Home / প্রচ্ছদ / জেলা আ’লীগের বহুল প্রতিক্ষিত সম্মেলন কাউন্সিলরদের নিরবতার মাঝেই প্রার্থীদের সরব প্রচারণা

জেলা আ’লীগের বহুল প্রতিক্ষিত সম্মেলন কাউন্সিলরদের নিরবতার মাঝেই প্রার্থীদের সরব প্রচারণা

A-Leegশহীদুল্লাহ কায়সার; কক্সভিউ :

একদিকে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রার্থীদের সরব পদচারণা। অন্যদিকে কাউন্সিলরদের নিরবতা। এরই মাঝে দুয়ারে কড়া নাড়ছে ৩১ জানুয়ারি। কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ’র বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলনের তারিখ। এবারের সম্মেলনে প্রথম দিকে প্রার্থীর সংখ্যা দেখা গিয়েছিল অত্যন্ত নগন্য। কিন্তু সম্মেলনের দিনক্ষণ যতোই এগিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে প্রার্থীর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার এই তালিকায় যোগ হয়েছেন ড. আনসারুল করিম। ২৮ জানুয়ারি এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে নিজ অভিপ্রায়ের কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

যতোই প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ুক। যাঁরা নেতা নির্বাচন করবেন তাঁদের মুখে এখন কুলুপ। কারো মুখ দিয়ে ভুল করেও পছন্দের নেতার কথা বের করা যাচ্ছে না। এমনকি কাউন্সিলের প্রসঙ্গ এলেই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী নিজে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন। নাকি কাউন্সিলরদের দেয়া হচ্ছে এই দায়িত্ব। সেটিই নিশ্চিত হতে পারছেন না তাঁরা। সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতারা। কাউন্সিলর তালিকা প্রণয়ন করেছেন তাঁরা। এই তালিকায় দিয়েছেন অনুগতদের (জেলা নেতা ছাড়া) স্থান। ফলে যাঁরাই প্রার্থী হয়েছেন তাঁরাই প্রথম দৌঁড়ে যাচ্ছেন তাদের কাছে। সাদরে বরণ করে নিলেও কাউকে কোন কথা দিতে পারছেন না উপজেলার শীর্ষ নেতারা। শুধুই বলছেন নেত্রী বিষয়টির সুরাহা করলে ভাল হয়।

কয়েকজন উপজেলা নেতা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে নিজেরাই প্রার্থী হয়ে বসে আছেন। লোক দেখানো প্রচারণা ও চালাচ্ছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার এ প্রতিনিধি’র সঙ্গে আলাপকালে প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষে নিজ পছন্দের নেতাদের কথা জানিয়েছেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বেশ ক’জন নেতা।

কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ’র সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা বি.কম বলেন, যাঁরা দুর্নীতিবাজ নয় এবং দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। সে ধরণের ক্লিন ইমেজের নেতা প্রত্যাশা করি। অতীতে নেতাদের সফলতা যেমন আছে ব্যর্থতাও কম নয়। ইউনিয়ন পর্যায়েই যেখানে টাকার খেলা চলছে সেখানে জেলা সম্মেলনে যে হবে না তা নয়। যদিও আমাকে কেউ এখনো পর্যন্ত টাকা দিতে আসেনি।

মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামীলীগ’র সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলা বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত, সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশের লক্ষ্যেই নেতা নির্বাচন করা প্রয়োজন। কিছুদিন ধরে কাউন্সিলর কেনা-বেচার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যাঁরা সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন তাঁদের মধ্যে তিন জন সফল রাজনীতিবিদ। সংগঠনের ভালো মন্দ সবকিছুই নেত্রী জানেন। তিনি নেতা নির্বাচন করলে সব সমস্যার সমাধান হবে।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ’র সাবেক সভাপতি আদিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আসন্ন সম্মেলনে তিনি ত্যাগী নেতাদের পক্ষে থাকবেন। যাঁর কাছে কর্মীরা নিরাপদ থাকবে। নেতা কর্মীদের অগৌরবময় কর্মের কারণে বর্তমান সরকারের অনেক সাফল্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটিই চুড়ান্ত। টাকার সংস্কৃতি থেকে নেতা-কর্মীদের বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ’র সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আগামী প্রজন্ম সৃষ্টি হবে সেটিই প্রত্যাশা। অতীতের ব্যর্থতা থেকে নেতারা শিক্ষা গ্রহণ করবেন। আমাদের কামনা এর বেশি নয়।

এদিকে অন্যান্য দিনের মতো গতকালও অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি গিয়েছিলেন উখিয়ায়। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম চৌধুরী গিয়েছিলেন চকরিয়া এবং মাতামুহুরি উপজেলায়। সেখানে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও যোগাযোগ করেছেন তাঁরা। অন্যান্য প্রার্থীরাও পার করেছেন ব্যস্ত সময়।

%d bloggers like this: