মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় বাবার কাছ মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে অপহরণের নাটকে বাধা হয়ে দাঁড়ালো পুলিশ

চকরিয়ায় বাবার কাছ মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে অপহরণের নাটকে বাধা হয়ে দাঁড়ালো পুলিশ

চকরিয়ায় বাবার কাছ মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে অপহরণের নাটকে বাধা হয়ে দাঁড়ালো পুলিশ

চকরিয়ায় বাবার কাছ মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে অপহরণের নাটকে বাধা হয়ে দাঁড়ালো পুলিশ

মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া:

কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার ডুলাহাজারা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগের ছাত্র জিমান উদ্দিন জিয়া নিখোঁজের ১২দিন পর উদ্ধার হয়েছে। তার নিখোঁজ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এই রহস্যময় নিখোঁজ মুক্তিপণের জন্য দুর্বৃত্ত কর্তৃক অপহরণ নাকি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়ে বন্ধুদের মাধ্যমে বাবার কাছ থেকে টাকা আদায়ের ফন্দি তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

৩১ আগষ্ট বিকাল ৫টা থেকে নিখোঁজ হয় উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নস্থ পহরচাঁদার গিয়াস উদ্দিন জিয়ার ছেলে কলেজ ছাত্র জিমান উদ্দিন জিয়া। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডুলাহাজারাস্থ একটি পাহাড়ি রাস্তা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

বরইতলীর গিয়াস উদ্দিন জিয়া বলেন, ৩১ আগষ্ট বিকালে আমার ১ম ছেলে জিমান ঘর থেকে বের হয়ে চিরিংগায় পৌঁছে। সেখান থেকে ডুলাহাজারা কলেজের হোস্টেলে যাওয়ার জন্য একটি নোয়া গাড়ীতে উঠে। এরপর থেকে নিখোঁজ হয় আমার ছেলে। পরে ছেলের খোঁজ না পেয়ে ৩ সেপ্টেম্বর চকরিয়া থানায় একটি জিডি (নং-৩১৬৬) দায়ের করি।

গিয়াস উদ্দিন জিয়া আরো বলেন, আমার ছেলে নিখোঁজের পর তাকে অপহরণ করা হয়েছে দাবী করে কতিপয় ব্যক্তি মুঠোফোনে আমার কাছ থেকে ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। একাধিক ফোন করে ছেলেকে জবাই করে হত্যার হুমকি দেয়ায় বিকাশের মাধ্যমে ৭ দফায় ২ লক্ষাধিক টাকা প্রদান করি। ফলে আমার ছেলেকে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ডুলাহাজারার একটি পাহাড়ি রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। ইতিপূর্বে র‌্যাব ও পুলিশ দফায় দফায় অভিযান চালালেও ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি।

এদিকে কক্সবাজার সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ মাসুদ আলম বলেন, ঘটনাটি রহস্যময়। ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে বাবা দাবী করলেও উদ্ধার হওয়া ছেলের প্রাথমিক জবানবন্দী ও তথ্যানুসন্ধানে এ ঘটনা সাজানো বলে মনে হচ্ছে। মুলত বাড়ী থেকে পর্যাপ্ত টাকা না পাওয়ায় বাবার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করতেই বন্ধুদের সহায়তায় জিমান অপহরণ নাটক সাজিয়েছে।

এএসপি মাসুদ আলম আরো বলেন, ইতিপূর্বে গিয়াস উদ্দিন জিয়ার সরবরাহ করা বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার ট্রাকিং করেও ঘটনাটি রহস্যময় মনে হয়েছে। কথিত মুক্তিপণ দাবী করা দুটি নাম্বার ট্রাকিং করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, মিরসরাই ও পাহাড়তলী থানা এলাকায় অবস্থান নির্ণয় করা হয়। তন্মধ্যে দু’দফা সীতাকুন্ড এলাকায় অবস্থান নির্ণয় হওয়ায় ওই এলাকায় পুলিশ টিম নিয়ে অভিযান চালাতে গেলে ফের চকরিয়ায় অবস্থান করা একটি মুঠোফোন থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এতে পুরো ঘটনাটিই জটিল হয়ে উঠে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কলেজ ছাত্র জিমানকে ডুলাহাজারাস্থ পাহাড়ি রাস্তা থেকে উদ্ধার করে। ওই ছাত্রকে থানায় আনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় এএসপি মাসুদ আলম ও থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধরের সামনে উদ্ধার হওয়া কলেজ ছাত্র জিমান উদ্দিন জিয়া অকপটে স্বীকার করে আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করতেই অপহরণ নাটক সাজিয়েছি।

এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, উদ্ধারের আগেই বাবা গিয়াস উদ্দিনের চাল-চলনে অপহরণ নিয়ে সন্দেহ জেগেছিলো। শুধুমাত্র টাকার জন্য কোন ছেলে এই অনৈতিক পথ বেঁছে নিতে পারে ভাবতেও কষ্ট হয়। এরকম হলে মা-বাবারা দুর্ভাবনায় পড়বেন। তাই ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্ততি চলছে।

https://www.facebook.com/coxview

Design BY Hostitbd.Com