Home / প্রচ্ছদ / প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তিতে… ফাটল বিদ্যালয় ভবনে ক্লাস চলে বারান্দায়

প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তিতে… ফাটল বিদ্যালয় ভবনে ক্লাস চলে বারান্দায়

MR Mahbub Press News (1pic)এম.আর মাহবুব; কক্সভিউ :

কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কাটাখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উৎসব পালন করবে। অথচ দীর্ঘ ৫০ বছরের স্কুলটি চলছে মাত্র দু’টি শ্রেণী কক্ষ দিয়ে। তাও মেয়াদোত্তীর্ণ। ১৯৮৮ সালে তিন কক্ষের সেমি পাকা স্কুল ভবনটি এখন ফেটে চৌচির। আধা পাকা দেয়ালের বেশ কয়েকটি স্থানে মারাত্মক ফাটলের দৃশ্য বিদ্যমান।

স্কুলটিতে অধ্যয়নরত তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণীকক্ষে সংকুলান না হওয়ার বর্তমানে প্রায় দু’শতাধিক ক্ষুদে শিক্ষার্থীর শ্রেণী কার্যক্রম চলছে বারান্দায় অথবা খোলা আকাশের নিচে গাছের ছায়ায়। শুধু তাই নয় ডুলাহাজারার অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যের স্কুলটিতে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আছে মাত্র একটি টয়লেট। সব মিলিয়ে একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল যুগের এই সময়ে পুরনো স্কুলটি নানান সমস্যার জর্জরিত হয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে চলছে। যা আগামীর প্রজন্ম শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা সিদ্দিকা জানান ১৯৬৫ সালে ডুলাহাজারার সাবেক চেয়ারম্যান, পীরে কামেল মরহুম শাহ মাওলানা আব্দুর রশিদ সাহেব বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর আমলে সরকারীকরণ হয়। প্রথমদিকে ২০ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত মাটি টিনের বিদ্যালয় ঘরটি ৮০ দশকে ভেঙ্গে পড়ে। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে টিনের ছাউনী দিয়ে তিন কক্ষের সেমি পাকা ভবনটি নির্মিত হয়। ভবনের একটি কক্ষে অফিস কক্ষ, অন্য দু’টি কক্ষ ও বারান্দায় স্কুলের তিন শতাধিক ক্ষুদে শিক্ষার্থীর শ্রেণী কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া ফাটলে ভরপুর মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনটিতে ৬জন শিক্ষক ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস নিচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার জানানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের এসএমই কমিটির সভাপতি রমজান আলী জানান এক সময় নতুন ভবনের জন্য জায়গার সংকট ছিল। আমার নেতৃত্বে ২০১০ সালে ৬০ হাজার টাকার স্কুল লাগোয়া আরও ১৫ শতক জায়গা কিনেছি। তবুও কর্তৃপক্ষ নতুন ভবন তৈরীতে হাত দিচ্ছেনা। বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন জাহান রুমি, সাদিয়া আফরিন ক্ষোভের সাথে জানান প্রতিবছর পিএসসিতে বিদ্যালয়ের পাসের হার শতভাগ, শিক্ষার্থীর ভর্তির হারও সন্তোষজনক। তবুও সমস্যার আবর্তে আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি।

স্থানীয় সূত্র জানায় কক্সবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, শিক্ষাবিদ উপাধ্যক্ষ ছাদেক, অধ্যক্ষ ফরিদ, বিশিষ্ট ব্যাংকার জুবাইর, ড. সাজ্জাদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহবুব, অধ্যাপক ইউনূসদের মতো অজস্র খ্যাতনামা মানুষের প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম পাঠ ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টিতেই। কিন্তু স্কুলটিতে নেই খেলার মাঠ, সীমানা প্রাচীর, স্বাস্থ্য সম্মত পয়:নিষ্কাষন ব্যবস্থা, সর্বোপরি পর্যাপ্ত বিদ্যালয় ভবন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে সরকারের ঘোষিত ২০২১ ভিশন বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির যাবতীয় সমস্যা সমাধান করা জরুরী।

%d bloggers like this: