Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / জীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশ / কক্সবাজার-টেকনাফ ১২০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের সৌর্ন্দয্যবর্ধনকারী ঝাউবিথি নিধন অব্যাহত

কক্সবাজার-টেকনাফ ১২০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের সৌর্ন্দয্যবর্ধনকারী ঝাউবিথি নিধন অব্যাহত

Tree - Rafiq Kutbaza -13.02.16 (news 1pic) f1রফিক মাহামুদ; কোটবাজার :

কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের ১২০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সৈকতের সৌন্দর্য্যবর্ধনকারী ঝাউ বাগান কেটে সাবাড় করে ফেললেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার মাথাব্যাথা নেই। দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত ঘেঁষে সরকারের বিভিন্ন সময়ে সৃজিত ঝাউ বাগান একদিকে যেমন পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে অন্যদিকে কক্সবাজারের পর্যটকদের পিপাসুদের একমাত্র আকর্ষণীয় মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ভাঙ্গনরোধে এ ঝাউ বাগান বিরাট ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় কিছু সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট ও জবরদখলকারীরা এ ঝাউবাগানের গাছ কেটে নেওয়ার ফলে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সৌর্ন্দয্য বিনষ্টের পাশাপাশি সৈকত এলাকা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক ভারসাম্য দারুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সব ঝাউগাছ কেটে নেওয়ার ফলে নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়ক ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর এ ঝাউ বাগান নিধনের পেছনে স্বয়ং স্থানীয় বনকর্মীদের যোগসাজস রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

কক্সবাজার উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জিএম মোহাম্মদ কবির জানান, ব্যাপকহারে ঝাউগাছ কাটার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার টেকনাফের শামলাপুর, শিলখালী ও জাহাজপুরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঝাউগাছ কাটার সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। জড়িতদের আটক করতে পুলিশ ও বিজিবির সহযোগিতায় কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছি। এতে কেটে নেয়া হাজার হাজার গাছের মধ্যে কয়েকটি উদ্ধার করা গেলেও জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঝাউগাছ নিধনের সঙ্গে বনকর্মীরা জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, বনবিভাগের জনবল সঙ্কট থাকায় বিশাল উপকূল এলাকাজুড়ে থাকা বাগানের ঝাউগাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। মাত্র ৩ জন বনপ্রহরীকে দিন-রাত বিশাল এই বাগান দেখভাল করতে হয়।

স্থানীয়দের কাছে বনপ্রহরীরা ‘মুন্সি’ নামে পরিচিত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারীদের অনেকে বনপ্রহরীর মিথ্যা পরিচয়ে অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে। যার দুর্নামের ভাগীদার হতে হচ্ছে বনকর্মীরা। তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করায় বনকর্মীরা তাদের আটক করতে পারে না। বনকর্মীদের এগিয়ে আসতে দেখলে দৃষ্কৃতিকারীরা দা বা কুড়াল বালিতে লুকিয়ে জেলে সাজে। ফলে তাদের চিহ্নিত করতে অসুবিধায় পড়তে হয়।’

ঝাউগাছ নিধনের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে এখনো তথ্য সংগ্রহ করার কাজ চলছে উল্লেখ করে জিএম মোহাম্মদ কবির জানান, জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত মামলা দায়ের করা হবে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির ঝাউ গাছ সাবাড় করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিতপূর্বক দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্প্রতি টেকনাফের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) সরওয়ার আলমের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর, জাহাজপুরা ও শিলখালী এলাকায় সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ঝাউ বাগানের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রতিবেদন হাতে পেলে দায়ী ব্যক্তিদের ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাসখানেক আগে ওই এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ঝাউগাছ কেটে নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। এসময় বনকর্মীরা অভিযান চালিয়ে ১৪০টি ঝাউগাছ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় বন-আইনে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপকূলীয় সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জিএম মোহাম্মদ কবির জানান, গাছ ও বাগান বন বিভাগের হলেও ভূমির মালিক জেলা প্রশাসন। ফলে জটিলতার কারণে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।

এদিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর, জাহাজপুরা ও শিলখালীর পশ্চিমের সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় তিনটি ঝাউ বাগান থেকে গত এক মাস ধরে প্রায় অর্ধলাখ গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ এলাকার অন্ততঃ আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কেটে নেয়া গাছের গোড়ালিগুলো নিধনের ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করছে।

প্রবীণ সাংবাদিক দৈনিক সৈকতের সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, রিগস গ্রুপের কক্সবাজার এমডি জীবন চৌধুরী ও পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা উখিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রফিক মাহামুদ জানান, উপকূলীয় জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন সময়ে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল ঝাউবাগান সৃজন করেন। দৃষ্টিনন্দন এসব ঝাউ বাগান পর্যটকদের কাছে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূল রক্ষায়ও ভূমিকা পালন করে। যে কোন মূল্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার সৈকত ঘেঁষে সৃজিত ঝাউবিথি রক্ষা করতে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার মারাত্মক ভাবে সৌর্ন্দয্য বিনষ্ট ও প্রাকৃতির ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে।

%d bloggers like this: