Home / প্রচ্ছদ / পেকুয়ায় অপহরণের ৭ ঘন্টা পর বৃদ্ধ দম্পতি উদ্ধার : এএসআইসহ ৩ পুলিশ আহত : স্বামী-স্ত্রীসহ আটক ৩

পেকুয়ায় অপহরণের ৭ ঘন্টা পর বৃদ্ধ দম্পতি উদ্ধার : এএসআইসহ ৩ পুলিশ আহত : স্বামী-স্ত্রীসহ আটক ৩

Kidnappingমুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বয়োবৃদ্ধ এক দম্পতিকে অপহরণের ৭ ঘন্টা পর জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রুদ্ধদ্বার অভিযানকালে অপহরণকারীদের দা’য়ের কোপে এএসআইসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়। দম্পতিকে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারী স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মধ্যম মেহেরনামা গ্রামে।

পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার হওয়া দম্পতি হলেন, ফজল আহমদ (৭০) ও তার স্ত্রী নুর বানু (৬০)। আটক অপহরণকারীরা হলো- মোছলেহ উদ্দিন (৪০), তার স্ত্রী তসলিমা বেগম (৩২) ও শ্যালক রাসেল (২৫)।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাসির উদ্দিন, কনস্টেবল তাইজুদ্দিন ও সাইদুজ্জামান।

উদ্ধারের পর নুর বানু বলেন, সোমবার বিকাল ৪টার দিকে মধ্যম মেহেরনামার বাড়ি থেকে স্বামী ফজল আহমদসহ আমাকে অপহরণ করা হয়। একই গ্রামের মোছলেহ উদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে জিম্মি করে রাখে। ওই সময় ধারালো দা’ দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। আত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দিতে বলে। নচেৎ কুচি কুচি করে কেটে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়।

পেকুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়া মো. মোস্তাফিজ ভুইয়া বলেন, অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য দিনে অপহরণ করা হলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে এলাকার লোকজন ঘটনাটি আমাকে জানায়। ঘটনাটি জানার সাথে সাথে কক্সবাজার সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মাসুদ আলমসহ একদল পুলিশ অভিযান চালাই।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ লোকজনের সহায়তায় অভিযানকালে অপহরণকারীরা পুলিশের উপর হামলা চালায় এবং দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে পুলিশের এএসআইসহ তিন পুলিশ আহত হয়। তাদের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং অপহরণের নেতৃত্ব দেয়া মোছলেহ উদ্দিন জনতার পিটুনিতে আহত হলে তাকেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভিকটিম উদ্ধারের ঘটনায় অপহরণ ও পুলিশ এসল্টের অভিযোগে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে আটক তিনজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে মোছলেহ পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার স্ত্রী তসলিমা বেগম ও শ্যালককে মামলার আসামী দেখিয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনে রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে।

%d bloggers like this: