Home / প্রচ্ছদ / জানুয়ারিতে নতুন পে-স্কেলে বেতন

জানুয়ারিতে নতুন পে-স্কেলে বেতন

Abul Mal Abdul Mohitপে-স্কেল নিয়ে নানা জটিলতার মধ্যেও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আবার বলেছেন, যত জটিলতাই সৃষ্টি হোক না কেন, আগামী জানুয়ারিতে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন।

বেতন আদেশের গেজেট হওয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো কয়েকটি বিষয় নিয়ে অর্থসচিবের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সচিবালয়ে শনিবার বাংলাদেশে সফররত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের গভর্নর শ্রী তথগত রায়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি- আগামী জানুয়ারি মাসে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী চলতি বছরের জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। এটাই সত্য, এর মাঝে আর কিছু নাই।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নানা ধরনের সংবাদ পরিবেশন হচ্ছে। আর এ নিয়ে চাকরিজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের আমি বলতে চাই, বিভ্রান্তির অবকাশ নাই। নতুন বেতন আদেশের গেজেট যখনই হোক জানুয়ারিতে তারা নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন।’

নতুন পে-স্কেলের আওতায় চাকরিজীবীদের বকেয়া এক সঙ্গে দেওয়া হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম- এক সঙ্গে দেওয়ার কিন্তু তা হয়ত সম্ভব হবে না। অনেক টাকা লাগবে। টাকার সংস্থান করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলব। এ ছাড়া অর্থবিভাগের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। তহবিলের খোঁজ নিতে হবে। সরকারের অর্থের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।’

চলতি বছর বাজেটের অর্থ তেমন খরচ হয়নি, তা হলে টাকার অভাব হবে কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘হ্যাঁ, টাকা কম খরচ হয়েছে। এটা যেমন ঠিক, একইভাবে রাজস্ব আদায়ও কম হয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হলে সরকার টাকা পাবে কোথায়। তবে হ্যাঁ, চলতি মাসে রাজস্ব আদায় ভালো হয়েছে। নতুন পে-স্কেলে চাকরিজীবীদের বকেয়া টাকা হয়ত একবারে দেওয়া সম্ভব হবে না, তবে দুবারে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

পে-স্কেলের গেজেট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম- গত সপ্তাহে গেজেট হয়ে যাবে। শুনেছি আইন মন্ত্রণালয় ভেটিং না করে নতুন কিছু বিষয় জানতে চেয়েছে। এটা তারা করতে পারে না। কেবিনেটে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। আমি যা যা করছি, তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই করেছি। পে-স্কেলের বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি বলেন, ‘পে-স্কেল নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত না। খুব শিগগির গেজেট হবে। টাইমস্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড থাকছে না। এটা চূড়ান্ত। তবে এর পরিবর্তে তারা দুট গ্রেড পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। একটি চাকরির মেয়াদ ১০ বছর উত্তীর্ণ হলে, অপরটি চাকরির মেয়াদ ১৫ বছর উত্তীর্ণ হলে।’

গেজেট নিয়ে জটিলতা বিষয়ে রাইজিংবিডি’র প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিবেদনটি এখনই পড়লাম। প্রতিবেদনের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। পে-স্কেল নিয়ে আমি যেটা বলব সেটাই চূড়ান্ত। যে কোনো উদ্দেশ্যে হোক, কালক্ষেপণের সুযোগ দেওয়া হবে না। সব কিছু আগের ঘোষণা অনুযায়ী হবে।’

একটি মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু কর্মকর্তার সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল চলতি মাসের শেষের দিকে এবং আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। তারা যাতে ওই সুযোগ পেতে পারেন, সেই জন্য নানা অজুহাতে ভেটিংয়ে বিলম্ব করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন- বেতন আদেশের প্রজ্ঞাপন হওয়ার তারিখ পর্যন্ত চাকুরিজীবীরা সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেলের সুবিধা পাবেন। গেজেট হওয়ার তারিখ থেকে এ সুযোগ বাতিল হবে। এ সুযোগ ইতোমধ্যে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়েছেন। অষ্টম পে-স্কেলের ভেটিং আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত টেনে নিতে পারলে ওই কর্মকর্তারা এ সুযোগ পাবেন। এই ইচ্ছা থেকে তারা ভেটিংয়ে কালক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ আছে।

গত বুধবার ভেটিং না করে নতুন কিছু সুপারিশসহ আইন মন্ত্রণালয় থেকে পে-স্কেলের ফাইল অর্থমন্ত্রীর কাছে ফেরত্ পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ওই সুপারিশ পে-স্কেলে সংযোজন করা হলে নতুন করে আবার জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় পে-স্কেলের গেজেট হতে আরো দেরি হবে। অর্থাত্ অর্থমন্ত্রী তার ঘোষিত সময়ে সরকারি চাকুরজীবীদের নতুন পে-স্কেল গেজেট করতে পারবেন না।

তবে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কোনো অবস্থায় আর দেরি করা হবে না। জানুয়ারি মাসে চাকরিজীবীরা তাদের বেতন নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী পাবেন। আর টাইম স্কেল ও সিলেকশ গ্রেডের সুযোগ বেতন আদেশের প্রজ্ঞাপন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হবে।’

-রাইজিংবিডিডটকম,ডেস্ক।

%d bloggers like this: