মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে লাইসেন্স বিহীন টমটম ও মোটর সাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে

কক্সবাজারে লাইসেন্স বিহীন টমটম ও মোটর সাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে

কক্সবাজারে লাইসেন্স বিহীন টমটম ও মোটর সাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে

কক্সবাজারে লাইসেন্স বিহীন টমটম ও মোটর সাইকেল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সভিউ:

কক্সবাজার পৌর শহর সহ জেলার সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিবন্ধন বিহীন টমটম ও চোরাই মোটরসাইকেল আরোহিরা। এসব মোটর সাইকেলের মাধ্যমে অপরাধ কিংবা মাদক পাচারের কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি অবৈধ টমটমের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত ট্রাফিক জ্যাম। সেই সাথে চুরিও হচ্ছে এসব নিবন্ধন বিহীন অবৈধ টমটম ও মোটর সাইকেল।

রাজস্ব আয়ের কথা বলে অবৈধ টমটম ও মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চলালেও মূলত এই অভিযান চলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্তাবাবুদের আখের গোচানোর জন্য। অবৈধ যানবাহন আটকের নামে এখানে চলছে গণহারে চাঁদাবাজি।

সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আনা চোরাই মোটর সাইকেল এবং লাইসেন্স বিহীন টমটম কক্সবাজার শহর ছাড়াও জেলার চকরিয়া, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, ঈদগাঁও, ঈদগড়, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এলাকায় ছেয়ে গেছে। এসব চেরাই মোটর সাইকেল কিংবা টমটমের নেই কোন নিবন্ধন।

এছাড়া বিভিন্ন শো-রুম থেকে কেনা মোটর সাইকেল ও টমটম গুলোর অধিকাংশই লাইসেন্স বিহীন। বছরের পর বছর নিবন্ধনহীন ভাবে চালানো হচ্ছে জেলার বিভিন্ন সড়ক উপ-সড়কে ওই অবৈধ টমটম ও মোটরসাইকেল।

এসব টমটম ও মোটর সাইকেল নিত্য দাপিয়ে বেড়ালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সড়ক দূর্ঘটনা এবং যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। সমস্যা এখানেই শেষ নয় নিবন্ধনহীন এসব অদক্ষ মোটর সাইকেলারোহি রোমিওদের কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী নারী শিক্ষার্থীদেরকে ইভ্টিজিংয়ের কবলেও পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া, গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় এসব গাড়ি ও গাড়ির চালক বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর পরই পালিয়ে যেতে সুযোগ পাচ্ছে। বার বার অধরাই রয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।

এক সমিক্ষায় দেখা গেছে, চোরই মোটরসাইকেল গুলোর চালকদের মধ্যে বেশীর ভাগই উঠতি বয়সের তরণ। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী মোটর সাইকেল চোরাচালানী সিন্ডিকেট ভারত থেকে চোরাই পথে আনা মোটর সাইকেল যত্রতত্র বিক্রি করে রাতারাতি অনেকে ধনী লোক বনে গেছেন। স্থানীয় ভাবে এসব চোরাই মোটর সাইকেলকে টানা গাড়ি নামে ডাকা হয়।

প্রচলিত বাজার মূল্যের চেয়ে এসব চোরাই গাড়ি অনেক কম মূল্যে পাওয়া যায় বলে ক্রেতাদের দৃষ্টিও এখন সেদিকে। আইনী কোন ঝামেলা পোহাতে হয়না বলে কথিত ক্রেতারা এসব চোরাই গাড়ি স্বাভাবিক গাড়ির মতোই ক্রয় করে থাকেন। অবাধে চোরাই গাড়ি বিকিকিনির কারণে সরকার প্রতি বছর বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার জেলা শহর ছাড়াও জেলার সড়ক উপ-সড়কে কি পরিমাণ নিবন্ধনবিহীন ও চোরাই মোটর সাইকেল এবং টমটম চলাচল করছে তার সঠিক পরিসংখ্যান খোদ কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের কাছেও নেই।

তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবী, এ ধরণের টমটম ও মোটর সাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি হবে বলে তাদের ধারণা।

পুলিশের একটি সুত্র জানিয়েছেন, গত এক বছরে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হয়েছে অন্তত ৩০টির অধিক মোটর সাইকেল।

অপরদিকে চোরাই কিংবা রেজিষ্ট্রেশন বিহীন কোন মোটরসাইকেল আটক করা হলেই রাজনৈতিক নেতাদের তদবির বেড়ে যায়। কতিপয় নেতাদের বাড়াবাড়ির কারণে অনেক সময় অবৈধ মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান কিংবা আটক করা সম্ভব হয় না।

কক্সবাজার যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শাখায় বর্তমানে একজন সহকারী পুলিশ সুপার, ১জন টিআই ও দুইজন সার্জেন্টসহ ১৫জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার শহর ও শহরতলিতে অবৈধ মোটরসাইকেল্ ও টমটম আটক অভিযান চলছে। কাগজপত্রবিহীন টমটম ও মোটরসাইকেল আটকের পর দুই আড়াই হাজার টাকা নগদ্ উৎকোচ নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

কক্সবাজার শহর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চোরাই কিংবা রেজিষ্ট্রেশনবিহীন টমটম ও মোটরসাইকেল আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শহর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং সদর মডেল থানা পুলিশ গত এক বছরে অন্তত এক হাজারের অধিক টমটম ও মোটর সাইকেল আটক করেছে।

এদিকে কক্সবাজারের আঞ্চলিক, জাতীয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা কিংবা বিভিন্ন ভূইফোর মানবাধিকার সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে শহরের প্রধান সড়ক সহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে ওইসব অবৈধ টমটম ও মোটর সাইকেল। এসব অবৈধ টমটম কিংবা মোটর সাইকেল ভূয়া নাম ব্যবহার করে বিনা বাঁধায় প্রশাসনের নাকের ডগার উপর চলাচল করলেও কক্সবাজারের ট্রাফিক পুলিশ এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিতে পড়ছে বলে জানা যায়।

ওই সব টমটম ও মোটরসাইকেলে বেশিরভাগ চালক অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তারা প্রতিনিয়ত বেপরোয়াভাবে টমটম ও মোটর সাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু সহ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে বলে জানা যায়।

সচেতন মহলের অভিযোগ, বর্তমানে কক্সবাজারে ধারণ ক্ষমতার অধিক নামে বেনামে লাইসেন্স বিহীন অবৈধ টমটম ও মোটর সাইকেল চলাচল করার কারণে প্রায় সময় শহরে যানজট লেগে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। কথিত সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী এসব অবৈধ টমটম মালিকদের কাছ থেকে কতিপয় সংগঠনের লোকজন প্রতিমাসে নির্ধারিত অংকের মাসোহারা আদায় করে নিজেদের পকেট ভারী করছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ টমটম ও মোটর সাইকেল চলাচল করার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অবৈধ টমটম মালিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই নিবন্ধনবিহীন টমটম ও মোটর সাইকেল এবং চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামীতে অপরাধ ও চোরাচালান কিংবা যানজটের মাত্রা গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও তখন অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না বলে এলাকার সচেতন মহলের অভিমত।

https://www.facebook.com/coxview

Design BY Hostitbd.Com