Home / প্রচ্ছদ / চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের- মাতামুহুরী সেতুতে আবারও গর্ত ঝুঁকিতে যাত্রীরা

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের- মাতামুহুরী সেতুতে আবারও গর্ত ঝুঁকিতে যাত্রীরা

Road -Mukul 15.12.15 (news & 1pic) f1মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাতামুহুরী সেতুতে পুরনো ভাঙ্গার লাগায়ো আরেকটি ফুটোর (গর্ত) সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সেতুর মাঝখানে ঢালাই দেবে গিয়ে অন্তত ৪ ফুট আয়তনের ফুটোটিকে স্থানীয়রা নাম দিয়েছে ‘মাতামুহুরী সেতুর রাক্ষুসে চোখ’। এই চোখ ফোটার পরপরই একটি মিনিবাস, একটি টমটম ও একটি ব্যাটারি চালিত রিক্সার চাকা আটকে আহত হয় ৭জন। ফলে মেরামত পূর্ব সতর্কতা হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার গর্তের পাশে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার সাথে পর্যটন জেলা কক্সবাজারের যোগাযোগ সুবিধায় ১৯৬০ সালে মাতামুহুরী নদীর উপর নির্মাণ করা হয় সেতু। মাতামুহুরী সেতু হিসেবে পরিচিত এই সেতুর টেকসই মেয়াদ দেয়া হয় ১’শ বছর। কিন্তু অর্ধেক সময় পার না হতেই সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ছিদ্র দেখা দেয়। বিভিন্নস্থানে দেবে গিয়ে সৃষ্টি হয় ছোট-বড় ফুটো বা গর্তের।

ইতিপূর্বে সেতুর ঠিক মাঝখানে সৃষ্টি হওয়া একটি গর্ত মেরামতে বিলম্বের কারণে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একসাথে ১৭জন নিহত হয়। একেই স্থানে আরো দুটি স্থানীয় যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হলে পৃথক সময়ে আরো দুই যাত্রী মারা যায়। ফলে সওজ কর্তৃপক্ষ ওই গর্ত জোড়া তালি ও লোহার পাত বসিয়ে মেরামত করে। এরপর ওই স্থানে দুর্ঘটনা হ্রাস পেলেও কবরের ন্যায় বসানো পাতের ডিবিতে ধাক্কা খেয়ে ছোট যানবাহন উল্টে যায় প্রায়শই । এরপরও টেকসই মেরামত করা হয়নি।

এদিকে, সোমবার ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় একটি ওভারলোড ট্রাকের চাকা দেবে গিয়ে ফের ফুটো হয় মাতামুহুরী সেতুতে। মেরামত করা পুরনো ফুটোর নিকটেই নতুন গর্ত সৃষ্টি হয় সোমবার সন্ধ্যায়। আকস্মিক সৃষ্টি হওয়া গর্ত বুঝতে না পেরে কয়েকটি গাড়ির চাকা ওই গর্তে পড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে আহত হয় ৭ যাত্রী। তন্মধ্যে গুরুতর আহত ফাতেমা জান্নাত (৩২)কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, মাতামুহুরী সেতুতে গর্ত হয়েছে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সরজমিন পরিদর্শন করেছি। দুর্ঘটনা এড়াতে গর্তের পাশে সওজের মাধ্যমে লাল পতাকা টাঙ্গানোর ব্যবস্থা করেছি। সড়ক ও জনপদ বিভাগকে অনুরোধ করেছি জরুরী ভিত্তিতে ওই ফুটো মেরামত করতে। যাতে শুরু হওয়া পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারমূখী পর্যটকসহ কোন যাত্রী দুর্ঘটনায় পতিত বা কষ্ট না পায়।

সওজের চকরিয়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বলেছেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব সেতুর গর্ত মেরামতের চেষ্টা করছি। হঠাৎ করে বৃষ্টি হওয়ায় সাথে সাথে বিটোমিন দিয়ে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তাই একটু বিলম্ব হচ্ছে।

%d bloggers like this: