Home / প্রচ্ছদ / ঘূর্ণিঘড় কোমেন’র প্রভাবে কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল বিধ্বস্ত : ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত অব্যাহত

ঘূর্ণিঘড় কোমেন’র প্রভাবে কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল বিধ্বস্ত : ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত অব্যাহত

Ajit - Gurnizor-Komen-30-07-2015অজিত কুমার দাশ হিমু,

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূল ছুঁয়ে উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’র প্রভাবে সমুদ্র উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা বিধ্বস্থ হয়ে ঝাউবিথী ও বাড়ী ঘর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ো বাতাসে উপড়ে যাওয়া গাছের চাপায় টেকনাফের সেন্টমার্টিনে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় কোমেন আরও পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল বৃষ্টি ঝরিয়ে কোমেন ক্রমশ দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা ও অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর সমূহে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি ৩-৫ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়।

সেই সঙ্গে অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধসের শঙ্কার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়াবিদরা।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কক্সবাজার জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে অভ্যন্তরিন সকল ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বুধবার নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা।

ঘূর্ণিঝড় ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি গবাদি পশুর নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনে জনগণকে স্থানান্তর, বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ, মেডিকেল টিম ও হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার জন্য সকল উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা ও আশপাশের এলাকায় টানা বৃষ্টি দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। কক্সবাজার শহরের অনেক এলাকায় সকাল থেকে বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেলার উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে রাত থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে ৭নং বিপদ সংকেত অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস।

%d bloggers like this: