শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় চরম নানা অসংগতির মধ্য দিয়ে ৩দিনের উন্নয়ন মেলা সম্পন্ন

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী; পেকুয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় চরম নানা অসংগতি ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে ৩দিনের উন্নয়ন মেলা সমাপ্ত হয়েছে। ২য় দিনে মেলার পরিধি বাড়ালেও নানা অনিয়ম অব্যস্থাপনায় দর্শক টানতে ব্যর্থ হন আয়োজকরা। একই সাথে এলাকার মাটি আর মানূষের কল্যানে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপক নানা উন্নয়ন জণকল্যানধর্মী কর্মকান্ডের বিষয় অবহিতে সংশ্লিষ্টরা দেখিয়েছে সংকীর্ণতা, দোদূল্যমানতা আর বিভ্রান্তির পরিচয়। ফলে, এবার পেকুয়া উপজেলার উন্নয়ন মেলা-২০১৬ গণআকৃষ্টে হয়েছে ব্যর্থ। যা নিয়ে মেলায় আগন্তুকরা আয়োজক সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরব সমালোচনায় ক্ষোভ, বিস্ময় ও হতাশা ব্যক্ত করেন।

সমালোচকদের মন্তব্য এবারের উন্নয়ন মেলা এলাকাবাসীর প্রত্যশা যেমন পূরন করতে পারেনি তেমনি মেলার জন্য বরাদ্ধ সরকারী অর্থের যথেষ্ট নয় ছয় করার ঘটনা প্রতিয়মান হয়েছে।

৯ জানুয়ারী সোমবার বেলা ২টায় থেকে পেকুয়া কলেজ গেইট চৌমুহুনী সংলগ্ন জিএমসি ইউনিষ্টিটিউশান স্কুল আঙ্গিনায় ৩দিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলার আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন। মেলার প্রথম দিনে স্থানীয় সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্টান তাদের সেবা ও উন্নয়নের বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিতে বিভিন্ন তথ্য চিত্র উপাত্তে সাজিয়ে ষ্টল স্থাপন ও মনোজ্ঞ প্রদর্শনী করে সাড়া ফেললেও এদিন উপজেলার ৭ইউনিয়নের মধ্যে ৩ইউনিয়ন বসায়নি তাদের কোন প্রদর্শনী স্টল। যা নিয়ে পরদিন একাধিক পত্র পত্রিকা ও গণমাধ্যম সচিত্র সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার হলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের।

এসময় ষ্টল স্থাপনে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া ইউপি চেয়ারম্যানরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো উদোর পিন্ডি বুধের ঘাড়ে চাপালেও পরদিন ১০জানুয়ারী মঙ্গলবার রাতের আঁধারে বিএনপি জামাত সমর্থীত ৩ইউপি যথাক্রমে পেকুয়া সদর, শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পৃথক কক্ষে তাদের প্রতিষ্টানের পক্ষে সম্পাদিত উন্নয়ন ও সেবা মূলক কার্যক্রমের বিষয় তুলে ধরা ছাড়াই লোক দেখানো আকারে মেলায় নেয়। যা নিয়ে এলাকার মানূষের মুখে মুখে ও আগন্তুকদের মন্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন মন্তব্য।

১১জানুয়ারী বুধবার বেলা ৪টায় মেলার সমাপনী দিবসে দর্শক শ্রোতা অংশগ্রহন সংকির্ণ পরিসরে ব্যস্ততম সড়ক পাশের এক আলোচনা সভার আয়োজন করে মেলা কর্তৃপক্ষ। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও পেকুয়া জিএমসি ইউনিষ্টিটিউশন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাষ্টার জহির উদ্দিনের সঞ্চালানায় অনুষ্টিত সমাপনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফা হায়দার রণি, পেকুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার এইচ এম মনিরুজ্জামান রব্বানী, পেকুয়া উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মোঃ জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, পেকুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহফুজুর রহমান, পেকুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাসান মুরাদ চৌধুরী, উপজেলা সমবায় অফিসার ওসমান গণি, পেকুয়া উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজী, সহকারী প্রকৌশলী হারু কুমার পাল ও অন্যান্য পদস্থ্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

মেলার সার্বিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের পিআইও সৌভ্রাত দাশ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, শিলখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল হোছাইন, সদর ইউপি চেযারম্যান এম. বাহাদুর শাহ, উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বারবাকিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ অধ্যক্ষ বদিউল আলম, রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নূর, টইটং ইউপি চেযারম্যান মোঃ জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, পরিষদ সচিবদের মধ্যে সদর ইউপি’র মোঃ মুহসিন, টইটং ইউপি’র মোঃ আবদুল আলিম, উজানটিয়া ইউপি’র মোজাহের, শিলখালী ইউপি’র মোঃ আল আমিন, রাজাখালী ইউপি’র এরফান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

লোক দেখানো মেলার সমাপনী দিবসে সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, বর্তমান সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন যাবতীয় উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সূফল জনগণের দৌড়গোঁড়ায় পৌঁছে দিতেই উন্নয়ন মেলার আয়োজন। এ আয়োজনকে সফল ও স্বার্থক করতে স্বঃ স্বঃ এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নেতৃস্থানীয়দের রয়েছে অপরিসীম নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

https://www.facebook.com/coxviewnews

Design BY Hostitbd.Com