ডালিম ফলের যত গুণ

https://i0.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2022/01/Fruit-Pomegranate.jpg?resize=540%2C285

অনলাইন ডেস্ক :
ডালিম দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি রয়েছে এর উপকারিতা ও ব্যাপক পুষ্টিগুণ। ডালিম খাওয়ার রয়েছে বহু উপকারিতা। ডালিম বা বেদানা কে আমরা চিনি ফল হিসেবে। আয়ুর্বেদে ডালিমকে অত্যন্ত অলৌকিক ফল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এটাও বলা হয়েছে যে এর ব্যবহারে অনেক রোগ নিরাময় করতে পারে। বাড়ির ছোট থেকে বড় সকলেরই পছন্দের খাবার এটি। ডালিমের বৈজ্ঞানিক নাম Punica granatum এবং ইংরেজিতে বলা হয় Promegranate।

ডালিম কে হিন্দি, ফার্সি ও পশতু ভাষায় আনার বলা হয়। আজারবাইজানি ভাষায় নার এবং কুর্দি ভাষায় হিনার বলা হয়। নেপালি ও সংস্কৃত ভাষায় একে বলা হয় দারিম। দেশ ভেদে গোষ্ঠী ভেদে ডালিমের নাম ভিন্ন হতে পারে তবে স্বাদে ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল সকলের কাছেই প্রিয়।

ইরান ও ইরাক থেকে ডালিমের বিস্তৃত ঘটে। প্রাচীনকালে ককেশাস অঞ্চলে এর চাষ হয় এবং সেখান থেকে ভারত উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে তুরস্ক, ইরান, সিরিয়া, স্পেন, আজারবাইজান, আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চীন, মিশর, বার্মা প্রভৃতি সহ বিশ্বের অনেক দেশেই এই ফল পাওয়া যায়। এ কারণেই বলা যায় ডালিম বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এবং পরিচিত একটি ফল।

ডালিমে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ভিটামিন। মাত্র এক কাপ ডালিম দানায় রয়েছে আপনার দৈনন্দিন চাহিদর ৩০ শতাংশ ভিটামিন সি, ৩৬ শতাংশ ভিটামিন কে, ১৬ শতাংশ ভিটামিন বি৯ ও ১২ শতাংশ পটাশিয়াম। বিউটেলিক অ্যাসিড, আরসোলিক অ্যাসিড। এছাড়াও কিছু অ্যালকালীয় দ্রব্য যেমন- সিডোপেরেটাইরিন, পেপরেটাইরিনন, আইসোপেরেটাইরিন, মিথাইলপেরেটাইরিন প্রভৃতি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান থাকার কারণে ডালিম আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসায় ঔষধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন রোগ উপশমে ব্যবহৃত হওয়ায় ডালিমকে কবিরাজি মতে হৃদয়ের শ্রেষ্ঠ হিতকর ফল বলা হয়।

ডালিমের যে শুধু দানাটাই ব্যবহার করা হয় তা নয়। ডালিম গাছের শিকড় থেকে শুরু করে বাকল, ফলের খোসা সবই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডালিমের ফুল রক্তস্রাব নাশক। অনেকের মতে ডালিম খেলে শরীরের রক্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ডালিমে থাকে প্রাকৃতিক ইনসুলিন যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডালিম উপকারী। দুর্ঘটনায় শরীরের কোন অংশ কেঁটে গেলে, চিঁড়ে গেলে বা থেঁতলে গিয়ে রক্তপাত হলে সেই ক্ষতস্থানে ডালিম ফুল বা পাতা কচলিয়ে নিয়ে লাগিয়ে দিলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ রক্তপাত বন্ধ করতেও ডালিম বেশ উপকারী।

https://i0.wp.com/coxview.com/wp-content/uploads/2022/01/Fruit-Pomegranate-2.jpg?resize=540%2C369

এমন অনেক মানুষই রয়েছে যাদের নাক দিয়ে হঠাৎ করেই রক্ত ঝরে। শিশুদের মাঝে এই জিনিস টা বেশি লক্ষ্য করা যায়। আঘাত, পলিপ বা কোন কারণ ছাড়াই রক্ত পড়া শুরু করে নাক দিয়ে। তখন ডালিম ফুল কচলিয়ে রস বের করে নিয়ে সেই রস শ্বাসের মাধ্যমে নাকে নিলে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়।

ডালিমের কাঁচা ও শুকনো উভয় খোসা আমাশয় রোগের জন্য উপকারী। ডালিমের খোসা সিদ্ধ করে আমাশয় রোগীরা খেলে ভালো ফলাফল পায়। এজন্য ডালিম খাওয়ার পরও ডালিমের খোসা শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন। ডালিম গাছের শিকড় থেকে ছাল নিয়ে গুঁড়ো করে তা মধুর সাথে মিশিয়ে সেসব শিশুদের যারা পেট বড় হওয়াসহ পেটের বিভিন্ন পীড়ায় ভুগে তাদের খাওয়ালে তারা এই রোগ থেকে উপশম পায়। এছাড়া ডালিম গাছের শিকড় কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে।

নিজ পুষ্টিগুণে ভরপুর ডালিম যে শুধু ফল হিসেবে খাওয়া যায় তা না। বিভিন্ন জটিল রোগের ওষুধ হিসেবে ডালিম গাছের পাতা, ডাল, শিকড় সব কিছুই ব্যবহার করা হয়। তাই বাড়ির প্রতিটি সদস্যকেই ডালিম খাওয়ানো উচিত।

ডালিমের কার্যকারিত :
ডালিম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তাহলে নিয়মিত ডালিম খাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহেই আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ডালিম আথ্রাইটিসে উপকার করে। এছাড়া এটি হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা উপশম করতে সহায়তা করে। দেহের কোলস্টেরলের ঝুঁকি কমায়। এতে রক্তচলাচল বৃদ্ধি পায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। আর এ কারণে এটি অ্যালঝেইমার্সের মতো রোগীদের জন্যও উপকারি। ডালিমে রয়েছে বহু পুষ্টি উপাদান, যা দেহের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। এতে অ্যানেমিয়া ও রক্তের নানা সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে। অনেকেই একে ইনসুলিনের বিকল্প হিসেবে বলেন। এটি মিষ্টি হলেও সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের কোনো সমস্যা হয় না। ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিমের বেশ কিছু উপকার রয়েছে। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে এর ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে গবেষণায়। দেহে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে ডালিম। ডালিম খেলে বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এছাড়া এটি ফাংগাস ইনফেকশনের বিরুদ্ধেই ভূমিকা রাখে। শারীরিক অনুশীলনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুস্থ থাকার জন্য কিংবা ভালো পারফর্মেন্সের জন্য অনেকেই শারীরিক অনুশীলন করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুশীলনের পাশাপাশি ডালিম খাওয়া হলে তা কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

%d bloggers like this: