Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / জাতীয় / এরশাদের নামে যত মামলা

এরশাদের নামে যত মামলা

Ershadসামরিক শাসক হিসেবে ক্ষমতা থেকে পতনের পর রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন বা টিকে আছেন, এমন ইতিহাসে বিরল। সেদিক থেকে অনেকটা নজির স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ৯ বছরের ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়ে এই রাজনীতিক প্রায় অর্ধযুগের মতো কারাগারেও ছিলেন। প্রায় ২৪ বছর একটানা ক্ষমতার বাইরে তিনি। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাবেন বলে নিজেও আশা করেন না। তবে রাজনীতির মাঠে বরাবর আলোচিত থাকেন বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এই প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

রাজনীতির টানাপোড়েনের মাঝে এরশাদের সবচেয়ে বড় পিছুটান মামলা। ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে এযাবৎকাল তার বিরুদ্ধে ৪২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়টি মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কিছু মামলা হয়েছে স্থগিত। আর কিছু এখনো গলার কাঁটা হিসেবে রয়ে গেছে।

এরশাদের আইনজীবীর দেওয়া তথ্যমতে, টিঅ্যান্ডটি মামলা, বিটিভির ক্যাবল ক্রয় মামলা, স্বর্ণ মামলা, আয়কর ফাঁকি মামলা, জাপানি বোট ক্রয় মামলা, রাজউক প্লট বরাদ্দ মামলা, হোটেল হলিডে-ইন দুর্নীতি মামলা, নির্বাচনী হিসাবে ফাঁকিবিষয়ক মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা স্থগিত হয়ে আছে দীর্ঘদিন।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যে কয়টি মামলা সচল রয়েছে, তার মধ্যে আলোচিত মঞ্জুর হত্যা মামলা ও রাডার ক্রয় দুর্নীতি মামলা।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সেনা-অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুরকে ২ জুন হেফাজতে নেওয়ার পর গুলি করে হত্যার বিষয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি হয়েছে। ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন। ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। ২০ বছর আগে করা এই মামলাটি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। বর্তমানে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচার চলছে।

আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু এর আগেই ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক এক আদেশে বিচারক হোসনে আরা আকতারকে পরিবর্তন করা হয়। তার জায়গায় আসেন দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাসান মাহমুদ ফিরোজ। এরপর বিচারক মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

এরশাদের আইনজীবীর দেওয়া তথ্যমতে, গত বছরের ১২ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শেষ সময় ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ এতে ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এর জন্য আরেকটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে এ মামলার বিচারকাজ চলছে।

এদিকে ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো এরশাদের বিরুদ্ধে রাডার ক্রয় মামলা করে। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ফ্রান্সের থমসন সিএসএফ কোম্পানির অত্যাধুনিক রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিন কোম্পানির রাডার কিনে সরকারের ৬৪ কোটি চার লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি করেছিলেন। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট এরশাদসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিত ছিল।

সাক্ষ্যগ্রহণে কোনো বাধা না থাকলেও ২০০৯ সাল পর্যন্ত দুদক বাদী আলী হায়দারকে আদালতে হাজির করেনি। মামলার ১৮ বছর পর ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট শুরু হয় বাদীর সাক্ষ্য। প্রায় ১০টি ধার্য তারিখ পর ২০১২ সালের ১ মার্চ বাদীর সাক্ষ্য শেষ হয়। বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আরও ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। বর্তমানে মামলাটি যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় উপহারসামগ্রী আত্মসাৎ মামলা নামে আরও একটি মামলা এরশাদের বিরুদ্ধে সচল রয়েছে বর্তমানে। এইচ এম এরশাদ ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতায় থাকাকালে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী পান। এসব সামগ্রী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগে ১৯৯১ সালের ৮ জানুয়ারি তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর উপপরিচালক সালেহউদ্দিন আহমেদ ক্যান্টনমেন্ট থানায় এরশাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়। এ মামলায় ১৯৯২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এরশাদকে তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন।

এ ছাড়া ১ কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকা জরিমানা ও একটি টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৯২ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন এরশাদ। হাইকোর্ট জরিমানার আদেশ স্থগিত করে বিচারিক আদালতের নথি তলব করেন।

এরপর ২০ বছরে এই আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। এরশাদের করা আপিলে দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে পক্ষভুক্ত না করে সরকারকে পক্ষভুক্ত করা হয়। ২০১২ সালের ১১ জুন আপিলে পক্ষভুক্ত হতে দুদক তাদের আইনজীবীকে একটি চিঠি দেয়। এ চিঠি অনুযায়ী দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ১৩ জুন হাইকোর্টে পক্ষভুক্তির আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ দুদকের পক্ষভুক্তির আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এ মামলাটিও বর্তমানে বিচারাধীন।

পর্যবেক্ষকদের অনুমান, এরশাদ সরকারবিরোধী অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে স্থগিত মামলাগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র:ওয়াননিউজবিডিডটকম,ডেস্ক।

%d bloggers like this: