Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / বিবিধ / ছাত্র পড়িয়ে মাস গেলে কোটিপতি!

ছাত্র পড়িয়ে মাস গেলে কোটিপতি!

 Manyঅনলাইন ডেস্ক : স্রেফ কোচিং করিয়ে মাসিক রোজগার কোটি রুপির উপর! ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ ডানকান ফ্লেচারের কথা হচ্ছে না। আইআইটি প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারের শিক্ষকরা অনেকেই পেয়ে থাকেন এই বেতন।

আইআইটি-তে সুযোগ পেতে গেলে প্রবেশিকা পরীক্ষায় ভালো ফল করা আবশ্যিক। দেশজুড়ে প্রতি বছর কয়েক লক্ষ পড়ুয়া পরীক্ষায় বসলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র কয়েকজনের ভাগ্যেই শিকে ছেঁড়ে। আসলে মেধাবী হলেই হবে না, ভারতের অন্যতম কঠিন এই পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে গেলে দরকার সঠিক প্রশিক্ষণ। এই কারণে যে সমস্ত দ্রোণাচার্যের হাত ধরে পরীক্ষা বৈতরণী পার হওয়া যায়, তাদের কদর আকাশছোঁয়া। প্রশিক্ষক-জ্যোতিষ্কদের ধরে রাখতে মাসে কোটি রুপির বেশি খরচ করতে পিছ-পা হন না কোচিং কর্তৃপক্ষ। কারণ তাদের দৌলতেই বছরে বেশ কয়েক কোটি রুপি মুনাফা করে এই সমস্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

কোটিপতি শিক্ষকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ভারতের রাজস্থানের কোটায় জনপ্রিয় আইআইটি কোচিং সেন্টার ‘বনসল ক্লাসেস’। গর্বিত কর্ণধার মোদালি ভেঙ্কট হরিকিষন জানিয়েছেন, ‘আমাদের এখানে ৬ জন কোটিপতি ফ্যাকাল্টি আছেন। তবে প্রত্যেক শিক্ষক ততক্ষণই আমাদের সঙ্গে থাকেন, যতক্ষণ না তারা এর চেয়ে ভালো কোনো প্রস্তাব পাচ্ছেন। এই ব্যবসায় চোরাশিকার আকছার চলে।’

চোরা শিকার মানে এক কেন্দ্রের শিক্ষককে আরও বেশি বেতনের টোপ দিয়ে অন্য কোচিং সেন্টারে ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়া। আসলে আইআইটি ক্র্যাক করাতে যাঁদের রেকর্ড যত উজ্জ্বল, সেই সমস্ত শিক্ষকের চাহিদাও আকাশছোঁয়া। অন্য এক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মালিক জানিয়েছেন, তার সংগ্রহে মাসিক ২ কোটি এমনকি ৩ কোটি রুপি বেতনভোগী শিক্ষকও রয়েছেন। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে দেশের বিখ্যাত আইআইটি কোচিং সেন্টারগুলিতে মোট ২০০০ শিক্ষক পড়ান। এঁদের মধ্যে ৬০০ জন আইআইটি ডিগ্রিধারী। অ্যালেন কেরিয়ার ইনস্টিটিউটের কনসাল্ট্যান্ট আশিস অরোরা জানিয়েছেন, ‘এই সমস্ত ফ্যাকাল্টিদের মধ্যে ৩০০-৪০০ জন মাসে ৬০ লক্ষ থেকে ১.৫ কোটি রুপি আয় করেন।’

জানা গিয়েছে, ২-৫ বছরের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অনায়াসে কোচিং সেন্টার থেকে মাসে ১ কোটি রুপির বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। অথচ খোদ আইআইটি-তে পড়িয়ে বছরে ১০-১১ লক্ষ রুপি বেতন পান অধ্যাপকরা।

বছরে তিন বার শিক্ষক নিয়োগ করে এই সমস্ত কোচিং সেন্টার। মাত্র ৮-১০ মাসে তিন থেকে চারবার সাফল্যের ভিত্তিতে বেতন বাড়তে পারে। সাড়া জাগানো সাফল্য পেলে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধিও অস্বাভাবিক নয়, জানিয়েছেন দিল্লির FIITJEE কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টর আর এল ত্রিখা।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির লক্ষ্য, একজন শিক্ষককে দিয়ে যত বেশি সম্ভব ছাত্র-ছাত্রীকে পড়ানো। তবে নিত্যনতুন কোচিং সেন্টার গজিয়ে ওঠার ফলে নয়া ফ্যাকাল্টি খুঁজে পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই আইআইটি (আইআইটিজেইই) পরীক্ষায় সফল হতে মুষ্টিমেয় প্রশিক্ষকের উপরই ভরসা করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। আর তার জেরে কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের বেতনের পারদ ক্রমেই চড়ছে। সূত্র : নতুনবার্তাডটকম।

Leave a Reply

%d bloggers like this: