Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / উত্তর নলবিলা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা তদারকীর কেউ না থাকায় বেহাল অবস্থা

উত্তর নলবিলা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা তদারকীর কেউ না থাকায় বেহাল অবস্থা

Bazar - Kazal - 13-2-16- (news 1pic) f1শহীদুল ইসলাম কাজল, মহেশখালী :

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হাঠ-বাজারের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা তদারকীর কেউ না থাকায় বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে বাজার এলাকায়। বাজারের নোংরা পরিবেশ, বিশেষ করে ড্রেনের অবস্থা দেখে অনেকেই মন্তব্য করতে শুনা যায় হাঠ-বাজার নয়, এ যেন “ডাষ্টবিন”।

সরজমিনে দেখা যায়, যে সব বাজারে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে সে সব বাজার গুলোর ড্রেনের বর্তমান অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় মন্তব্য যথার্থই হয়েছে। এছাড়া যে সব বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা কিংবা আর্বজনা রাখার নির্দিষ্ট স্থান (ডাষ্টবিন) নেই সেখানে দিনের পর দিন যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকায় দূর্ঘন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশের ক্ষতি করলেও কর্তৃপক্ষের তা নিয়ে মাথা ঘামানোর যেন সময় নেই এমন অভিযোগ সচেতন মহলের। বাজারের নোংরা পরিবেশে জন্ম নেওয়া মশা মাছি থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিক্ষর জীবাণু বাহক কীটপতঙ্গ গুলো বাজারে খাদ্য সামগ্রী ও চায়ের দোকানে উম্মুক্ত পরিবেশে রাখা নাস্তায় জীবাণু ছড়িয়ে রোগব্যাধি সৃষ্টি করে থাকেন বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। যেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সবগুলো বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়, সেখানে বাজারের নোংরা পরিবেশ কোন অবস্থায় কাম্য নয় বলে জানান কালারমারছড়ার উত্তর নলবিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল আলম।

প্রত্যেকটা বাজারে পরিচালনা কমিটি থাকলেও বাজারের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ রক্ষায় তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়না এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরজমিনে দেখা যায়, মাতারবাড়ি পুরান বাজার, কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা (বডুয়া) বাজার, ইউনুছখালী বাজার, কালারমারছড়া বাজার, হোয়ানক ইউনিয়নের হোয়ানক টাইম বাজার, বড় মহেশখালী নতুন বাজার, শাপলাপুর বাজার, কায়দাবাদ বাজার ও গোরক ঘাটা বাজার এলাকায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা রেখে বাজারের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের হলেও দেখার যেন কেউ নেই। বিশেষ করে মাতারবাড়ী পুরানবাজার ও কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তরনলবিলা (বডুয়া) বাজারের ড্রেনগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরাট হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাজারে দূর্ঘন্ধ ছড়াচ্ছে। উত্তর নলবিলা বাজারের পানি চলাচলের ড্রেনগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে রাখায় মাঝে মধ্যে অল্প বৃষ্টিপাতে রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বাজার এলাকার রাস্তায় দেখা দেয় ভাঙ্গন। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকে ড্রেনের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার না করায় ড্রেনগুলোতে ভ্যান ভ্যান করছে মশা মাছি।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাজার এলাকায় সরকারী ভাবে নির্মিত টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগের কারনেও বাজারের স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

মহেশখালীর অনেক সচেতন মহল অভিযোগ করেন স্যানিটেশন কর্মকর্তার গাফিলতির কারনে হাঠ-বাজার গুলো ডাষ্টবিন-এ পরিণত হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া যায়, মাঝে মধ্যে স্যানিটেশন কর্মকর্তা নামে মাত্র বাজার পরিদর্শনে আসলেও অভিযুক্তদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ম্যানেজ হওয়ায় পরিদর্শনের কোন সুফল পাচ্ছেনা জনগণ। বাজারের নোংরা পরিবেশ নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নোমান হোসেন’র দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিৎ কল্পে ইতোমধ্যে মহেশখালীর কিছু বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। প্রত্যেকটা বাজার পরিচালনা কমিটির বরাবরে বাজারের পরিবেশ রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। এর পরেও যদি বাজারে নোংরা পরিবেশ পরিলক্ষিত হয় তাহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

%d bloggers like this: