বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন

উখিয়ায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ মহিলার বিরুদ্ধে ৫টি হয়রানিমূলক মামলা

Mamla- 1হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া :

বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে তাঁর শরীর। ৪ ছেলে-মেয়ে নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে তাঁর পরিবার। ষাটোর্ধ্ব রশিদা খাতুন শুধু শারীরিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না তা নয়; সমাজের একশ্রেণির সভ্যসাচী নামধারী প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের অব্যাহত শারীরিক-মানষিক জ্বালা-নির্যাতনে অচল হয়ে পড়েছেন তিনি। ওই ভূমিগ্রাসীচক্র কোন ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে বাহুবলে দেওয়াল নির্মাণ করে রুদ্ধ করে দিয়েছে তাঁর চলাচলের পথ।

জীবন প্রদীপ নিভু নিভু অবস্থায় রশিদা খাতুনের উপর ভূমিগ্রাসীদের কেন এ নির্মমতা এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষ আর সুশীল সমাজের মধ্যে।

দ্বিতীয় বিবাহ করাই কি রশিদা খাতুনের অপরাধ? ষোড়শী রশিদা খাতুন প্রায় ৫০ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ করেন কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার পশ্চিম রত্নাপালং গ্রামের মোক্তার আহমদ কে। রশিদা খাতুনের স্বামী মোক্তার আহমদের ঔরশে জন্ম নেয় ৩ ছেলে আর ১ মেয়ে। প্রায় ৫০ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে এখন তাঁকে আর প্রয়োজন মনে করছে না স্বামী।

একদিকে মোক্তার আহমদের ২য় স্ত্রী আর অন্যদিকে তাঁরই ঔরশজাতে ৪ ছেলে-মেয়ে নিয়ে এতদিন অতীব দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন।

এখন কোথায় যাবে অসহায় গরীব বায়োবৃদ্ধ রশিদা খাতুন? ভূমিগ্রাসীদের লুলোপ দৃষ্টির কারণে কোন ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে তাঁকে। এ যেন নিজ দেশে থেকেই পরবাসী। তাঁর উপর এ নিগৃহের কারণ স্বামীর ২য় স্ত্রী এবং ২০ শতক ভিটি জমিতে ৪ সন্তান নিয়ে বসবাস করাই যেন তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। স্বামী ও তাঁর ১ম স্ত্রীর সন্তানদের অব্যাহত নির্যাতন, ৩ সন্তানের বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলার খড়ক সর্বশেষ যাতায়তের পথে ভূমিগ্রাসী আবদুল হক গং কর্তৃক দেওয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। স্বামী ও তাঁর ১ম স্ত্রীর সভ্যচাষী সন্তানদের ষড়যন্ত্র আর বাস্তুভিটি থেকে উচ্ছেদ করার কু-মানসে পথ রুদ্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ভূমিগ্রাসীদের এহেন অপরাধের বিচার চেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাস্তুভিটি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করে থেমে নেই ভূমিগ্রাসী মোক্তার আহমদ ও তাঁর ১ম স্ত্রীর সন্তানেরা। অসহায় গরীব রশিদা খাতুনের একমাত্র সহায় সম্বল মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নেওয়ার জন্য চায়ের দোকানের কর্মচারী তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে একের পর এক ৫টি হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা।

এখন আবার যোগ হয়েছে কালো অধ্যায়। যার বর্ণনা খুবই মর্মাহত বেদনাদায়ক। রশিদা খাতুন ৪ ছেলে-মেয়ে নিয়ে পার করছে বেদনাহত অধ্যায়। তাঁর বেদনাহত কালো অধ্যায়ের শুভ সূচনা লগ্নে লিপ্ত রয়েছেন তারই স্বামী মোক্তার আহমদ ও তাঁর পুত্র আবদুল হক গং। রশিদা খাতুনের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটি দখল নিতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তারাই।

জানা যায়, উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার স্টেশনের আশপাশের জমির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভূমিগ্রাসী আবদুল হক গং অসহায় বৃদ্ধা রশিদা খাতুনকে উচ্ছেদ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমিগ্রাসী আবদুল হক গং কোন ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করে বাহুবলে রশিদা খাতুনের চলাচলের পথে দেওয়াল নির্মাণ করে রুদ্ধ করে দিয়েছে তাঁর চলাচলের পথ।

অসহায় বৃদ্ধা রশিদা খাতুন আমাদের সময়কে বলেন, আমার দুই ছেলে হোটেলে চাকুরী করে কোন রকম দিনাতিপাত করে আসছি। এরপরই ভূমিদস্যু ওই চক্রটি আমার একমাত্র সম্বলটি কেড়ে নেওয়ার জন্য আমার ছেলেদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে ৫টি মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে। তিনি আরও জানান, যাতায়তের পথে দেওয়াল নির্মাণ করে আমার চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়ে আমার ছেলে সন্তানদের জিম্মি করে রেখেছে। অসহায় বায়োবৃদ্ধ রশিদা খাতুন প্রভাবশালী ওই ভূমিগ্রাসী কর্তৃক হয়রানী বন্ধে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com