Home / প্রচ্ছদ / চকরিয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

চকরিয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

চকরিয়ায় বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

বিয়ের সবকিছু ঠিকটাক। আত্মীয় স্বজনদের নিমন্ত্রণ থেকে শুরু করে সব আয়োজন সম্পন্ন। আগামী শুক্রবার ১২ ফেব্রুয়ারী ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু মেয়েকে কনে সাজিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বর পক্ষের লোকজনের হাতে তুলে দেয়ার অপেক্ষা। এককান-দুকান ঘুরে খবরটি পৌছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)কাছে। সাথে সাথেই এ্যাকশন। তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহায়তায় বন্ধ করেন বাল্য বিয়েটি। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা হারবাং ইউনিয়নে ঘটে ঘটনাটি।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ুয়া ১৩ বছরের ছাত্রীর সাথে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিয়ে হওয়ার দিন ধার্য্য হয় বরইতলী ইউনিয়নের খয়রাতি পাড়ার কামাল হোসেনের ছেলে কুতুব উদ্দিনের সাথে। কিন্তু গত মঙ্গলবার চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বাল্য বিয়ে হচ্ছে খবরটি পেয়ে হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবরকে বাল্য বিয়েটি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবর মেয়ের বাড়িতে গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করতে বলেন।

হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবর বলেন, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে আমাকে মুঠোফোনে বলেন বাল্য বিয়ের খবরটি। তিনি আমাকে মোবাইলে বিস্তারিত জানান এবং মেয়ের পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে বাল্য বিয়েটি বন্ধ করতে বলেন। পরে আমি মেয়ে পক্ষের লোকজনের সাথে কথা বলি। বাল্য বিয়ের সুফল-কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। এছাড়া আইনী সমস্যার কথাও বুঝায় তাদের। এসব শুনে মেয়ের অভিভাবক মুচলেকা দেন তাদের মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবে না।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, হারবাং ইউনিয়নে গোপনে বাল্য বিয়ে হচ্ছে খবর পেয়ে ওই ছাত্রীর বাড়ীতে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে পাঠাই। পরে ছাত্রীর বাবা-মা’র সাথে কথা বলে বাল্য বিয়েটি বন্ধ করে দেয়া হয় এবং ছাত্রী প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে মুচলেকা দেন।

%d bloggers like this: