Home / প্রচ্ছদ / ক্রেল প্রকল্পের প্রকৃতি পরিবেশ সচেতনতা সভায় বক্তারা- বন রক্ষায় সাহসী উদ্যোগ নিয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে

ক্রেল প্রকল্পের প্রকৃতি পরিবেশ সচেতনতা সভায় বক্তারা- বন রক্ষায় সাহসী উদ্যোগ নিয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে

 CREL 13-01-2016বার্তা পরিবেশক:

‘‘সহ ব্যবস্থাপনা আন্দোলনের মাধ্যমে বন পরিবেশ বাঁচাও’’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলায় চকরিয়ার মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের পার্ক অফিস চত্বরে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ইকুসিস্টেম এন্ড লাইভলিহুড্স (ক্রেল) প্রকল্পের উদ্যোগে ১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় বন ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহ-ই-আলম।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ এসএম আবুল হোসেন। উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফ, ক্রেলের কমিউনিকেশন অফিসার সাংবাদিক বিশ্বজিত সেন, খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি বাহাদুর হক, সাধারণ সম্পাদক ও ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী মোকাম্মেল কবির, তমিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওমর হামজা, ঈদগাঁও কলেজের প্রফেসর শফিকুর রহমান, কিশোলয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চৌধুরী মোঃ তৈয়ব, খুটাখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন, ভিলেজার আমানুল ও সৈয়দুল হক, সিএমসির সদস্য আক্তার কামাল, বন সংরক্ষণ ক্লাবের সদস্য ওসমান গনি, সাইদুল আলম, মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

প্রধান অতিথি শাহ-ই-আলম বলেন, বন বিভাগের একার পক্ষে বন রক্ষা করা সম্ভব নয়, তাই সকলকে এক যোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, গাছ চোর জন্ম থেকে চোর নয় তাকে বুঝিয়ে ভাল করতে হবে। যদি না শুনে তবে আইনের আওতায় আনতে হবে। সকল ধরনের জনপ্রতিনিধি প্রশাসনসহ বাংলাদেশের জনগণ আমাদের সাথে আছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও ব্যাপক বন নিধনের কর্মকান্ডকে প্রতিরোধ করতে হবে। বনভূমি জবর দখলের প্রক্রিয়া রুখতে হবে এবং আজ সবাই মিলে সহ-ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে বণ্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা ও জাতীয় উদ্যানের উন্নয়ন করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে রেখে যেতে হবে একটি সবুজ-শ্যামল-সুন্দর পৃথিবী। তিনি বনজ সম্পদ রক্ষায় সাহস নিয়ে বন বিভাগকে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথি সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফসহ অন্যান্য অতিথিরা উল্লেখ করেন, বন হারিয়ে গেলে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পৃথিবী হয়ে উঠছে উত্তপ্ত, মানব বসতি হয়ে ওঠবে ঝুঁকিপূর্ণ। যারা সরকারী পাহাড়ভূমি জবর দখল করছেন তারা জনগণের হক মারছেন, সৃষ্টিকর্তা কখন ক্ষমা করবেন না আর বনবিভাগ আইন অনুযায়ী সকল ব্যবস্থা নিবেন। এসব দখলবাজদের শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে। তারা বন সংরক্ষণ ক্লাবের সদস্যদের বন সংরক্ষণ কাজের প্রসংশা করেন। বিশেষ অতিথিগণ বলেন, প্রকৃতির পেরেক পাহাড়-পর্বত। প্রকৃতি ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকা দায়। এগুলো টিকে থাকলে আমরা বেঁচে থাকব। প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সকলের আন্তরিক হতে হবে। প্রকৃতি ধ্বংসকারীদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। ক্রেল বন বিভাগকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা দিয়ে যাবে।

ক্রেল প্রকল্পের সাইট অফিসার আব্দুল কাইয়ুম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রেল প্রকল্পের কামিউনিকেশন অফিসার বিশ্বজিত সেন। ক্রেল প্রকল্প পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয় ক্রেল প্রকল্প বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন সচেতনতাূলক সভা, পরিবেশ-প্রতিবেশ সম্পৃক্ত ইউনিয়ন ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সভা সচলে সহায়তা করা, সহ-ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষ করে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় পাহারার ব্যবস্থা, বনায়ন সৃজন, জলবায়ু পরিবর্তণ জনিত বিপদাপন্নতা নিরূপন ও অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি এবং গ্রাম পর্যায়ে বাস্তবায়ন, জ্বালানী সাশ্রয় পরিবেশ বান্ধব বন্ধু চুলা বিতরণ ও স্থাপন, বন নির্ভরশীল মানুষদের জলবায়ু সহিষ্ণু ও পরিবেশ বান্ধব টেকসই বিকল্প জীবিকায়নের লক্ষ্যে স্ট্রবেরী, কেপসিকাম, ড্রাগন ফল, টুপি তৈরি, বছরব্যাপী সবজি চাষ, হোটেল ম্যানেজম্যান্ট, খেলনা তৈরি, পোশাক তৈরি ইত্যাদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, পরিবেশ সম্পৃক্ত বিভিন্ন দিবস উদ্যাপন, অনুদান প্রকল্প পরিচালনা, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন এবং প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-ক্লাবসহ সকল তরুন সমাজকে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণসহ আরও অনেক কর্মকান্ড করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বন বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, সিএমসি, ভিসিএফ, সিপিজিসহ বিভিন্নস্তরের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

%d bloggers like this: