Home / প্রচ্ছদ / চকরিয়ায় জাতীয় শোক দিবসের সভায়-সালাহউদ্দিন সিআইপি

চকরিয়ায় জাতীয় শোক দিবসের সভায়-সালাহউদ্দিন সিআইপি

Mukul - Cakaria - 16.08.2015 - 2মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া :
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কুখ্যাত খুনী বিশ্বাসঘাতকরা স্ব-পরিবারে হত্যা করলেও স্বাধীন বাংলার মাটি থেকে মুছে ফেলতে পারেনি বাঙ্গালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই চেতনা। যুগে যুগে বাঙালি জাতি তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছে এবং করবে। কারণ বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশ কখনো স্বাধীন হতো না। দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কারনে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান এখনও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন এবং থাকবেন।
তিনি বলেন, জাতির জনকের সুযোগ্য উত্তরসুরী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। দেশের আত্মসামাজিক উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সরকার সফল হয়েছেন। বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়তে হলে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামীলীগ সরকারের কোন বিকল্প নেই। তাই সকলকে শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে এবং তার জন্য দোয়া করতে হবে।
রবিবার দুপুরে চকরিয়া পৌরসভার পুরাতন এস.আলম কাউন্টারস্থ জনতা শপিং সেন্টারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদীর সহায়তায় পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শোক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধু’র ঘনিষ্ট সহচর হয়েও বিশ্বাসঘাতক খুনী মোস্তাক সেইদিন ক্ষমতার লোভে বাঙালি জাতির সাথে চরম বেঈমানি করেছিলো। জাতির পিতাকে স্ব-পরিবারে হত্যা করে ঘাতকরা ক্ষমতার মসনদে বসলেও জাতি তাদেরকে ক্ষমা করেনি। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগে এখনো বিশ্বাসঘাতক মোস্তাকদের অনুসারী রয়েছে। তাদের কারণে দলে নেতাকর্মীদের মাঝে ভেদাভেদ ও ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়ন করতে হলে নেতাকর্মীদেরকে সেইসব বিশ্বাসঘাতকদের এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ তাঁরা সবসময় আওয়ামীলীগকে ব্যবহার করে জনগণের সামনে দলের ভাবমুর্তি বিনষ্ট করে।
চকরিয়া জনতা শপিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি জাফর আলম কোম্পানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, বাঙালি জাতির রাখাল রাজা স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু মুজিবকে হত্যা করে সেইদিন ঘাতকরা মনে করেছিলো বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবেনা। আইন করে তাঁরা বিচার ব্যবস্থার গলা টিপে রেখে ছিলো। কিন্তু বাংলার মানুষের রায় নিয়ে আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আরোহন করেই দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে ঘাতকদের বিচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন ও পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুহেনা মোস্তাফা কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এসএম জাহাংগীর আলম বুলবুল, চকরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ও পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক এ.কে.এম গিয়াস উদ্দিন, মাতামুহুরী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দিন জয়নাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, ছৈয়দ আলম কমিশনার।
বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ, আওয়ামীলীগ নেতা এসএম আলমগীর হোছাইন মেয়র, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মিজবাউল হক, সেলিম উল্লাহ বাহাদুর, পরিমল বড়ুয়া, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, যুবলীগ নেতা রেফায়েত সিকদার, কাকারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজেম উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মহিউদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা মোজাম্মেল হক মজনু, পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কাশেম পুতু, পৌরসভা মৎস্যজীবিলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ, পৌর আওয়ামীলীগের সদস্য নুরুল আমিন টিপু, মোহাম্মদ জকরিয়া, হারুন কোম্পানী, বরইতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম, বরইতলী ৫নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাদ্দাম হোসেন মিঠু, ছাত্রলীগ নেতা আবু ইউছুপ জয়।
শোকসভা শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শ্রমিক নেতা ফজলুল করিম সাঈদীর উদ্যোগে সভায় উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও উপজেলা এবং পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের চার হাজার নারী-পুরুষকে কাঙ্গালী ভোজে আপ্যায়ন করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: