা, টিএনটি, ধইল্যাঘোনা, হাজিম্মা রাস্তার মাথা, কুতুপালং, হাঙ্গরঘোনা, পিএফ পাড়া, মধুরছড়া, মাছকারিয়া, মহুরীপাড়া, ফলিয়া পাড়া, হরিণ মারা, দোছড়ি, খয়রাতি, তুতুরবিল, টাইপালং, দরগাবিল ও ডেইলপাড়া। জালিয়া পালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি, ইনানী, নিদানিয়া, রুপপতি, মনখালী, ছেপটখালী, রেজুর মোহনা, মাঙ্গালাপাড়া, সোনারপাড়া, ডেইলপাড়া, পাইন্যাশিয়া, পিনজিরকুল।

এছাড়া পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী, থাইংখালী, রহমতেরবিল, মোছারখোলা ও রত্না এবং হলদিয়া ইউনিয়নের গোরাইয়ারদ্বীপ, গরুবাজার সেতুনি পাড়া, পাগলির বিল, পাতাবাড়ি, থিমছড়ি, ভালুকিয়া, কামরিয়ারবিলসহ শতাধিক বনাঞ্চল এখন জবর-দখলকারীরা গাছ কেটে বনভূমির শ্রেণির পরিবর্তন ও স্থাপনা তৈরী করে অন্যজনকে মোটা অংকের টাকায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

রত্নাপালং ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী জানান, বিগত আশির দশক থেকে এ অঞ্চলের বনবিভাগের জায়গা দখল প্রবনতা চলে আসছে। সামাজিক বনায়নের গাছ উজাড় ও দখল-বেদখলের ঘটনা নতুন নয়।

এ প্রসঙ্গে রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর আহম্মদ জানান, তিনি উখিয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন তাই এসব বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: