মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

জেলায় বদলে যাচ্ছে বিএনপি :: বাড়ছে নারী নেতৃত্ব, আসছে তরুণ নেতৃত্ব

জেলায় বদলে যাচ্ছে বিএনপি : বাড়ছে নারী নেতৃত্ব, আসছে তরুণ নেতৃত্ব

জেলায় বদলে যাচ্ছে বিএনপি : বাড়ছে নারী নেতৃত্ব, আসছে তরুণ নেতৃত্ব

জেলায় বদলে যাচ্ছে বিএনপি : বাড়ছে নারী নেতৃত্ব, আসছে তরুণ নেতৃত্ব

দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রবর্তনকারি দল বিএনপি কক্সবাজার জেলায় তাদের কার্যক্রমে নতুন ধারা তৈরি করতে চলেছে। দলটি জেলা কমিটি থেকে শুরু করে উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও তাদের নতুন ধারণাকে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।

দেশের গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে এসে দলের কার্যক্রমে আভ্যন্তরীন গণতান্ত্রিক চর্চা, গণতান্ত্রিক কাউন্সিল, নারী ও তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য, নারী ও তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে প্রশিক্ষণ, নানামুখী কর্মশালা এবং দলের নেতা-কর্মীদের আধুনিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন ও ডেটাবেইজ তৈরির কাজ অনেকদূর এগিয়ে নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার জেলার উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোতে ১৫ শতাংশ নারী অন্তর্ভূক্তির বাধ্যবাধকতাকে কয়েকধাপ পেরিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে ২৫ শতাংশ নারী অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি ইউনিয়ন কমিটিতে তো ৩৩ শতাংশ নারী যুক্ত করা হয়েছে। দলটিতে গতিশীলতা আনতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে তরুণ নেতৃত্বকে তুলে আনার কাজটিও শুরু করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী মনে করেন, পৃথিবীতে তরুণরাই সবসময় বিজয় নিশান উড়িয়েছেন। তাই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে বেগবান করতে হলে তরুণদের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। আমরা সেই কাজটিই শুরু করেছি।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব নিয়মতান্ত্রিক, আইননিষ্ঠ, আধুনিক, সংবেদনশীল ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের উদ্দেশ্যে দলের আভ্যন্তরীন গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও দলীয় গঠনতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেতা-কর্মী পর্যায়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

এক্ষেত্রে আমরা গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও), দলের গঠনতান্ত্রিক বিধি, নারী ও তরুণ নেতৃত্ব, জনমত জরিপ এবং তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক দল-ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধারাবাহিক কর্মসূচী হাতে নিয়েছি।

তাঁর দেয়া তথ্য মতে, দলের কর্মী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়ন, তৃণমূল ও কেন্দ্রের অবাধ যোগাযোগ সৃষ্টি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক দল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জেলা সকল নেতা-কর্মীর নিবন্ধন শুরু করা হয়েছে। ভোটার তালিকার আদলে সূচিত এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় একজন নেতা-কর্মী তার ১৪টি ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত ফরম পূরণ করবেন।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যেই জেলার ৯টি ইউনিয়নের অন্তত ৮০০০ নেতা-কর্মী নিবন্ধিত হয়েছেন।

তিনি আশা করছেন, আগামি নভেম্বরের মধ্যে এই নিবন্ধিত নেতা-কর্মীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

তাঁর মতে, এ সকল নিবন্ধিত সদস্যবৃন্দ একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের আওতায় সংযুক্ত হয়ে বিএনপির ওয়েব পোর্টালে চিরস্থায়ী রূপে সংরক্ষিত হবেন। এই ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে যে কোন সদস্য পরষ্পরের সাথে মোবাইল ও কম্পিউটারের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময় করতে পারবেন।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সর্বোচ্চ এই নেতা মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন। জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শাহাজাহান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে এরই মধ্যে দলের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে। জেলার নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম।

তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যক্রমের সাথে সমন্বয় রেখে জেলা বিএনপি বেশ কিছু স্বতন্ত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব কার্যক্রমের মধ্যে ‘অভ্যন্তরীন গণতান্ত্রিক চর্চা’ আলোকে রয়েছে তৃণমূলের মতামতের নিতে আয়োজন করা হয়েছে জেলা তৃণমূল সম্মেলন। তারই আওতায় ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রাক্কালে নির্বাচনী ইশতেহার, নির্বাচনী কৌশলসহ একাধিক বিষয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রে। ৪ শতাধিক নেতাকর্মীর সুপারিশের ভিত্তিতে এই কর্ম সুপারিশ তৈরি করা হয়। সেই সাথে ২০১৪ সালে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী কাউন্সিল করে কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সুপারিশ করেন।

জাতীয় সংসদের সাবেক এই হুইপের মতে, জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে যে কাজটি সবচেয়ে অগ্রাধিকার পেয়েছে তা হলে ‘গণতান্ত্রিক কাউন্সিল’। এমনতর কাউন্সিলের মাধ্যমে দলে নবীন ও প্রবীণ সমন্বয় করে দলকে গতিশীল রাখতে উপজেলা ও ইউনিয়ন এবং এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলা, উখিয়া, ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা, চকরিয়া পৌরসভার ১২০টি ওয়ার্ড ও ১১টি ইউনিয়ন, মহেশখালী উপজেলা ও চকরিয়া পৌরসভা শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট শাখাগুলোও কাউন্সিল সম্পন্নের কার্যক্রম চলছে।

শাহজাহান চৌধুরীর দেয়া তথ্য মতে, ‘নারী ও তরুণ নেতৃত্বে’র আলোকে রাজনীতিতে নারী ও তরুণ নেতৃত্বকে তুলে আনতে সদ্য গঠিত কমিটি গুলোতে নারী ও তরুণদের ১৫ ভাগ কোটা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন কোন কমিটিতে ২৫ ভাগ ও একটি ইউনিয়ন কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, শুধু নির্বাহী পদ নয়, সম্পাদকীয় পর্যায়ে স্থান পেয়েছে এসকল নারী নেতৃত্ব। এছাড়াও দলের জেলা পর্যায়ের নারী নেতৃত্বকে গতিশীল করে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজে তাদের অংশগ্রহণ করানো হচ্ছে বলেও জানান প্রবীণ এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নেতৃত্বের বিকাশ ও দল পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধিতে পিছিয়ে পড়া নারী ও তরুণ নেৃতৃত্বের দক্ষতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে দলটি। এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ে ‘নারীর জয়ে সবার জয়’ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৯টি মৌলিক নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের নবগঠিত কমিটির ১৬৫ জন নারীকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। পাশপাশি তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় দুই তরুণ কর্মীকে উচ্চতর ফেলোশীপও গ্রহণ করানো হয়েছে।

৩১১ জন নারী ও পুরুষ নেতা ১০টি ‘গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সংস্কার’ বিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে উঠেছেন বলেও দাবি প্রবীণ এই নেতার।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী এই সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন। তিনি জানান, জেলা বিএনপির নতুন ধারার কার্যক্রম সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানানোর আগেরদিনও ‘গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সংস্কার’ বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ডেমোক্রেসী ইন্টারন্যাশনাল এই কর্মশালার আয়োজন করে। ওই কর্মশালা উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ওই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন।

ইউসুফ বদরী জানান, এই কর্মশালায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের অর্ধশতাধিক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অংশ নেন।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্টানে লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, আমরা দলকে ও দলের নেতৃত্বকে পুরনো ধ্যানধারনায় রাখতে চাই না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীরাও রাজনীতি করবেন এটাই প্রত্যাশা।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান, ছাত্রদল সভাপতি রাশেদুল হক রাসেল, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোবারক আলী, জেলা বিএনপির সদস্য আজমল হুদা, মাতামুহুরী সাংগঠনিক যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ প্রমূখ।

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

https://www.facebook.com/coxview

Design BY Hostitbd.Com