Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / বিনোদন ও সাংস্কৃতিক / কক্সবাজারের নাট্য শিল্পী ও দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অভিনয়ে ধারাবাহিক নাটক ‌‌‌‍‍‍‌‌উজান গাঙের নাইয়া এটিএন বাংলায় ২৩

কক্সবাজারের নাট্য শিল্পী ও দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অভিনয়ে ধারাবাহিক নাটক ‌‌‌‍‍‍‌‌উজান গাঙের নাইয়া এটিএন বাংলায় ২৩

Drama Dipuকক্সভিউ রিপোর্টার : কক্সবাজারের নাট্য শিল্পী ও দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অভিনয়ে ধারাবাহিক নাটক উজান গাঙের নাইয়া এটিএন বাংলায় ২৩ জুন মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪০মিনিটে প্রচারিত হবে। প্রতি মঙ্গলবার ধারাবাহিক এ নাটকটি প্রচারিত হবে একই সময় এটিএন বাংলায়। প্যারামেটিক আনিকা ও ডাঃ নাঈমের পদায়ন হয় সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল স্বাস্থ্য ক্লিনিকে। এখানকার উপকূলীয় এলাকার মানুষ হাসপাতালে গিয়ে চিকিত্সা সেবা নেয়ার চাইতে বৈদ্য, কবিরয়াজি, গ্রামের হাতুড়ি ডাক্তারের কাছে চিকিত্সা নিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। আর গর্ববতী মহিলা হলে তো কথাই নেই। ঘর থেকে বের হওয়া যাবেনা। এমনকি সেই পুরানো ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে ঘরেই সন্তান প্রসব করতে হবে। এমন কঠিন বাধ্যবাধকতা, পশ্চাদপদতা ও গোড়ামীর কারণে গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ডাঃ নাঈম ও প্যারামেটিক আনিকা পরিবর্তনের আওয়াজ তোলে। ভালো-মন্দ বুঝিয়ে জেলেপল্লীর মানুষকে হাসপাতালমূখী করে তোলে। উত্তাল সমুদ্রে জেলেদের সংগ্রামী জীবন, জেলে পল্লীর মানুষের নানা ঘটনা দুর্ঘটনার সাথে একাকার হয়ে যায় ডাঃ নাঈম ও প্যারামেটিক আনিকা। অজ্ঞতা, অনগ্ররসতা, পশ্চাদপদতা আর গোড়ামিকে জয় করে এখানকার মানুষ আধুনিক চিকিত্সাকে গ্রহন করে গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকদের বাঁচা আর ভালো থাকা নিশ্চিত করেছে। উপকূলবাসীর অন্য সব নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে বের হতে না পারলেও এখানকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহনে আর নিজেদের জীবন সুরক্ষায় ঐক্যমত। রোগাক্রান্ত থেকে মুক্তি পেতে তত্পর হয়ে উঠে। সংগ্রামী জীবন, ভালবাসা, বন্ধুত্ব, লোভ, আশা, হতাশা, নতুন জীবন শুরু, সংকল্প নিয়ে উজান গাঙের নাইয়াদের জীবনগাঁথা। আর এ জীবন গাঁধা নিয়ে জীবনমুখী একটি চ্যালেঞ্জিং ধারাবাহিক টেলিভিশন নাটক তৈরি হয়েছে কক্সবাজারে। ১৯০ জন অভিনয় শিল্পী ও ২৫ জন নেপথ্যের কলাকৌশলীদের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে “উজান গাঙের নাইয়া-২” এর ১০ পর্বের নাটক। কক্সবাজারের ৬৭ লোকেশানে ধারণ করা হয়েছে নাটকের দৃশ্য। ঝুঁকিপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং দৃশ্য ধারণের বিশাল ইউনিট নিয়ে নির্মিত নাটকটি বছরের সেরা কাজ। ১০ পর্বের নাটকের জন্য এত বড় বিশাল কাজ আগে হয়নি বলে জানিয়ে উজান নাঙের নাইয়া-২ এর পরিচালক বাশার জর্সিস বলেন, নাটকটি আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ নীতিমালার আলোকে তৈরি হয়েছে। সমাজে নাটকটির ব্যাপ্তি ও গুরুত্বানেক বেশি। এ নাটকে সব চরিত্র বাস্তবতার সাথে মিল রেখেই বিশ্বাসযোগ্যতা ফুটয়ে তোলা হয়েছে। প্রচারের