Home / প্রচ্ছদ / পরিত্যাক্ত নোনাছড়ি কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টার ভবন : উদাসিন কর্তৃপক্ষ

পরিত্যাক্ত নোনাছড়ি কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টার ভবন : উদাসিন কর্তৃপক্ষ

পরিত্যাক্ত নোনাছড়ি কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টার ভবন

পরিত্যাক্ত নোনাছড়ি কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টার ভবন

শহীদুল ইসলাম কাজল; মহেশখালী :

দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী দীর্ঘদিন থেকে বেশ কিছু সরকারী ভবন ব্যবহার অনুপযোগী,পরিত্যাক্ত ও মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তা নিয়ে কার্যত মাথাব্যাথা নেই কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারী সম্পদ হয়েও যুগ যুগ ধরে অনেকটা বেওয়ারিশ সম্পদের মতো পড়ে থাকায় এরই মধ্যে অনেক কিছু চুরি হওয়ায় কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকে দায়ী করেন সচেতন মহল।

সরজমিনে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের নোনাছড়িতে চোখে পড়ে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের পরিত্যাক্ত সরকারী একটি ভবন। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ছাবের আহমদ জানান, কোস্টাল কমিউনিটি সেন্টার নামে পরিচিত এ ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৫৪ সালে। এর পর ১৯৬০ ইংরেজি থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয় কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় হিসেবে। কালারমারছড়া ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দু ছালাম জানান, মূলত ভবনটি একানব্বই সালের ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অন্য কোথাও সুযোগ সুবিধা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়ে ঝুকিপূর্ণ ভবনটি পরিষদ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই।

পরিত্যাক্ত ভবনটি নিলামে বিক্রি করে দিলে সরকার পেত লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। অথচ সরকারী ভবনগুলো নিয়ে কোন উদ্যোগ লক্ষ্যনীয় না হওয়ায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন অনেকেই।

দীর্ঘদিন ঝরা জীর্ন অবস্থায় থাকার ফলে প্রাকৃতিক দূর্যোগে দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও তা নিয়ে কার্যথ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি যুগ যুগ ধরে। পরিত্যাক্ত ভবন সংলগ্ন খেলার মাঠে সাপ্তাহে দু দিন বাজার বসে। বর্ষাকালে অনেকেই পরিত্যাক্ত ভবনে পানের টুকরি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অবস্থান করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী গ্রামের ছেলেরা প্রায় সময় পরিত্যাক্ত ভবনে বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলাই মগ্ন থাকেন। তাই যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশংকা করেন স্থানীয়রা। সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শনে দেখা যায়, দীর্ঘ কয়েক যুগধরে ব্যবহার অনুপযোগি ও ঝুকিপূর্ণ বেশ কিছু ভবন রয়েছে। নিলামের ব্যবস্থা নিলে পরিত্যাক্ত ভবন থেকে প্রায় কোটি টাকা আসতে পারে বলে জানান অভিজ্ঞ মহল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঝুকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। যার কারনে যে কোন সময় দুর্ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা জানান শিক্ষক মন্ডলী ও অভিভাবক সমাজ। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ভবনগুলো না ভেঙে পাশাপাশি খেলার মাঠ দখল করে নতুন ভবন নির্মাণ করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবী করেন কালারমারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব বদরুল আলম আনচারী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জানান, প্রায় সময় অফিসে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসলেও ঝুকিপূর্ণ ও পরিত্যাক্ত ভবন নিয়ে কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে মহেশখালী উপজেলায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সরকারী সম্পদ অযত্ন অবহেলায় দিনের পর দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ভবন নিলামে বিক্রি করলে সরকার পাবে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব, অনাকাংখিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাবে জানমাল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারী পরিত্যাক্ত ভবন গুলোর দরজা জানালার গ্রীল ও ব্যবহার উপযোগী মূল্যবান উপাদান গুলো রাতের অন্ধকারে চুরি হয়ে যাচ্ছে। দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ অবহেলা না করে ভবন গুলো নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা নিলে সরকার রাজস্ব পাওয়ার পাশাপাশি সরকারী সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পরিত্যাক্ত ভবন নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম জানান, উপজেলার যে সব জায়গায় সরকারী পরিত্যাক্ত ভবন ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এর তালিকা তৈরী পূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রিয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত কল্পে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানান ইউএনও। সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

%d bloggers like this: