Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / কক্সবাজারের লালদীঘি সংস্কার কাজ চলছে : ঘুছতে চলেছে মুচিদের দুঃখ

কক্সবাজারের লালদীঘি সংস্কার কাজ চলছে : ঘুছতে চলেছে মুচিদের দুঃখ

Ajit Himu 14-5-16 news 2pic f1 (1)

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সভিউ :

কক্সবাজার শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত লালদীঘির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। কক্সাবাজারের সচেতন নাগরিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ লালদীঘি সংস্কারের কাজ হাতে নিয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে পানি শূন্য হয়ে জনসাধারণের উন্মুক্ত এ লালদীঘি ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছিল। লালদীঘিটি কক্সবাজারের ঐতিহ্যের ধারক বাহক।

শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত এ লালদীঘি একসময় ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। এখানে সাতার প্রতিযোগিতা, বড়শী দিয়ে মাছ ধরাসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত গোসল আসল সহ দৈনন্দিন ব্যবহার ছিল স্বতস্ফুর্ত। বর্তমানে লালদীঘির আগের জৌলুস আর নেই। লালদীঘির পাড় দখলদারদের কবলে চলে গেছে। সংস্কার বিহীন অবস্থায় থাকতে থাকতে লালদীঘি পানি শূন্য হয়ে পড়ে। দৃষ্টি নন্দন এ লালদীঘিতে গ্রীস্মকালে কিশোররা ক্রিকেট খেলার মাঠ হিসাবে ব্যবহার করছে। বলতে গেলে কক্সবাজারের মানুষ এখন পানি সংকটে ভূগছে। একসময় ফায়ার সার্ভিস লালদীঘি থেকে পানি নিয়ে অগ্নিকান্ডের কাজে ব্যবহার করত। এখন লালদীঘি পানি শূন্য হয়ে পড়ায়। পানি নেওয়ার সুযোগ নেই। এককথায় লালদীঘি মরা পুকুর। এ অবস্থায় কক্সবাজারের সচেতন মহল ঐতিহ্যবাহী লালদীঘি সংস্কার করে পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়ে আসছিল।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে লালদীঘি সংস্কারের অংশ হিসাবে পুকুরটির তলদেশ থেকে মাটি কাটার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়াও পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত জুতা সেলাইয়ের দোকান গুলো স্থায়ীভাবে নির্মাণের জন্য পুকুরে পাড়ে স্থায়ী পাকা দালান নির্মাণ কাজও শুরু করেছে।

লালদীঘির পশ্চিম পাড়ে জুতা সেলাইয়ের কারিগর জনৈক শংকর জানান, দীর্ঘ তিনযুগ ধরে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট জুতা সেলাইয়ের কারিগর’রা লালদীঘির পশ্চিম পাড়ে অস্থায়ীভাবে জুতা সেলাইয়ের কাজ করে মানুষের সেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অস্থায়ীভাবে ঝুপড়ি ঘরে ঝড় বাদলে কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করে আসছিলাম। আমাদের দুঃখ কষ্টের কথা চিন্তা করে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী আমাদেরকে স্থায়ীভাবে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আমাদের দোকান গুলো পাকা করণের কাজ শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী জানান, জুতার কারগির’রা দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের এই শহরে ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমাদের সেবা করে যাচ্ছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের কথা চিন্তা করে এবং তাদের সাথে কথা বলে তাদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের দোকান ঘর পাকা করণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন দোকান ঘর গুলো থেকে পৌরসভার রাজস্ব আয় হবে বলেও তিনি জানান।

%d bloggers like this: