শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০৩:১১ অপরাহ্ন

উখিয়ায় জমির মূল্যের চেয়ে রেজিষ্ট্রি খরচ বেশি হওয়ায় বিপাকে কৃষক

map-ukhiya

হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :

কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় সামঞ্জস্যহীন মৌজা রেইটের গ্যাড়াকলে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে কৃষক পরিবার। জমির প্রকৃত মূল্যের চাইতে রেজিষ্ট্রি সম্পাদনে সরকারি ফি’র পরিমাণ অধিকতর বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিপ্রয়োজন বশত: অনেকেই জমি বিক্রি করতে পারছেনা। ফলে একদিকে যেমন কৃষকেরা দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে অন্যদিকে সরকার প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থান ভেদে মৌজা রেইটের পরিবর্তন করার জন্য উখিয়া দলিল লিখক সমিতি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, একই মৌজার অনুকূলে জমির দাম বিশাল ব্যবধান থাকলেও রেজিষ্ট্রারী সম্পাদনে সরকারি ফি অপরিবর্তিত থাকার কারণে জমি জমা রেজিস্ট্রারী সম্পাদন গত বছরের তুলনায় অভবনীয় হ্রাস পেয়েছে। ফলে সরকারের কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। পাশাপাশি জমি জমা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারায় স্থানীয় কৃষক পরিবারগুলো মেয়ে বা ছেলের বিয়ে সাদির মত বৃহত্তম কোন অনুষ্ঠানাদি বা পারিবারিক চিরাচরিত কার্যক্রম সম্পাদন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

উপজেলা দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকের হোছাইন সামঞ্জস্যহীন মৌজা রেইটের তুলনা করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, রত্নাপালং সদর মৌজা নাল জমির মৌজা রেইট ৩১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা, রত্নাপালং মৌজার সদর এলাকায় এক কানি জমি রেজিষ্ট্রি সম্পাদন করতে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা সরকারি ফি পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাও আবার ষ্ট্যাম্প ও অন্যান্য খরচ ব্যতি রেখে। একই মৌজার থিমছড়ি, পাতাবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় এককানি জমির বাজার মূল্য ৩/৪ লক্ষ টাকা। অথচ উক্ত জমি রেজিষ্ট্রি সম্পাদন করতেও একই ব্যয়ভার বহন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় জমির মূল্য আর রেজিষ্ট্রি খরচ তুলনামূলক ভাবে সমান হওয়ার কারণে অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদেও জমি বিক্রি করতে পারছে না।

রাজাপালং মৌজার দোছরী গ্রামের মৃত ছৈয়দ করিমের ছেলে শামশুল আলম জানান, তার একমাত্র মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য এককানি জমি বিক্রি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেও রেজিষ্ট্রি খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা জমি ক্রয়ের অপারগতা প্রকাশ করছে। যে কারণে মেয়ের বিয়ে স্থগিত রাখা হয়েছে। এভাবে জমি ক্রয় বিক্রয় নিয়ে একাধিক সমস্যা সংকট নিয়ে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে উখিয়া উপজেলার অন্তত ১৩টি মৌজার অসংখ্য কৃষক পরিবার।

উপজেলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি ছৈয়দ কাশেম ভেন্ডার জানান, সদর এলাকার জমির মূল্যের চাইতে একই মৌজার প্রত্যন্ত এলাকার জমির মূল্যের বিশাল ব্যবধান। তিনি একটি জমির মূল্য উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, উখিয়া সদর স্টেশনের আশে পাশে এককানি জমির মূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। অথচ একই মৌজার পূব ডিগলিয়া, চাকবৈঠা, করইবনিয়া, ডেইলপাড়া, দরগাহপালং এলাকায় এককানি জমি বিক্রি হচ্ছে ৩/৪ লক্ষ টাকায়। অথচ রেজিষ্ট্রি সম্পাদন ক্ষেত্রে একই ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে ক্রেতাকে। যে কারণে সদর এলাকার বাইরে জমি জমা বেচা বিক্রি হচ্ছে না। তিনি প্রতিটি সদর এলাকার সাথে প্রত্যন্ত এলাকার মৌজা রেইট পৃথকী করণের দাবী জানান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সদর ও প্রত্যন্ত এলাকায় জমির মূল্য কম বেশির বিশাল ব্যবধান হলেও রেজিষ্ট্রি ক্ষেত্রে অনুরূপ মৌজা রেইট কমবেশী করা হলে জমি হস্তান্তর আশানুরূপ বেড়ে গিয়ে সরকারি কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com