মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা অপহরণের শিকার মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবী

প্রতিকী ছবি

চকরিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা অপহরণের শিকার মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবী

মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে নুরুল আবছার নামের এক মুক্তিযোদ্ধাকে অপহরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোররাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত অপহৃত মুক্তিযোদ্ধার খোঁজ মেলেনি তবে অপহরণকারী দুর্বৃত্তরা তাকে ছাড়তে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবী করেছে। অপহৃত মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার খুটাখালী ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কালা পাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

দুর্বৃত্ত কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছারকে অপহরণ করার ঘটনা নিশ্চিত করে চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম বলেন, একদল দুর্বৃত্ত নুরুল আবছারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে অজানা স্থানে নিয়ে গেছে। তাকে উদ্ধারে থানা পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অপহৃত মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে রাবেয়া খানম অশ্রু বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবার সদস্যরা দাবী করেছেন অন্তত ১৫-২০ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গভীর রাতে বাড়ীতে হানা দেয়। তারা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙ্গে। ঘরের ভিতর ৫-৬জন দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে এবং অন্যরা বাইরে পাহারা দেয়। উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাবেয়া খানম অশ্রু বলেন, অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকলেও কোন জিনিসপত্র লুট করেনি। শুধু বাবাকে নিয়ে গেছে। বাবাকে উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গত ৬ মাসে চকরিয়া-লামা সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ১২জন লোককে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের সবাইকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। সর্বশেষ অপহৃত মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছারকে ছেড়ে দিতে বৃহস্পতিবার সকালে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করলেও মুঠোফোনে দর কষাকষির মাধ্যমে সন্ধ্যায় ২ লাখ টাকায় নেমে আসে মুক্তিপণের পরিমাণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া, সদর, রামু এবং বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তে গহীন অরণ্য রয়েছে। ওই অরণ্যে আস্তানা গেড়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা অপহরণ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় পুলিশ অভিযান চালালেও ওই দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করতে পারছে না। তাই নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র অপরাধীদের পাকড়াও না করলে পাহাড় ঘেষা গ্রামগুলোতে অপহরণ আতংক জিইয়ে থাকবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, অপহৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। মেয়ে স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে জিডি করতে। এর আগেই ঘটনা শুনে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অপহৃত মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধারে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করেছে।

https://www.facebook.com/coxview

Design BY Hostitbd.Com