শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

জেলা পরিষদ নির্বাচন : ১১ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী নিয়ে বিভক্ত রামু আওয়ামী লীগ


শহীদুল্লাহ্ কায়সার, কক্সভিউ :

জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত রামু উপজেলার রাজনীতি। ১১ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি। ভিন্ন কোন রাজনৈতিক দল নয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত দু’প্রভাবশালী সহোদর এর জন্য দায়ী। ওয়ার্ডটিতে আসন্ন নির্বাচনে মাত্র দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যাঁরা দু’জনই উল্লিখিত দু’ভাইয়ের কাছের জন হিসেবে পরিচিত।

ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সংসদ-সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের পক্ষ নিয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে কমল সমর্থক হিসেবে পরিচিত পলক বড়ুয়া আপ্পুকে ১১নং ওয়ার্ডের সদস্য পদে দলীয় প্রার্থী বলা হচ্ছে। অন্যদিকে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের বড় ভাই সোহেল সরওয়ার কাজল প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মণ্ডলের পক্ষে।

এ ব্যাপারে ৭ ডিসেম্বর বুধবার রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ জন্য এমপি কমলকে দায়ী করে বলেন, “তিনি এখানে (রামু) সংগঠনের চেতনা বাস্তবায়নের চেয়ে ব্যক্তি রাজনীতি করতেই বেশি পছন্দ করেন। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে কমল লীগ সৃষ্টি করতে চান। বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পরাজিত করতে খরচ করেছেন কোটি কোটি টাকা।” সদস্য পদকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রামুর সকলেই জানেন সংগঠনে শামসুল আলম মণ্ডলের অবদান কতো। এমপি সাহেব ইচ্ছে করলে সংগঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে সকলের সঙ্গে আলাপ করে প্রার্থী ঠিক করতে পারতেন। কিন্তু তিনি বরাবরই সংগঠনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন। যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন; সেখানে জুনিয়র একজনকে প্রার্থী করা মোটেও শুভ লক্ষণ নয়।

২৮ ডিসেম্বরের জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতার বিষয়টি উন্মুক্ত করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ঘোষণা করেন ১৮ জন দলীয় প্রার্থীর নাম। সংগঠনে শৃঙ্খলা অটুট রাখতেই তখন এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি করা হয়েছিল। যদিও তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই ক্রমশই বিপাকে পড়ছে জেলা আওয়ামী লীগ’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ইতোমধ্যে উপজেলাগুলোতে পড়েছে সিদ্ধান্ত অমান্যের হিড়িক।

কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের দোহাই দিয়ে জেলার সিদ্ধান্ত না মানার কথা পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেয়। সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল করিম মাদু প্রকাশ্যেই অবস্থান নেন সংগঠনের জেলা নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। ১১ নং ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী হয়ে উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানান, তাঁর বিজয় মানে জেলা আওয়ামী লীগের পরাজয়। সেই তালিকায় এবার যোগ হলেন, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মণ্ডল। তিনিও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন. কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। এই নির্বাচনের সূত্র ধরে রামুর রাজনীতিতে কাজল-কমল এই দু’সহোদরের দ্বন্দ্ব আবার প্রকাশ্যে এসেছে।

উল্লেখ্য কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীসহ রামু উপজেলার রশিদ নগর, জোয়ারিয়ানালা এবং ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন নিয়ে ১২ নং ওয়ার্ড গঠন করা হয়। উপজেলার ৩জনপ্রতিনিধিসহ চার ইউনিয়নের ৫২ জন জনপ্রতিনিধি মিলিয়ে ওয়ার্ডটির নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য ৫৫।

আমিই একমাত্র দলীয় প্রার্থী -পলক আপ্পু
১১ নং ওয়ার্ডে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বলেছেন, তিনিই একমাত্র দলীয় প্রার্থী। সংসদ-সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সবার সমর্থন পাচ্ছেন। সংগঠনের বৃহৎ অংশ তাঁর পক্ষে। এ কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ার কোন প্রশ্ন আসে না।

বিজয়ী হতে কাউকে কোন ধরনের চাপ দিচ্ছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাপ ও জোর দেওয়ার মতো অবাস্তব। ভয়ভীতি দেখানোও সম্ভব নয়। সম্প্রতি এমপি সাহেব বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন। সেখানে তিনি কীভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন? উল্টো প্রশ্ন করেন পলক বড়ুয়া আপ্পু।

সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করায় তিনি কিছুতেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। শামসুল আলম মণ্ডল বিদ্রোহী প্রার্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সমঝোতায় এলে আমি তাঁকে স্বাগত জানাবো। কারণ তিনি দলীয় পদবী ব্যবহার করছেন।” রামু রাজনীতির গ্রুপিং সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি গ্রুপিং এ জড়াতে চাই না। কোন গ্রুপের রাজনীতিও করিনা। জাাতিগত সম্প্রীতি বজায় রাখতে তাঁকে বিজয়ী করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমপি কমল নির্বাচকদের হুমকি দিচ্ছেন -শামসুল মণ্ডল
রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, সংসদ-সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল তাঁর সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছেন। মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে হয়রাণি করার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ইতিপূর্বে এমপি’র লোকজন আমার প্রস্তাবকারীকে সন্তোষ বড়ুয়াকে হুমকি দেয়ার কারণে তিনি তিন দিন আত্মগোপনে ছিলেন। আর সমর্থনকারী আবুল বশর (ফতেখাঁরকুল)কে উপস্থিত হতেই দেয়া হয়নি। বিষয়টি আমি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনকে অবহিত করি। প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, এমপি সাহেবের ব্যক্তিগত আগ্রহের কারণেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রার্থীতা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতাম না।

সংগঠনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি আবারো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবো না। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই প্রার্থী হয়েছি। দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ইতিপূর্বে জেলা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলো। পরে আবেদনপত্র জমা নেয়া হয়। এরপর আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে আমি তা মেনে নিতাম।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com