পর বুঝা যাবে এটি একটি মাইলফলক কাজ। নাটকে সন্তান প্রসাবের চ্যালেঞ্জিং দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। ডেলিভারি দৃশ্যের চ্যালেঞ্জিং দৃশ্যের টেকনিক্যাল টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন লন্ডনের মিসেস টেরি। তিনি লন্ডনে এ বিষয়ে ফিল্মে ৩০ বছর ধরে কাজ করছেন। বাশার জর্সিস বলেন, কক্সবাজারের নাট্যযুদ্ধের নাট্যশিল্পী ও রামুর সমস্বারের নাট্যকর্মীরা এ নাটকে অভিনয় করেছেন। তাদের অংশগ্রহণ না থাকলে বিশাল ব্যাপ্তির এ নাটকটি নির্মাণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তো। ডিএফআইডি বাংলাদেশের অর্থায়নে বিবিসি মিডিয়া এ্যাকশন প্রযোজিত উজান গাঙের নাইয়া-২ এর নির্বাহি প্রযোজক হিমেশ কর নাটকের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে বলেন, নবজাতক শিশু ও গর্ভবতী মায়ের প্রতি যত্নের ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার লক্ষে মূলক নাটকটি তৈরি করা। জেলেদের ঘটনাবহুল জীবন নিয়ে তৈরি পরিপূর্ণ একটি বাস্তবধর্মী নাটক। এর আগে বিটিভিতে প্রচারিত ‘উজান গাঙের নাইয়া-১’ ১৬ পর্বের নাটকটি দেশের ৩৫ মিলিয়ন জনগণ দেখেছেন। আশা করা হচ্ছে এবার তার দ্বিগুণ দর্শক উজান গাঙের নাইয়া-২ এর ১০ পর্বের নাটকটি উপভোগ করবেন। উজান নাঙের নাইয়া-২ এর নাটকের দু’রচয়িতা রফিকুল ইসলাম পল্টু ও সুভাশিষ সিংহা বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার ঘটনাবহুল জীবন নিয়ে বাস্তব বিশ্বাসের নিরিখে নাটকটির গল্প তৈরি হয়। জেলে পল্লীর স্বাস্থ্য, জেলেদের সংগ্রামী জীবন, লোভ, ষড়যন্ত্র, ভালোবাসা, প্রত্যাশা, বন্ধুত্ব সব মিলিয়ে একটি নান্দনিক গল্পের পরিপূর্ণ স্বাদ পাওয়া যাবে এ নাটকে। নাটকটির প্রধান সহকারী পরিচালক চন্দন খান বলেন, উত্তাল সমুদ্রের ঝুঁকিপূর্ণ চিত্রধারণ ও চ্যালেঞ্জিং কিছু দৃশ্য দর্শকের মন কাড়বে। সহকারী পরিচালক আয়েশা মনিকা ও আবুল খায়ের কমল বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসনের সহযোগিতার কারণে লোকেশন নির্ভর বিশাল কাজের এ নাটকটি নভেম্বর ও ডিসেম্বর একটানা দু’মাস উপযুক্ত পরিবেশে স্যুটিং করা সম্ভব হয়েছে। এ নাটকে অভিনয়ে খ্যাতনামা অনেক শিল্পীদের মধ্যে তারিক আনাম খান, লুত্ফুর রহমান জজ, চম্পা, রিয়াজ, আফরোজা বানু, শতাব্দি ওয়াদুদ, তিতাস জিয়া, ফারহানা মিলি, অর্চিতা স্পর্শিয়া, ফজলুল হক, নন্দিনী শিমু, জেবুন্নেসা টুনটুনি, আইনুন পুতুল, নয়ন, জয়িতা, চিনময়ীরা কাজ করেছেন। কক্সবাজার থেকে এ নাটকে অভিনয় করেছেন দীপক শর্মা দীপু, মোঃ শাহনেওয়াজ, বিপুল সেন, মোঃ মহিম, সোহেল রানা, ইমরান জুয়েল, সুভাষ দর, মোহাম্মদ উর রহমান মাসুদ, সামিরা নেওরাজ সোমা, শারমিন শওকত, করবী পাল, পূর্ণিমা বড়ুয়া, শাশ্বতি বড়ুয়া, অদিতি বড়ুয়া মুমু, রাতুল দাশ। কক্সবাজারের নাট্যশিল্পী দীপক শর্মা দীপু বলেন, এ নাটকে বিশাল ইউনিটের সাথে কাজ করতে পেরে ধন্য মনে করছি এবং অনেক বেশি উত্সাহ পেয়েছি। নাটকে কক্সবাজারের শিল্পীদের অভিনয়ে সুযোগ দেয়ায় বিবিসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উল্লেখ্য ১০ পর্বের এ নাটকটি চলতি মাস ২৩ জুন মঙ্গলবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে এটিএন বাংলায় প্রচার হবে। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন সিরিয়াল প্রচার হবে।

%d bloggers like this: