Home / প্রচ্ছদ / চকরিয়া উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী : বাড়ছে দুর্ভোগ : ভেসে গেছে হাজার কোটি টাকার চিংড়ি মাছ

চকরিয়া উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী : বাড়ছে দুর্ভোগ : ভেসে গেছে হাজার কোটি টাকার চিংড়ি মাছ

Mukul - Chakaria - 31-7-2015 (1)মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া :

ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেনের’ প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস ও আবারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে চকরিয়া-পেকুয়া। ঢলে ৫দিন জিন্মি থাকার পর পানি পুরোপুরি না নামতেই ফের প্লাবনে জনদূর্ভোগ চরমে উঠেছে। দু’উপজেলার অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিপর্যস্ত। শতশত ঘরে পানি উঠায় রান্না-বান্না বন্ধ। টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় পানীয় ও জলের সংকট। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে মাতামুহুরী নদীর চিরিংগা ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বানের পানি। এর মধ্যে মরার উপর খাড়ার গা হযে দাড়িঁয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ টানা ৮দিন বন্ধ থাকায়। আমন বীজ তলা সম্পূর্ণ পচে যাওয়ায় আমন চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাড়া-গাঁয়ে দীর্ঘদিন ঢলের পানি অবস্থান করায় প্রতিটিা বসতির বিভিন্ন প্রজাতির গাছে মড়ক ধরেছে। গতরাত ও সকালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ছোট-বড় সড়ক ও বাঁধ ভেঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।

Chakaria Picture 31-07-2015অন্যদিকে কোমেনের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে চকরিয়ার বদরখালী ও পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে দু’উপজেলার উপকূলীয় এলাকার মানুষ সাগরের জোয়ারের ভয়ে রয়েছে। জোয়ার আসলেই প্রবেশ করছে লবণাক্ত পানি। এছাড়া গত ৭দিনের বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে দু’উপজেলার মিটা ও লবাণাক্তা পানিতে চাষ করা অন্তত ২শত কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বলে চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিনসহ একাধিক ঘের মালিকের দাবী।

সরজমিন দেখা গেছে, শুক্রবার সকালে চিরিংগা-মানিকপুর সড়কের দুই পয়েন্টে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এসএমচরের প্রতিটি পাড়ার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যায়। একইভাবে অন্যান্য এলাকায়ও গ্রামীন রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানায়। সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, পাহাড়ে বৃষ্টি বন্ধ হলে মাতামুহুরী নদীর পানিও কমে যাবে। আবারো যদি বন্যা ভয়াবহা আকারে হয় তবে মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্লাবিত ইউনিয়নগুলো হলো, চকরিয়ার বুমবিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, ফাঁসিয়াখালী, সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, ঢেমুসিয়া, বদরখালী, চিরিংগা, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, কোণাখালী চকরিয়া পৌরসভা ও পেকুয়ার সদর, মগনামা, উজানটিয়া, শিলখালী, বারবাকিয়া, টৈটং, রাজাখালী। প্লাবিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে উজানের পাহাড় ঘেষা এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে সামদ্রিক জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় আবারো ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বানের পানি বেড়েই চলছিলো। প্লাবিত হচ্ছিল নতুন নতুন এলাকা।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারো মষুলদারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় চকরিয়ার অভ্যান্তরীণ সড়ক যোগাযোগ আবারো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চিরিংগা-কাকারা-সুরাজপুর-মানিকপুর এবং চকরিয়া-পেকুয়া-বদরখালী সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। প্রায় পক্ষকাল ব্যাপী বৃষ্টি ও বন্যা অব্যাহত থাকায় স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না ছাত্র-ছাত্রীরা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।

এদিকে সামুদ্রিক জোয়ারের কারনে বন্যার পানিতে উপজেলার চিংড়িজোনের কয়েকশত চিংড়ি প্রকল্প একাকার হয়ে গেছে। বন্যার পানি চিংড়ি প্রকল্পের সাথে মিশে যাওয়ায় চিংড়িজোন থেকে হাজার কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে দাবি করেন উপজেলার অন্যতম মৎস্য বিপণন কেন্দ্র দরবেশকাটা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন (ফোয়াব) কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো.শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুন ও জুলাই মাসের বন্যার কারনে উপজেলার চিংড়ি প্রকল্প থেকে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ। এ অবস্থার ফলে চকরিয়া উপজেলার চিংড়ি প্রকল্প মালিক ও চাষীরা এবছর নিশ্চিত দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো.সাইদুর রহমান বলেন, জুন-জুলাই মাসের দুই দফা বন্যায় উপজেলার চিংড়িজোনের প্রায় মৎস্য প্রকল্প পানিতে একাকার হয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে বিপুল টাকার মাছ। তবে কত টাকার বা কয়টি চিংড়ি প্রকল্প পানিতে তলিয়ে গেছে তা এখনই বলা যাচ্ছেনা। পানি কমে যাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিংড়িজোন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হবে।

%d bloggers like this: