মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

কুতুবদিয়ায় উত্তরণ বিদ্যা নিকেতনের বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই

Aniyomনিজস্ব প্রতিনিধি, কুতুবদিয়া:

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নে অবস্থিত উত্তরণ বিদ্যা নিকেতনের সাময়িক ভাবে বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রধান শিক্ষক আহামদ হোছাইন এর বিরুদ্ধে শ্রেণী কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্ঠি,আজ শুরু হওয়া ৮ম ও ১০ম শ্রেণীর মড়েল টেস্ট পরিক্ষা বানচাল, সরকারী বরাদ্দ ও প্রতিষ্ঠানের অর্জিত অর্থ আত্মসাতসহ ব্যাপক অভিযোগ করেন খোদ ওই স্কুলের গভর্ণিং বডি ও শিক্ষক কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় সুত্রে প্রকাশ, উত্তরণ বিদ্যা নিকেতন স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আহামদ হোছাইন সরকারী বরাদ্দ (টিআর, কাবিখা), প্রতিষ্ঠানের অর্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৩ জুলাই গভর্ণিং বডি সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে রেজুলেশনের মাধ্যমে সাবেক প্রধান শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনার ১ দিন পর ২৫ জুলাই দিবাগত রাতে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তকারীরা। এ ঘটনার দায়ে গভর্ণিং বডির সভাপতি বাদি হয়ে বিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রধান শিক্ষককে আসামী করে কুতুবদিয়া থানায় এজাহার দিলে থানা ওসি এজাহারটি মামলা হিসেবে না নিয়ে অভিযোগ হিসেবে নেয়।

২৬ জুলাই বিদ্যালয়ের গভর্ণিং বডি এক জরুরী সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাতেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়। তখন থেকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাতেন বিদ্যালয়ের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর পর থেকে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে বিদ্যালয় পরিচালনার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বিদ্যালয় গভর্ণিং বডি ও শিক্ষক কর্মচারীদের অভিযোগের প্ররিপ্রেক্ষিতে কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের একদল সংবাদকর্মী সরজমিনে গেলে দেখা যায় বিদ্যালয়ের করুণ চিত্র।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাতেনের সাথে কথা হলে তিনি জানায়, বিদ্যালয়ের সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আহামদ হোছাইন বরখাস্ত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ে এসে শ্রেণী কার্যক্রমসহ বিদ্যালয়ের যাবতীয় কর্মকান্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে আসছে এবং আমাকে বিভিন্ন সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। সর্বশেষ গতকাল সকালে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে এসে ৮ম ও ১০ শ্রেণীর শুরু হওয়া মড়েল টেস্ট পরিক্ষা বানচাল করার উদ্দেশ্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা যথাযথ পরিক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করায় শিক্ষক কর্মচারীদের গালিগালাজসহ লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে গভর্ণিং বডি ও শিক্ষক কর্মচারীরা নিন্দা জানিয়ে বিবৃত্তি দিয়েছেন গভর্ণিং বডির সভাপতি ও সদস্যরা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাতেন, সহকারী শিক্ষক আইয়ুব খাঁন, মোঃ মোরশেদ আলম, আকতার হোছাইন, নিজ্জল কুমার শীল, মোঃ হোছাইন, মিনার হোছাইন, নজরুল ইসলাম, আজগর হোছাইন, অরুন চন্দ্র শীল প্রমুখ।

এ ব্যাপারে ৮ ম শ্রেণীর ছাত্র মিনার হোছাইনের সাথে কথা হলে তিনি জানায়, বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক ৮ম শ্রেণীর ফরম পূরণের সময় তিন দফায় অতিরিক্ত টাকা আদায় করতো। যদিও বা সরকারী ভাবে বোর্ডে ৭০ টাকা ফি দেওয়ার বিধান থাকলেও আমাদের বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক ফর্রম পূরণ করার কথা বলে ৫০০ টাকা আদায় করে, আবার রেজিষ্ট্রেশনের কথা বলে ৫০০ টাকা আদায় করে এবং এডমিড কার্ড দেওয়ার সময় ৩০০ টাকা করে সবার নিকট থেকে আদায় করতো।

জনপ্রতি ১৩০০ টাকা দিতে না পারলে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করার সুযোগ দেওয়া হত না। ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী পারভিন আক্তার জানায়, বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক ক্লাসে ছাত্র/ছাত্রীদের অশালীন আচরণ করে থাকেন, কোচিং বাণিজ্যতো লেগে থাকতো। ৯ম শ্রেণীর ছাত্র নূরুল কাদের জানায়, বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক স্কুলের যাবতীয় ফি অতিরিক্ত আাদায় করতো। গরীব ছাত্র-ছাত্রীরা দিতে না পারলে তাদের শিক্ষা জীবন শেষ হয়ে যেত। এ রকম ৮ম শ্রেণীতে দাবীকৃত অতিরিক্ত টাকা দিতে না পেরে আমাদের সহপাঠি নিগার মনি, রিকু আকতার, মিরাজু আকতার, জাকের সুমনসহ অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা জীবন শেষ হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সাময়িক ভাবে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আহামদ হোছাইনের সাথে কথা হলে তিনি জানায়, তার বিরুদ্ধে আনিত সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, গভর্ণিং বডির সভাপতি আমার সাথে শত্রুতামি করে নিয়ম বহিভূত ভাবে বরখাস্ত করেছে। আমি এ ব্যাপারে আদালতে মামলা করলে মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত বরখাস্ত হওয়া আদেশ স্থগিত করে আদেশ দেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ছরওয়ার আলম চৌধুরীর মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানায়, বিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রধান শিক্ষক আমার দায়িত্ব পালনকালে কোন সরকারী দিবস এবং জাতীয় পতকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলনা, শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তাদের সাথে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতো, বিশেষ করে ছাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ করথো। সাবেক জামায়াত এমপি হামিদুর রহমান আযাদ স্কুলের সংস্কারের জন্য ৬টন গম বরাদ্ধ দেয় এবং উপজেলা পরিষদ থেতে আমাদের বিদায়ী ইউএনও ফিরোজ আহম্মদ ৩টন চাল বরাদ্দ দেয়। এগুলো কোন কাজ না করে গভর্ণিং বডিকে অবগত না করে আত্মসাত্ করেছে, সর্বপরি স্কুলের কোন আয় ব্যয় এর হিসাব দিতে না পেরে। সরকারী টাকা আত্মসাত্ এবং স্কুলের অর্জিত টাকা আত্মসাত্ করার কারণে বিদ্যালয়ের গভর্ণিং বডির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধান শিক্ষককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক এসে আদালতের বরখাস্ত হওয়ার স্থগিত আদেশ এনেছে বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গালিগালজ করে মডেল টেস্ট পরিক্ষা বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্র করেন। আদালত থেকে আমাদের বরাবরে কোন আদেশ এখনো পৌছেনি। বিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়কে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

https://www.facebook.com/coxview

Design BY Hostitbd.Com