Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / জাতীয় / দেশজুড়ে আইএস আতঙ্ক : বাড়তি চাপে পুলিশ

দেশজুড়ে আইএস আতঙ্ক : বাড়তি চাপে পুলিশ

Police  8-7-2016

রাজধানী ঢাকার গুলশানে আর্টিজান নামক অভিজাত রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার পরে দেশজুড়ে নাগরিকদের মধ্যে এখন চরম এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। গুলশান হামলার রেশ না কাটতেই ঢাকার একটি শপিংমলের নাম উল্লেখ করে সেখানে হামলার কথাও ঘোষণা দিয়েছে আইএস। এ ধরনের জঙ্গি হামলা ভবিষ্যতে আরো হবে এমন ভিডিও বার্তাও অনলাইনে প্রকাশ করেছে আইএস সর্বশেষ আজ বুধবার। ফলে নাগরিকদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক আরো বেড়ে গিয়েছে।

গুলশান হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আইএস আগাম যেসব তথ্য প্রচার করেছে, তা ঘটনার সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে গেছে বলা যায়। এর ফলে ভবিষ্যতে হামলার বিষয়ে তাদের ঘোষণা নিয়ে বিদেশিদের পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা, আতঙ্ক।

গুলশান হামলার পর থেকে ঢাকাস্থ সকল বিদেশি দূতাবাস তাদের দেশের নাগরিকদের সকল ধরনের ভিড় এড়িয়ে চলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনীতিকদের সকল অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সকল ধরনের কর্মসূচি এমনকি আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলোর সভা-সেমিনারও বর্জন করতে বলেছে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে খোলা যানবাহন যেমন, খোলা জীপ, মটরসাইকেল, সাইকেল ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে। শুধু গাড়ি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। মানুষের ভিড় জমে এমন এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছে। এমনকি শপিংমলকে এড়িয়ে যেতে বলেছে দূতাবাসটি। অন্যান্য দূতাবাসগুলোও এমন নির্দেশনা দিয়েছে।

জাপান দূতাবাস যেকোনো বিষয়ে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে যেসব জাপানি নাগরিক রয়েছে, তাদের চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, এ হামলার পরে আতঙ্কে অনেক বিদেশি নাগরিক ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছেন। যাদের বিশেষ কাজ রয়েছে বা কাজসূত্রে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তারাও চিন্তা করছেন এদেশ থেকে অন্য কোথাও চলে যেতে।

এদিকে এ হামলার পরে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে শুধু জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সশস্ত্র সেনা পাহারা বসানো হয়েছে। ঈদের দিন পুরো সময় জুড়েই মসজিদে থাকবে তারা।

এ হামলা নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঈদের সময় এমনিতেই রাজধানী ফাঁকা হয়ে যায়। এসময় পুলিশকে ব্যস্ত থাকতে হয় নগর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবারের জঙ্গী হামলা। এ হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত ও ২৬ জনের মতো আহত হওয়ায় পুলিশ সদস্যরাও নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাদের পরিবারবর্গের পক্ষ থেকেও দায়িত্বরতদের বার বার সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা নিয়মিত উপদেশ দিচ্ছেন বিভিন্ন বিষয়ে। ফলে পুলিশ সদস্যদের মাঝেও নতুন চিন্তা দানা বেঁধেছে। একই সময়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এধরনের হামলা মোকাবেলায় তারা আসলেই প্রস্তুত কি-না। হামলা আরো হলে প্রথমেইতো পুলিশ সদস্যদের মোকাবেলা করতে হয়। যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালিত হবে অনেক পরে। ফলে জানা গেছে, এক জায়গায় কম সংখ্যক সদস্য নিয়ে দায়িত্ব পালনে সংশয় প্রকাশ শুরু করছে এ বাহিনীর সদস্যরা।

পুরো রমজান জুড়েই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়েছে। বর্বরোচিত হামলা করে হত্যা করা হয়েছে মন্দিরের পুরোহিত থেকে শুরু করে ভিক্ষু। বাদ যাননি মুক্তমনা লেখকরাও।

এই ধারাবাহিক হামলার সঙ্গে আইএস জড়িত আছে বলে সরকারকে বিভিন্ন সময়ে বলেছিলো বিদেশি দূতাবাসগুলো। এর মধ্যে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট গত ২৭ এপ্রিল বৈঠক করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে। এসময় তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে আইএস আছে একথা সরকারকে বিশ্বাস করতে হবে।

জুলহাজ মান্নান হত্যার তদন্ত বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে বার্নিকাট এ কথা বলেছিলেন। বার্নিকাট আরো বলেছিলেন, অপরাধীরা অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়ার মতো পরিবেশ এদেশে আছে।

তবে বার্নিকাটের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বি-মত পোষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আইএস এর নাম ভাঙ্গিয়ে এদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোই এসব কাজ করছে।

এর আগেই আইএস ঘোষণা দিয়েছিলো রমজান মাসে তারা বাংলাদেশে শাখা খুলবে। তাহলে কী জঙ্গী হামলার মধ্য দিয়েই তারা জানান দিলো বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্ব আছে।

অথচ সরকারের পক্ষ থেক বলা হয়েছে, নিহত জঙ্গীরা সবাই বাংলাদেশি। এই হামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কোন যোগাযোগ নেই।

এ বিষয়ে ঢাকার একটি দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা শীর্ষ নিউজের এ প্রতিবেককে বলেছেন, জঙ্গিরা আন্তর্জাতিক কোনো সংগঠনের সদস্য কি-না, সেটি তর্কের বিষয় হতে পারে না। এদের কর্মকা-ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংগঠনের মিল আছে কিনা সেটাই বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যকলাপের মতোই এসব জঙ্গিদের হামলার ধরন ও স্বীকারোক্তি। জঙ্গি হামলা ঠেকাতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে নিঃসন্দেহে।

সূত্র:sheershanewsbd.com

%d bloggers like this: