Home / প্রচ্ছদ / পেকুয়ায় এক মাদকাসক্তের কান্ডে এলাকা তোলপাড় : পুলিশ আহত : আটক-৩

পেকুয়ায় এক মাদকাসক্তের কান্ডে এলাকা তোলপাড় : পুলিশ আহত : আটক-৩

Handcuff - 13 (a)এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী, পেকুয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক মাদকাসক্তের কান্ডে এলাকা তোলপাড় একাধিক পুলিশ সদস্য আহতের খবর পাওয়া গেছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের ঝড় বইছে। ঘটনাটি ঘটেছে, ১৪ডিসেম্বর সোমবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা আবদুল হামিদ সিকদারপাড়া এলাকায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই এলাকার মৃত গুরা মিয়া সিকদারের পুত্র মোসলেম উদ্দিন একই গ্রামের আন্নরআলী মাতবরপাড়া এলাকার মৃত আবদুস ছালামের পুত্র ফজল আহমদ (৭০) ও তার স্ত্রী নুর বানু (৬৫) নামের এক দম্পত্তিকে মুক্তিপণ দাবীতে তার বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখেন। মুক্তিপণ দাবীতে দাম্পতিকে দিনভর জিম্মি রাখার বিষয়টি কেউ জানতে না পারলেও রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি ফাঁস হয়।

এসময় পারিবারিক লোকজন ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গরা শত চেষ্টা চালিয়েও অভিযুক্ত মাদকাসক্তকে নিবৃত্ত ও বশে আনতে ব্যর্থ হন। পরে, খবর পেয়ে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অপহৃতকে উদ্ধার অভিযানে যান। কিন্তু দীর্ঘ দু’ঘন্টারও বেশি সময় চেষ্টা চালালেও মাদকাসক্ত মোসলেম উদ্দিন আহমদ তার বসতঘরের দরজা খুলে দিতে রাজী না হওয়ায় পুলিশ বিপাকে পড়ে বিষয়টি উর্ধতন মহলকে অবহিত করেন। একপর্যায়ে জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) এম.মাসুদ আলমও ছুটে যান ঘটনাস্থল। তিনিও অভিযুক্ত মাদকাসক্তের হেফাজতে জিম্মি দাম্পত্তিকে ছাড়ানো ও নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হন।

পরে, মাদকাসক্তের হাতে দাম্পত্তি জিম্মিতে পুলিশ বিপাকের সংবাদ লোকমুখে ছড়িয়ে একান ও কান করে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মারুফুর রশিদ খানের কানেও বিষয়টি পৌঁছালে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান স্থানীয় চেয়ারম্যান এম.বাহাদুর শাহ ও মেম্বার গ্রাম পুলিশদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টায় পুলিশ অভিযুক্ত মাদকাসক্তের বসতঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর নির্দ্দেশে পুলিশ অভিযুক্ত মাদকাসক্ত মোসলেম উদ্দিন আহমদের বসতঘরে প্রবেশকালে মাদকাসক্ত মোসলেম উদ্দিন আহমদ ও অন্যান্যরা পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে পেকুয়া থানা পুলিশের এ.এস.আই মোঃ নাছির উদ্দিন, এ.এস.আই মোঃ নাজির, কনস্টেবল ৭৪০তাজউদ্দিন, কনস্টেবল ১০৬৮সাইদুজ্জামান, ব্যাটালিয়ান আনসার পুলিশ/১১১৪৪৭৮নামীয় পুলিশরা আহত হন।

এসময় উপস্থিত উর্ধ্বতন অফিসাররা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত পুলিশের সমাবেশ ঘটিয়ে সেখানে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে মাদকাসক্ত পরিবারকে কাবু করিয়া জিম্মি বৃদ্ধা দাম্পত্যকে অক্ষতবস্থায় উদ্ধারে সক্ষম হন। ও অভিযুক্ত মাদকাসক্ত মোসলেম উদ্দিন হায়দার, তার স্ত্রী তসলিমা বেগম ও শ্যালক রাশেল (২৫) নামের ৩জনকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান এবং আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করান।

পেকুয়ার ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান ও ওসি জিয়া মোঃ মোস্তাফিজ ভুইঁয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পেকুয়া থানার এ.এস.আই (নিঃ) বিপুল চন্দ্র রায় বাদী হয়ে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করেছেন। যার মামলা নং-০৯।

%d bloggers like this: