Home / প্রচ্ছদ / পেকুয়া আ’লীগের সভাপতি নিয়ে স্বস্তি দেখা দিলেও উপজেলা আ’লীগের প্রচারণায় জনমনে বিভ্রান্তি!

পেকুয়া আ’লীগের সভাপতি নিয়ে স্বস্তি দেখা দিলেও উপজেলা আ’লীগের প্রচারণায় জনমনে বিভ্রান্তি!

Map - Pekuyaএস.এম.ছগির আহমদ আজগরী; পেকুয়া :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মনোনিতে সর্বমহলে স্বস্তি ফিরলেও উপজেলা আ’লীগের প্রচারনায় জনমনে বিভ্রান্তি ও নিরব অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন সরকারীদল আ’লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিষয়টির বিরোধ নিষ্পত্তির জোরালো দাবী জানিয়েছেন।

জানা যায়, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি ছাদেকুর রহমান ওয়ারেচীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত দলের সম্মেলন ও কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম সাহাবউদ্দিন ফরায়েজী। সম্প্রতি কয়েক মাস পূর্বে নিখোঁজ হয়ে আ.ক.ম সাহাবউদ্দিন ফরায়েজীর লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা সংগঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব শূন্য পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগে দেখা দেয় প্রধান নীতি নির্ধারক পদ হিসাবে পরিচিত সভাপতি পদের শূন্যতা। যা নিয়ে জেলা ও উপজেলা আ’লীগের নেতৃস্থানীয়রা জড়িয়ে পড়েন চরম নানা টানাপোড়েনে। একপর্যায়ে জেলা আ’লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসাবে পরিচিত চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ জাফর আলম’র অনুসারী ও তার প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্ধীরা পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের শূন্য সভাপতি পদের দায়িত্ব অর্পন পালনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তীব্র হয়ে উঠে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব। পরে, গত মাসের শেষ দিকে পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের জাফর আলম অনুসারীরা পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব দেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবীদ হিসাবে পরিচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষানূরাগী মাষ্টার আজমগীর চৌধুরীর উপর। সে সময় থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করলেও তাকে মানতে নারাজ হয়ে পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন অনুষ্টানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আজমগীর চৌধুরীর অনুসারীরা বিরোধীতায় প্রকাশ্য বক্তব্য বিবৃতিতে মাতেন কক্সবাজার জেলা ও পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের বিরাট একটা অংশ। তখন এ বিরোধ অবসানের দায়িত্ব বর্তায় জেলা আ’লীগের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে। এ সময় জেলা আ’লীগের নীতি নির্ধারকরা একাধিকার নির্ধারিত অনির্ধারিত বৈঠকে বসে ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত ১৩ জানুয়ারী অনুষ্টিত জেলা আ’লীগের সভার সর্বসম্মতিক্রমের সিদ্ধান্তে জেলা আ’লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পেকুয়া সদর ইউনিয়নের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ৩-৩বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এডভোকেট কামাল হোসাইনকে পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত দিয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেন। এতে জেলা ও উপজেলা আ’লীগের অধিকাংশ নেতৃস্থানীয় অনুসারী বিরাট অংশের নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয় ইউএনও ওসি থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে এডভোকেট কামাল হোসাইনের পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনের ঘোষণায় স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা দেয়। কিন্তু আ’লীগ নেতা জাফর আলমের অনুসারী হিসাবে পরিচিত পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কাসেমের নেতৃত্বাধীন অংশ জেলা আ’লীগের সিদ্ধান্ত ও ঘোষণার বিষয়টি মানতে অপারগতা জানিয়ে কামাল হোসাইনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা পাশ কাটিয়ে আজমগীর চৌধুরীকেই পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে প্রচারণা অব্যাহত রাখেন। ফলে, তা নিয়ে সর্বত্র দেখা দেয় নতুন করে বিভ্রান্তি, সংকট ও অসৌজন্যতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। সর্বশেষ ১৭ জানুয়ারী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কেন্দ্রীয় আ’লীগের নীতি নির্ধারক ওবায়দুল কাদেরের পেকুয়া সফর ও অন্যান্য প্রচারণায় জেলা আ’লীগ ঘোষিত পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. কামাল হোসাইনের পরিবর্তে মাষ্টার আজমগীর চৌধুরীকেই দেখানোর প্রতিযোগিতায় বিষয়টি নিয়ে যায় জটিল অবস্থায়।

অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে? এড: কামাল হোসাইন না কি মাষ্টার আজমগীর চৌধুরী বিতর্কের অবসান দ্বন্দ্বে বিভ্রান্তির শিকার অবস্থায় রয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরাও। বিষয়টির প্রচারণা নিয়ে সংবাদকর্মীদের মাঝেও দেখা দেয় অস্বস্তি সংকট।

এ অবস্থায় পেকুয়ার প্রশাসনের লোকজন থেকে শুরু করে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহ এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।

এ প্রসঙ্গে জানতে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি চলতি মাসের ১৩জানুরারী অনুষ্টিত জেলা কমিটির মুলতবি বর্ধিত সভায় এডভোকেট কামাল হোসাইনকে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনীত করে পত্র পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানান।

এদিকে বিষয়টির প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে সর্বসাধারনের কাছে খোলাসা করে দেয়ার জন্য পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

%d bloggers like this: