সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

চকরিয়া-পেকুয়ায় অর্ধশতাধিক স্পটে বিক্রয় হচ্ছে ইয়াবা : ধরা ছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা

প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি

মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় মাদকের ছড়াছড়ি চলছে। ইয়াবা পাচারে নিরাপদ সড়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দু’উপজেলায় ফেন্সিডিল, গাঁজা ছাড়াও স্থানীয়ভাবে তৈরী চোলাই মদ বিক্রয় হচ্ছে ওপেন সিক্রেট। পুলিশ হাতে গোনা কয়েকটি সফল অভিযান চালালেও মাদক বিকিকিনি থামছেই না। এতে উঠতি বয়সি তরুণ-যুবক ছাড়াও মাদকাসক্ত হয়ে বিপথগামী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত অর্ধশতাধিক স্পটে বিক্রয় হচ্ছে  ইয়াবা, গাঁজা ও চোলা মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। মাদক বিরোধী অভিযান খুব একটা জোরদার না থাকায় মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় অল্প বয়সি ছেলেরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে সামাজিক অপরাধ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা সদর চৌমুহনীতে তিনটি সিন্ডিকেট অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। এরমধ্যে একটি সিন্ডিকেট শুধু ইয়াবাই বিক্রি করছে অপর দুটি সিন্ডিকেটের মধ্যে একটি গাঁজা ও ইয়ারা এবং অপরটি বিক্রি করছে গাঁজা ও চোলাই মদ। এছাড়াও ইউনিয়নের সাবেক গুলদী এলাকায় মাদক বিক্রি করছে অপর একটি  সিন্ডিকেট।

একইভাবে পেকুয়া বাজার কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আরো পাঁচটি সিন্ডিকেট। এরমধ্যে বাইম্যাখালী রোডে দুইটি সিন্ডিকেটের মধ্যে একটি ইয়াবা ও অপর সিন্ডিকেট বিক্রি করছে মদ ও গাঁজা। একইভাবে বাজারের অদূরে ফাঁসিয়াখালী এলাকায় রয়েছে একটি মাদক স্পট। যেখানে সবধরণের মাদক সেবনের সুবিধাও দিচ্ছে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ভোলাইয়া ঘোনা এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করছে অপর একটি সিন্ডিকেট। যেখানে মাদক সরবরাহ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে নারী ও শিশু।

এছাড়াও মামা ভাগিনার দোকান এলাকায় একটি সিন্ডিকেট বিক্রি করছে গাঁজা, মদ ও ইয়াবাসহ সব ধরণের মাদক।

এদিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করছে দুইটি সিন্ডিকেট। যারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ফেরি করে বেড়ায়। উজানটিয়া ইউনিয়নের সোনালী বাজার ও করিমদাদ মিয়াঁ ঘাট এলাকায় ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি করছে দুইটি সিন্ডিকেট। রাজাখালী ইউনিয়নের সবুজ বাজারের পশ্চিমে মদ বিক্রি করছে একটি সিন্ডিকেট। নোয়াখালী ব্রীজ এলাকায় বিভিন্ন ধরণের মাদক বিক্রি করছে একটি সিন্ডিকেট।

এছাড়াও আরবশাহ বাজার এলাকায় মাদক বিক্রি করছে একাধিক সিন্ডিকেট। টইটং ইউনিয়নের হাজী বাজার এলাকায় মাদক বিক্রি করছে শক্তিশালী দুটি সিন্ডিকেট। এরমধ্যে এক ইউপি সদস্যের জামাতার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট টইটং কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা চালালেও তারা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে নিজস্ব লোকজন দিয়ে সরবরাহ করছে ইয়াবা।

এছাড়াও ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকায় ও টইটং বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আরো দুইটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। বারবাকিয়া ইউনিয়নের সওদাগর হাট কেন্দ্রিক মদ, গাজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক বিক্রি করছে দুইটি সিন্ডিকেট। শীলখালী ইউনিয়নের জারুলবনিয়া ষ্টেশন এলাকায় একটি দোকান কেন্দ্রিক বিক্রি ও সেবন করা হচ্ছে ইয়াবা।

এছাড়াও ইউনিয়নের আলেকদিয়া পাড়ায় একটি সিন্ডিকেট ও বাঘগুজারা সাঁকোর পাড় এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে আরো একটি সিন্ডিকেট।

চকরিয়ার হারবাং, মানিকপুর, ভরামুহুরী, বিনামারা, ডুলাহাজারায় চোলাই মদও তৈরী হয়। ওই মদ সেখানে বিক্রয়ের পাশাপাশি পৌরশহর ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্পটে বিক্রয় হচ্ছে। এছাড়া পৌরশহরের বিভিন্ন শাখা সড়কে উঠতি বয়সি তরুণরাই সন্ধ্যায় বিক্রয় করে ইয়াবা, গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। পাশাপাশি চলে মাদক সেবন। মাদক বিক্রয় ও সেবন নিয়ে প্রায়শই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। জন উপদ্রপের সৃষ্টি হয় অনেক সময়। পুলিশ মাঝে-মধ্যে অখ্যাত মাদক পাচারকারীদের আটক করলেও নেপথ্য গডফাদাররা নিরাপদ থাকায় মাদক ব্যবসা লাগামহীন হয়ে উঠেছে দু’উপজেলায়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে মাদক ব্যবসা থেকে ফিরে আসা এক ব্যক্তি জানায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্যদের সাথে আতাত করে উপজেলায় চাহিদার সিংহভাগ ইয়াবা সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, মায়ানমার থেকে চোরাচালানীদের হাত দিয়ে এদেশে আসা ইয়াবা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের রোড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে চকরিয়া ও পেকুয়াকে। প্রশাসনের নজরদারীর ঘাটতির কারণে মাদক বেঁচাকেনা ও সেবন হচ্ছে প্রকাশ্যে।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবন আগের চাইতে তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। কিন্তু মাদক বিক্রেতারা অভিনব পন্থা অবলম্বন করছে। তাই পুলিশকে একটু কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরেও মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। খুব শীঘ্রই পেকুয়াকে মাদক মুক্ত উপজেলায় রূপান্তর করা হবে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জহিরুল ইসলাম খান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের থামাতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে সহায়তা করলে চকরিয়া হবে মাদক মুক্ত এলাকা।

 

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com