Home / প্রচ্ছদ / একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর রাজনৈতিক জাতীয় নেতাদের কাছে খোলা চিঠি

একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর রাজনৈতিক জাতীয় নেতাদের কাছে খোলা চিঠি

একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর রাজনৈতিক জাতীয় নেতাদের কাছে খোলা চিঠি

একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর রাজনৈতিক জাতীয় নেতাদের কাছে খোলা চিঠি

আমি মাহফুজুর রহমান। কক্সবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০১৬ সালের মেট্রিক (এসএসসি) পরীক্ষার্থী। শিক্ষা জীবনে আমি আনন্দ বলতে খুব কম পেয়েছি। ২০১০ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) বাদ দিলে শিক্ষা জীবনে আনন্দ বলতে পাইনি। ২০১০ সালে স্কুলের সেরা নাম্বার পেয়েছিলাম বলে মা-বাবা আমাকে চট্টগ্রামে বেড়াতে নিয়ে যান। যাক সেবার খুব মজা পেয়েছিলাম। আমার বুদ্ধি জীবনে এটাই সর্বোচ্চ ভ্রমণ। স্কুলের ১ম হলাম, কিন্তু আমি কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারায় ভাই-বোন, মা-বাবার কাছে আজও মন ছোট করে থাকি। কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারলেও ভর্তি হয় কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি উচ্চ বিদ্যালয়ে। ২০১৩ সালে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ- ৪.৫৬ পেয়ে পারিবারিক মান সম্মান বাঁচলেও নিজের মা-সম্মান খুবই খর্বিত হয়। তার উপর যদি পাশের বাসার এক বন্ধু জিপিএ- ৫.০০ পান! তাহলে তো আর বলার কিছু নেই। তাই বাবার বকুনি খেতে হল মাস দুয়েক, আমার মান সম্মান গেল রেজাল্টে। পড়ালেখায় আমি দুর্বল, তারপরও বাবার আশা আমি প্রকৌশলী হব। বাবা আমাকে মাঝে মাঝে কেঁদে কেঁদে বলে, “আব্বু তোরা পড়ালেখা কর, টাকার কোন চিন্তা করবি না, আমি জায়গা বিক্রি করব, ঘর বিক্রি করব, তাও না হলে গায়ের রক্ত বিক্রি করে হলেও তোদের মানুষ করব”।

আমরা ৫ ভাই, বড় জন অর্থ উপার্জনকারী। ছোট ৩ জন নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছি। বাবার স্বপ্ন একাদশের জন আইনজীবী, নবমের জন ডাক্তার ও আমি প্রকৌশলী।

যাক আসল কথাটা বলি, আমি মুক্তিযোদ্ধাকে বুকে রেখে মানুষ হতে চাই। তাই জাতির সেবা করার জন্য একন আদর্শ মানুষ হতে চাই। সে জন্য তো ৮-৯ ঘন্টা পড়ালেখা করছি। বড় ভাই অনিক ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিনটি এনে দিলেন। রুটিনটা দেখে সত্যিই খুব ভাল লেগেছে, মনে হয় এবার বাসার পাশের ছেলেটার রেজাল্ট আর আমার রেজাল্ট এক হবে ইনশাল্লাহ। বাবাও আমাকে আর বকাঝকা করতে পারবেন না। এলাকার ছেলেরাও আমাকে হিংসা করতে পারবে না, কারিগরি বিভাগে পড়ি বলে! মনে হয় এবার বুক ফুলিয়ে চলতে পারব এলাকায়। কিন্তু মনে ভয় জাগে… কখন যে চলে আসে হরতাল!!!

দেশের সব ছেলে আমার মত আশা নিয়ে বসে আছে পরীক্ষা দেয়ার জন্য। এখন সবার মুখে একই কথা, হরতাল হলে…!! জাতীয় নেতাদের পায়ে পড়ে আজ আমি লাখো পরীক্ষার্থীর হয়ে একটা কথা বলতে চাই, “ম্যাম ও স্যাররা, প্লিজ ৫০টা দিন হরতাল নয় (১লা ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চ)।” হরতাল দিলে নকলবাজদের জন্য ভালো, ভালো যারা পাশ হতে চাই। কিন্তু তাদের জন্য খুবই খারাপ, যারা পাশের বাসার ছেলের মতো রেজাল্ট করতে চাই!!!

২০ লাখেরও বেশী পরীক্ষার্থীর হয়ে আমি আবারও বলছি, প্লিজ… হরতাল নয়। এই ৫০টি দিন হরতাল দিলে যেসব ছাত্র পাশের বাসার ছাত্রের মতো রেজাল্ট করতে পারবে না, তারা কী কখনো আপনার মতো নেতার দলকে সমর্থন করবে??? সর্বশেষ আমি আবারও বলছি, প্লিজ ২০ লাখেরও অধিক সমর্থকের কথা চিন্তা করে এই ৫০টি দিন বাংলাদেশকে হরতাল মুক্ত রাখুন। যদি তা না করেন- তাহলে আমার মত আরও অনেক ছেলে বাবার বকা ছেয়ে ভেঙ্গে পড়বে। মায়ের মুখের কান্না দেখবে, আর বাবার চিরনিদ্রার কবরে গিয়ে বলতে পারবেন না, বাবা আমি জিপিএ- ৫.০০ পেয়েছি। আমারও হয় তো আবার সেই দিন ধরে গুণতে হবে, কখন পাশের বাসার ছেলেটাকে হারাতে পারব! তার জন্য দিন গুণতে হবে আরও দু’বছর, এই দু’বছরে খেতে হব বাবার বকানী, বন্ধুর অপমান। হয়তোবা মাঠেও খেলতে যেতে পারব না, বছর দুয়েক! সেই দু’বছর পর যদি আবার পুরনো দিন চলে আসে, সেই পরীক্ষার আগের দিন টিভিতে হেড লাইন “আগামীকাল হরতাল”।

প্লিজ ম্যাম ও স্যার, আপনাদের করুণ মিনতি করে বলছি- পরীক্ষার দিনগুলো যে হরতাল মুক্ত দিন হই। পরিশেষে দেশ ও দশের মঙ্গল কামনা করছি। জয় হোক বাংলাদেশের, এগিয়ে যাও সোনার বাংলাদেশ এই কামনা করছি।

লেখক : ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

%d bloggers like this: