Home / প্রচ্ছদ / ঘরহারা ২০ হাজার মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে : চকরিয়ায় ৪দফা বন্যায় ক্ষতি ২’হাজার কোটি টাকা

ঘরহারা ২০ হাজার মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে : চকরিয়ায় ৪দফা বন্যায় ক্ষতি ২’হাজার কোটি টাকা

Flood - Mukul - Chakaria  28.7.2015 -1 (1)মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৪০ দিনের মধ্যে টানা ৪দফা বন্যায় বিভিন্নখাতে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে উপজেলা প্রশাসন খাতওয়ারী ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বরাদ্দের আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বন্যায় উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে। তলিয়ে গেছে মৎস্যঘের। ভেঙ্গে গেছে বেড়িবাঁধ। বাড়ীঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় ২০ হাজার মানুষ এখনো সাইক্লোন শেল্টার ও বেড়িবাঁধের উপর খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সর্বশেষ উপজেলা প্রশাসন ১৩ দফা সুপারিশ তৈরী করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ক্ষতির চিত্রে দেখানো হয়েছে উপজেলার ১৮ ইউনিয়নের ২৫৪ দশমিক ১২ বর্গ কিলোমিটার এলাকার ৬৪ হাজার ২৮৫ পরিবার ও ৩লক্ষ ২১ হাজার ৪শত ২৫ নারী পুরুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যার সময় মহিলাসহ ৪ জন মারা যায়, আহত হয় ১হাজার ৯৫০জন। বসতবাড়ী সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয় ৭হাজার ১৯৮টি, আংশিক ক্ষতি হয় ১৯হাজার ৯শত ৭৪টি। গাবাধি পশু মারা যায় ৫হাজার ৯শত ৪২টি, হাঁস-মুরগী ক্ষতি হয় ৬২হাজার ৩২৭টি। ফসলাধি বিনষ্ট হয় ২হাজার ৯শত ১২ একরের, আংশিক ক্ষতি হয় ৭৮৫ একর জমির। লবণের ক্ষতি হয় ৩হাজার একর জমির। চিংড়ি ঘেরের ক্ষতি হয় ৪৫ হাজার ৫৩১ একর। শিক্ষা প্রতিষ্টান আংশিক ক্ষতি হয় ২৪৭টি, মসজিদ-মন্দির ক্ষতি হয় ২৬৪টি। সড়ক সম্পূর্ণ ক্ষতি হয় পাকা ৫০ কিলোমিটার, কাঁচা ৮০ কিলোমিটার, আংশিক ক্ষতি হয় পাকা ১৫০ কিলোমিটার, কাঁচা ২০০ কিলোমিটার। বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতি ৫৬ কিলোমিটার। মৎস্যখামার ২৭১টি। গভীর নলকুপ ৫০০টি, অগভীর নলকুপ ৮শটি, হস্তচালিত নলকুপ ২০০টি। পুকুর-জলাশয় ৪১৯৮টি, নৌকা ট্রলার ১৬১টি, মাছ ধরা জাল ৪৪৯টি ছাড়াও বিদ্যুৎ, টেলি যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে ক্ষতি হয়েছে। বন্যা ও কোমেনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে বন্যামুক্ত রাখতে মাতামুহুরী নদী খনন ও উভয় পাশে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ৪২১৬ অতিদরিদ্র পরিবারকে ৬মাস বিশেষ ভিজিএফ’র আওতায় আনার সুপারিশ ও করা হয়।
Mukul - Chakaria - 31-7-2015 (1)চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ উঠে দাঁড়াতে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে  ৬মাস বিশেষ ভিজিএফ’র আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীন জনপদের বিভিন্ন রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য খাদ্যশষ্যের বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: