শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ার শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় বহিস্কৃত নয় শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহন!

no-photo-2

মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

তিন শিক্ষককে পিটিয়ে আহতের ঘটনায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ থেকে বহিস্কৃত নয় শিক্ষার্থী মূল্যয়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন ওই শিক্ষার্থীরা।এ ঘটনায় শিক্ষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর জের ধরে দুইজন শিক্ষক কলেজ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন।

প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। সকাল নয়টা থেকে পরীক্ষার্থীরা কলেজের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে পরীক্ষার্থীরা বহিস্কৃত সহপাঠীদের ছাড়া পরীক্ষা দেবে না বলে ঘোষণা দেন। এসময় পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফুর রশিদ খান ও পেকুয়া থানার ওসি জিয়া মোহাম্মদ মোস্তাফিজ ভুঁইয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সব পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে দেন। এসময় পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিস্কৃত নয় শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে কয়েকজন শিক্ষক অপমানে ও ক্ষোভে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক এনামুল হক বলেন, আমাদেরকে পিটিয়ে আহত করার পর বহিস্কৃত নয় ছাত্র শাস্তি পাওয়ার আগেই আবার পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারায় শিক্ষকতাই করতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। আবার কেমনে ওই কেন্দ্রে শিক্ষকেরা দায়িত্ব পালন করবে? এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এনামুল হক আরো বলেন, অপমানে-ক্ষোভে আমি পদত্যাগ পত্র দিলেও অধ্যক্ষ তা গ্রহণ করেননি। আমার সঙ্গে আরেকজন শিক্ষকও পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার জন্য প্রস্তুত করেছেন। শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় কোনো সুরাহ না হলে আমরা (শিক্ষকেরা) সিদ্ধান্ত নিয়েছি শিক্ষামন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র দিবো। এরপর সম্মান নিয়ে বাঁচতে প্রয়োজনে রিক্সা চালাবো।

জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, পরিবেশ পরিস্থিতির বিবেচনায় বহিস্কৃত নয় শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ানো ছাড়া উপায়ন্তর ছিলনা। এ ঘটনায় মামলা ও শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের যথোপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার। হামলাকারীদের নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন আত্মীয়দের নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে আমার দপ্তরে আসলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।

উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ বলেন, পরিস্থিতি জানতে আমি কলেজে পৌছার আগেই পরীক্ষা শুরু হয়। শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নচেৎ এই রকম ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া মোহাম্মদ মোস্তাফিজ ভুঁইয়া বলেন, ‘কলেজের অধ্যক্ষের দায়ের করা এজাহারে অনেক ভুল ও ঘষামাজা ছিল। একারণে এজাহারটি সংশোধনের জন্য নিয়ে গেছেন অধ্যক্ষ। এরপর তিনি আর এজাহারটি ফেরত দেননি।

ওসি আরো বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী প্রবেশের সময় বহিস্কৃতদের চিহিৃত করতে কোন একজন ব্যক্তিকে পুলিশের সাথে রাখতে অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তিনি তা ওই অনুরোধে সাড়া দেননি। তাই পুলিশ কারা বহিস্কৃত চিহ্নিত করতে না পারায় কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। কেন্দ্রের মধ্যে বহিস্কৃত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বারণ না করে খাতা-প্রশ্ন সরবরাহ করেছে শিক্ষকরা! তিনি আরো বলেন, নিউজ সংক্রান্ত বিষয়ে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা জিডির আলোকে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিমল কান্তি দেব তদন্ত শুরু করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমানকে মঙ্গলবার অসংখ্যবার তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com