বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

জেলা ও দায়রা জজের কথায় অভিভূত শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

জেলা ও দায়রা জজের কথায় অভিভূত শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

জেলা ও দায়রা জজের কথায় অভিভূত শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

জেলা ও দায়রা জজের কথায় অভিভূত শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

দীপক শর্মা দীপু, কক্সভিউ:

“ভালবেসে বিয়ে করেছে। তার ৩ বছর পর স্ত্রীকে নির্যাতন করে স্বামী তাড়িয়ে দিয়েছে; বাপের বাড়িতেও মেয়েটির ঠাঁই হলোনা। মেয়েটি শিক্ষিত না হওয়ায় সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে না পেরে মৃত্যুকে বরণ করল”। মেয়েটি পড়ালেখা না করে বিয়ে করাটা কি ঠিক হয়েছে? জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সাদিকুল ইসলাম তালুকদারের এমন কথায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলে উঠেন “ভুল হয়েছে”।

সন্তানরা ভুল করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাসন করা কি ঠিক হবে। এমন প্রশ্নের জবাবে অভিভাবকরা বললেন “না”। শিক্ষা বয়সে শিক্ষার্থীরা অতি আবেগ প্রবণ হয়। তাই ভুল করে। অভিভাবকদের দায়িত্ব তা শুধরিয়ে দেয়া। তবেই সন্তান আর মা বাবার মধ্যে বিশ্বাস আর সম্প্রীতির শান্তি বিরাজ করবে। সময়ের প্রয়োজনে এমন কথা বলে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের কাছে অভিসিক্ত হলেন জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার।

জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার বলেছেন, আমরা বিচারক তার আগে মানুষ। তাই বিচারকরা সমাজের একজন মানুষ। সমাজে বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে তা প্রত্যেক পেশা শ্রেনি মানুষের উপর প্রভাব পড়ে। যা পরবর্তী রাষ্ট্রের উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হয়। তাই প্রত্যেক মানুষকে সমাজ বিনির্মাণে সম্পৃক্ত হতে হবে। আদালতে মানুষ মামলা নিয়ে হয়রানির শিকার থেকে বা যথাযথ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলে তাতে সংবিধান রক্ষিত হয়না।

Dipu - 20-9-2015 (1)তিনি বলেন, খুন হলে একজন মানুষের মৃত্যু হয় আর যৌতুক পুরো পরিবারকে খুন করে। মেয়েরা নিজের পর্যায়ে নিজেরা দাঁড়াতে না পারলে অত্যাচার নির্যাতনের বলি হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মেয়েরা উপার্জনে সক্ষম না হওয়ায় এবং যৌতুকের কারণে দেশে গত ৩ বছরে ৬ হাজার মেয়ে খুন ও আত্মহনন হয়েছে। স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের এই সময় আবেগের। তাই তারা ভুল করে। আর অভিভাবকরা এটাকে দোষ মনে করে শাসন করে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। মানুষের সব মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে আইন আদালতের চেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ধর্মীয় রীতি নীতি অনুশাসন। তাই ছাত্রজীবন থেকে ধর্মপরায়নে মনোযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। যে নিজের বিবেককে নিজে ফাঁকি দেয়না সেই সফল হতে পারে। তাই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে বিবেককে কাজে লাগাতে হবে।

২০ সেপ্টেম্বর জেলার স্বনাম ধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী মিলনায়তনে শিক্ষার্থী অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি শিক্ষাবিদ এম.এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, নাগরিকদের সেবা দানে সরকারী বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। যদি যথাযথ সেবা না পেয়ে মানুষ দপ্তর থেকে অশ্রু নিয়ে ফিরে আসে তখন আর সংবিধান সমুন্নত থাকেনা।

শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হবে এটা স্বাভাবিক। তার সাথে শিক্ষার্থীদের সৎ মানুষ হওয়ার সাধনা করতে হবে। তবেই সংবিধান ও নৈতিকতা সমুন্নত থাকবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ছৈয়দ করিম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন, দৈনিক কালেরকন্ঠের জেলা প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট তোফায়েল আহমদ, দৈনিক প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আবদুল কুদ্দুস রানা, অভিভাবক অ্যাডভোকেট জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, অভিভাবিকা রাবেয়া বশরী রূপসী। আরো উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক ইনকিলাবের জেলা প্রতিনিধি শামশুল হক শারেক, সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল বিশু।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, গীতা পাঠ করেন, নিলয় দে, ত্রিপিটক পাঠ করেন সুজন বড়ুয়া সৌরভ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন শিক্ষক ইমতিয়াজ হাসান।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com